সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
খেলার শুরুটা ছিল পানসে । প্রথম কয়েক মিনিটে তেমন কিছু হয়নি। নবম মিনিটে ও দশম মিনিটে পরপর দুটি কর্নার পায় আর্জেন্টিনা। মেসির নেওয়া প্রথম কর্নারটি সুইজারল্যান্ডের একজনের মাথায় হালকা ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়। অন্য প্রান্ত থেকে আবার মেসির নিখুঁত কর্নারে অনেকটা লাফিয়ে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান মাক আলিস্তের। ২৬ বিশ্বকাপে লিভারপুরের মিডফিল্ডারের প্রথম গোল এটি ছয় বিশ্বকাপে মেসির দশম অ্যাসিস্ট এটি। অবিশ্বাস্যভাবে, গোলে সহায়তা করেছেন তিনি ভিন্ন ১০ ফুটবলারকে! ওই গোলের পর আবার উত্তেজনা মিইয়ে আসে কিছুটা। আর্জেন্টিনা খুব তাড়া দেখায়নি। সুইসরাও তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তবে ৩২তম মিনিটে খানিকটা সম্ভাবনা জাগায় ৭২ বছর পর কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠা দলটি। বাম পাশ থেকে দারুণ একটি থ্রু বল বাড়ান দান এনদোয়ে। লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে এগিয়ে বল নিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন বাগাইল এমবোলো। বিপদ বুঝে দ্রুত এগিয়ে এসে দারুণ চ্যালেঞ্জে দলকে উদ্ধার করেন গোলকিপার এমি মার্তিনেস। ৪৩তম মিনিটে বাম প্রান্তে বক্সের সামান্য বাইরে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পায় সুইজারল্যান্ড। কিন্তু বেশ বাইরে উড়িয়ে মেরে সুযোগটি হারান রেমো ফ্রয়লা।খেলায় প্রথমার্ধে ৫৮ শতাংস সময় বল ছিল সুইসদের নিয়ন্ত্রণে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে খেলা কিছুটা উন্মুক্ত হয়ে ওঠে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ দেখা যায়। ৪৯তম মিনিটে ফাবিয়ান রিয়েদেরের ফ্রি কিক সরাসরি হাতে জমান এমি মার্তিনেস। পরের মিনিটে মেসির দারুণ পাস থেকে নাউয়েল মলিনার দূরপাল্লার কোনাকুনি শট বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে টানা একটির পর একটি আক্রমণ করতে থাকে। থ্রু বল ধরে এমবোলো বক্সে ঢুকে পাস দেন এনদোয়েকে। তার শট দারুণভাবে ব্লক করে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। গোল হলেও অবশ্য লাভ হতো না, অফসাইডের সঙ্কেত দেন রেফারি। ৬০তম মিনিটে এমবোলোর হেড ডানদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন এমি মার্তিনেস। খুব বেশি জোর ছিল না সেই হেডে। ৬৫ মিনিটে এমবোলোর হেড বাঁদিকে ঝাপিয়ে রক্ষা করেন এমি মার্তিনেস। পরের মিনিটেই বক্সের বেশ বাইরে থেকে গ্রানিত জাকার জোরাল শট আবার ডাইভ দিয়ে ঠেকান আর্জেন্টাইন গোলকিপার।এর দুই মিনিট পরই সমতায় ফেরে তারা। রিকার্দো রদ্রিগেসের সঙ্গে দারুণভাবে ওয়ান-টু খেলে চমৎকার ফিনিশিংয়ে এমি মার্তিনেসের প্রসারিত পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে পাঠান এনদোয়ে। একটু পর নাটকীয় লাল কার্ড। ফাউলের জন্য শুরুতে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। তবে পরে ভিএআর রেফারির হস্তক্ষেপের পর মাঠের পাশের স্ক্রিনে রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্তে পৌঁছান, ইচ্ছে করেই ডাই দিয়েছেন এমবোলো। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয় ২৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে। শুরুতে তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি, পরে মাঠ ছাড়েন কান্নায় ভেঙে পড়ে। খেলায় নির্ধারিত সময় শেষের একটু আগে দুই দলই তিনটি করে পরিবর্তন আনে। ৮৯তম মিনিটে বদলি নামা নিকো হন্সালেস দারুণভাবে সীমানা থেকে বল রাখেন গোলমুখে, কিন্তু মাক আলিস্তেরের হেড একটু বাইরে দিয়ে চলে যায়। যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে মেসির শট চলে যায় বাইরে দিয়ে। এরপর যোগ করা সময়ের ৯ মিনিটের শেষ দিকে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের অ্যাক্রোবেটিক শট ফুল লেংথ ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন সুইস গোলকিপার গ্রেগর কোবে। অতিরিক্ত সময়ে থিয়াগো আলমাদা নামার পর আর্জেন্টিনার আক্রমণে ধার বাড়ে একটু। ৯৩তম মিনিটে আলভারেসের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে ভেতরে ঢুকে শট নেন তিনি। সরাসরি বল যায় সুইস গোলকিপারের কাছে। একটু পর আলমাদারই জোরাল শট সাইড নেটে লাগে।সুইসরা খানিকটা পাল্টা আক্রমণে উঠে দূরপাল্লার গোটা দুয়েক শট নেয়। বাকি সময় রক্ষণ সামলাতেই ছিল তাদের মনোযোগ। এ খানিক পরেই শেষ বাঁশি বেজে ওঠে ।




