ঈদযাত্রা নিরাপদে বিআরটিএতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ-অনিয়ম রুখতে ৫০ ম্যাজিস্ট্রেট
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন তাদের সকলকে ট্রেনিং করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভুল ত্রুটি বিবেচনা করে যেন মামলা দায়ের করা হয়।
বিশেষ প্রতিনিধি : আসন্ন ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে আগামী ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
সোমবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদ যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বিআরটিএ এর ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন তাদের সকলকে ট্রেনিং করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভুল ত্রুটি বিবেচনা করে যেন মামলা দায়ের করা হয়। ঢালাও মামলা দায়ের করলে বাস মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মামলা দেয়ার আগে যেন এসব বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়।
সভায় অন্যদের মধ্যে রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক-সহ পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতা এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং অনিয়ম প্রতিরোধে রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়াসহ দেশের সব বাস টার্মিনালে বিশেষ ভিজিল্যান্স ও মনিটরিং টিম গঠন করার কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি জানান, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদ পরবর্তী তিন দিন প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রোভার স্কাউট সদস্যদেরও নিয়োজিত রাখা হবে।
ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিআরটিসি ঢাকা মহানগরী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে বিশেষ ঈদ সার্ভিস পরিচালনা করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত স্ট্যান্ডবাই বাস প্রস্তুত রাখা হবে। এছাড়া পিক আওয়ারে যাত্রীচাপ বিবেচনায় মেট্রোরেলের হেডওয়ে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কে কনভেক্স ব্লাইন্ড স্পট মিরর স্থাপন, ব্ল্যাক স্পটসমূহে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চালকদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ১০টি বিশেষ মেডিকেল টিম পেশাজীবী চালকদের ডোপ টেস্ট পরিচালনা করবে।
সভায় শেখ রবিউল আলম বলেন, “ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না।”
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর অধিক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনা বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ তদারককারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
মন্ত্রী বলেন, “সড়ক ব্যবস্থাপনা শুধু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একার দায়িত্ব নয়। হাইওয়ে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, বিআরটিএ, এলজিআরডিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। দায় নিতে আমাদের সমস্যা নেই কিন্তু সবকিছু যে আমার একার নিয়ন্ত্রণে নয়, সেটাও বুঝতে হবে।”
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩৮৪ জন, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ঈদুল ফিতরের ১১ দিনে সারা দেশে ১৭০ জন নিহত হন। এর মধ্যে হাইওয়েতে নিহত হন ৪৩ জন।
“মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ, ব্যাটারিচালিত যানবাহন এবং ছোট রাস্তা থেকে সরাসরি ৯০ ডিগ্রিতে মহাসড়কে ওঠা দুর্ঘটনার বড় কারণ। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এসব সংযোগপথকে ‘লেফট লেন’ পদ্ধতিতে আনার কাজ শুরু হয়েছে।”




