• বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল ২০২৬

নতুন বলয়ে পহেলা বৈশাখ


প্রকাশিত: ১০:১৫ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২৬ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৩০ বার

বাঙ্গালীর আত্মপরিচয় মিশে আছে পহেলা বৈশাখে। নতুন প্রজন্ম শিকড়ের সঙ্গে খোঁজে পহেলা বৈশাখ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলে আসছে

লাবণ্য চৌধুরী : পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালী জাতির একটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নাম। বাঙ্গালীর আত্মপরিচয় মিশে আছে পহেলা বৈশাখে। নতুন প্রজন্ম শিকড়ের সঙ্গে খোঁজে পহেলা বৈশাখ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলে আসছে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সামাজিক আয়োজন এসো হে বৈশাখ এসো এসো..।

মোঘল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে কৃষি খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ফসলি সন হিসেবে প্রথমে এই পঞ্জিকা প্রবর্তন করেন। পরে যা বঙ্গাব্দ বা বাংলাবর্ষ নামে পরিচিত হয়। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা। মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে শুরু হওয়া বঙ্গাব্দ আজ শুধু বর্ষপঞ্জি নয়, বরং অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জীবনধারার প্রতীক। ইউনেস্কো স্বীকৃত শোভাযাত্রা, নতুন প্রজন্মের ভিন্ন ধারা এবং ঐতিহ্য-আধুনিকতার মেলবন্ধনে বাংলা নববর্ষ এখন এক বহুমাত্রিক উৎসব। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই উৎসবের রঙ ছড়িয়ে দেয় এই দিনটি।

বাংলা একাডেমির পরিচালক সায়মন জাকারিয়া জানান, পহেলা বৈশাখে ইউনেস্কো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। যার প্রথম আয়োজন ১৯৮৯ সালে আনন্দ শোভাযাত্রা নামে। ১৯৯০ সাল থেকে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ফিরে যায় প্রথম নাম আনন্দ শোভাযাত্রায়। আর এবার পালিত হচ্ছে বৈশাখী শোভাযাত্রা নামে।

পান্তা-ইলিশ বেশ ঘটা করেই দিনের অন্যতম জনপ্রিয় খাবারে পরিণত হলেও এটি নতুন রেওয়াজ। আলোচনা-সমালোচনার মুখে সম্প্রতি এই রেওয়াজ থেকে বের হয়ে আসে নতুন প্রজন্ম।দিবসটিকে ঘিরে পুরোনো বছরের হিসাব বন্ধ করে নতুন বছরের নতুন খাতা খোলার রেওয়াজ, যা মূলত ব্যবসায়ীদের মাঝেই প্রচলিত।

গ্রাম কি শহর বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলার প্রচলন বহু পুরনো। মেলায় নাগরদোলা, পুতুল নাচ, সার্কাস ও বিভিন্ন মৃৎশিল্প ও লোকজ খেলনা ছাড়াও মাটির পুতুল, কুটির শিল্প, নকশি কাঁথা ও মুড়ি-মুরকি, সন্দেশসহ নানা রকম পিঠাপুলির সমাহার থাকে।এছাড়াও নৌকাবাইচ, বাউল গানের পাশাপাশি দিনজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার রেওয়াজও প্রচলিত। পহেলা বৈশাখকে শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সামাজিক আয়োজন মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।

নববর্ষ অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ

আসন্ন পয়লা বৈশাখে নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানা যায়। এতে জানানো হয়, নববর্ষের শোভাযাত্রায় মুখোশ পরে অংশ নেওয়া যাবে না।

তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, জাতীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ–১৪৩৩ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলা হয়, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশব্যাপী আয়োজিত সকল অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবশ্যিকভাবে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কোনো জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে। বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

এতে বলা হয়, তবে মুখোশ হাতে বহন করা যাবে, প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না যাতে মুখ ঢেকে থাকে। অংশগ্রহণকারীদের শুরুতেই মিছিলে যোগ দিতে হবে; মিছিল শুরুর পর মাঝপথে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস উড়ানো, আতশবাজি ফুটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা কার রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে জানিয়ে তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আর্চওয়ে থাকবে। ইভ টিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে দেশব্যাপী সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে। সকল বড় অনুষ্ঠানস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এবং মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। রমনা লেকে যেকোনো দুর্ঘটনা রোধে ডুবুরি দল নিয়োজিত থাকবে।

পহেলা বৈশাখের দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (টিএসসি) মেট্রোরেল স্টেশন নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানানো হয় তথ্যবিবরণীতে। এ ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার ছাড়া কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দিয়াশলাই বা লাইটার বহন না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া শিশুদের সাথে তাদের পরিচয় সংবলিত নোট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।