সরকারকে চ্যালেঞ্জ করছে জঙ্গল সলিমপুরের ইয়াসিন-র্যাবের ক্যাম্প গুড়িয়েছে
আগামী ৩১ মে জঙ্গল ছলিমপুর পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের। তার আগেই যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালাল সন্ত্রাসীরা।র্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, “ইয়াছিন গ্রুপ প্রায় ১৮-২০ বছর ধরে এই এলাকায় একটা নিজস্ব রাষ্ট্র তৈরি করেছে।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের জঙ্গল ছলিমপুর ও আলী নগরে ব্যাপক অভিযানের পর ‘নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার’ দাবি করে প্রশাসনের স্বস্তি প্রকাশের দেড় মাসের মধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা করে নিজেদের ‘অস্তিত্বের’ জানান দিয়েছে ‘সন্ত্রাসীরা’।রোববার রাতে মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ত্রিমুখী হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চালানোর পাশাপাশি নির্মাণাধীণ একটি ক্যাম্প তারা ভেঙে দিয়েছে।র্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান এ ঘটনার জন্য জঙ্গল ছলিমপুরের ‘অধরা নিয়ন্ত্রক’ ইয়াছিন বাহিনীকে দায়ী করেছেন।গভীর রাতে এক বার্তায় তিনি জানান, রোববার রাত ১টার দিকে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ‘সন্ত্রাসী ইয়াছিন বাহিনী’ হামলা চালায়। এরপর দুই ঘণ্টা ধরে সেখানে গোলাগুলি হয়।
সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বায়েজিদ লিঙ্ক রোড থেকে যাওয়ার পথে জঙ্গল ছলিমপুরের খেজুর তলা, পাথরি ঘোনা ও আলী নগর চৌরাস্তা মোড় এলাকায় চারটি স্থানে এক্সক্যাভেপর দিয়ে রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছে। সে কারণে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের কোনো গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। কয়েক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
সেখানকার দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় লোকজন ও ক্যাম্প নির্মাণের কাজে সম্পৃক্ত শ্রমিকরা জানান, ট্রাকে করে এক্সক্যাভেটর নিয়ে আসে সন্ত্রাসীরা পেছনে মোটর সাইকেলে করে তাদের লোকজন আসে। তারাই আলী নগর স্কুলের পূর্ব, পশ্চিম পাশ এবং দক্ষিণ পাশ থেকে হামলা শুরু করে। ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গুলিও ছোড়ে তারা।
গত ৯ মার্চ প্রশাসনের ব্যাপক অভিযানের পর আলীনগর উচ্চ বিদ্যা্লয়ে পুলিশ, র্যাব ও এপিবিএন এর অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। রোববার রাতে বিভিন্ন দিক থেকে ওই ক্যাম্পে হামলার এক পর্যায়ে পূর্ব দিক থেকে একটি দল এসে নির্মাণাধীন ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা লাঠিসোঁটার পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করেছে বলে নির্মাণ শ্রমিকদের ভাষ্য।
নির্মাণাধীন ক্যাম্পের এক রাজমিস্ত্রি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা খাওয়া দাওয়া করে রাত ১টার দিকে নির্মাণ শেডে ঘুমাতে যাই। এসময় হঠাৎ গুলি শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি ক্যাম্পের সামনে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যরা আলী নগর স্কুলের দিকে দৌড়ে যাচ্ছে। সেদিক থেকে গুলির শব্দ বেশি শোনা যাচ্ছিল।“এসময় পূর্ব দিক থেকে একটি ট্রাক আসে, তার পেছনে কয়েকশ লোক লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে দৌঁড়ে আসে। তারা ক্যাম্পে হামলা চালায়।”আরেক রাজমিস্ত্রি বলেন, পূর্ব দিক থেকে যারা এসেছিল, তাদের তিনি গুলি ছুঁড়তে দেখেছেন।
“এসময় তারা পাথর ও গুলি ছুড়ে লাইট পোস্টের লাইটগুলো ভেঙে দিতে শুরু করে। আমরা তিনজন ভয়ে নালায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। আর চারজন দৌড়ে গিয়ে নির্মাণাধীন ক্যাম্পের বিপরীতে আমাদের থাকার ঘরে ঢুকে যায়। সন্ত্রাসীরা সেখানে গিয়ে আমাদের এক শ্রমিককে ব্যাপক মারধর করে এবং টাকা পয়সা নিয়ে যায়।” ঘটনাস্থলে র্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, “আলী নগরের সন্ত্রাসী ইয়াছিন গ্রুপের দুই-তিনশ সন্ত্রাসী এই হামলা চালিয়েছে।
দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, রামদার পাশাপাশি একে-৪৭, চায়নিজ রাইফেল এ ধরনের অস্ত্র নিয়ে তারা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা করে।”এরপর দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রচুর পরিমাণে গোলাগুলি হয়েছে। তবে কেউ আহত হয়নি। আমাদের বেশিরভাগ টিয়ার শেল ও শটগানের বুলেট খরচ হয়েছে। লাস্ট মোমেন্টে তারা যখন একে-৪৭ দিয়ে ফায়ার করেছিল, তখন আমাদের অল্প কিছু রাইফেল দিয়ে ফায়ার করেছে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।”
র্যাব-৭ অধিনায়কের দাবি, এক্সক্যাভেটর দিয়ে স্কুলের পেছনের সীমানা প্রাচীরের দুই জায়গায় ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেখান থেকে গুলি করলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।“নতুন যে ক্যাম্প বানানো হচ্ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছিল। সেই ক্যাম্পটাতে তারা ভাঙচুর করেছে এবং প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি করেছে।”খবর পাওয়ার পরে র্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করে জানিয়ে র্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, “আসার পরে দেখলাম যে রাস্তায় বেশ কিছু কালভার্টের সামনে বড় বড় ডিচ করে রেখেছে। যাতে আমরা যাতে গাড়ি নিয়ে আসতে না পারি।
“পরে গাড়ি রেখে আমরা হেঁটে চলে এসেছি। যখন এসেছি ততক্ষণে তারা বেশিরভাগই পালিয়েছে। কিছু সন্দেভাজনকে আমরা পেয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদ করছি। সম্পৃক্ততা পেলে গ্রেপ্তার করা হবে। না হলে ছেড়ে দেব।”চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, “আলীনগর এলাকায় আমাদের নতুন যে ক্যাম্পটা করা হচ্ছিল ওটার প্রতি তাদের বিশেষ নজর ছিল। সেটা তারা ভাঙার জন্য এক্সক্যাভেটর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে এসেছিল। কিছু অংশ তারা ভেঙেও ফেলেছে।”
আলী নগর স্কুলের ক্যাম্পে পুলিশ, র্যাব, আরআরএফ ও এপিবিএনসহ মোট ১৫০ জন সদস্য ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সদস্যরা যারা আলী নগর স্কুলে ছিল, তারা যাতে প্রটেক্ট করতে না পারে, ওটা যাতে তারা নির্বিঘ্নে করতে পারে, সেজন্য এখানে এসে গোলাগুলি করে।“আমাদের যারা সদস্য ছিল তারা শক্তভাবে প্রতিরোধ করেছে। পুলিশেরই প্রায় ১০৫ রাউন্ড গুলি ছোড়া লাগছে। সাথে সাথে আমরাও মুভ করেছিলাম। শক্ত প্রতিরোধের কারণে তারা দ্রুত এখান থেকে সরে যায়। পাহাড়ের দিকে চলে যায়। আমরা এসে ওদেরকে পাইনি। ওদের রেখে যাওয়া এক্সক্যাভেটর, ভেকু মেশিন, ট্রাক, দুটি মোটর সাইকেল আমরা জব্দ করেছি।”
চলতি বছর ১৯ জানুয়ারি র্যাবের একটি দল কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযানে যায়। সেখানে ‘মাইকে ঘোষণা’ দিয়ে র্যাব সদস্যদের ঘিরে তিনজনকে আটকে ফেলে স্থানীয়রা। তাদের পিটুনিতে নিহত হন র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।এরপর গত ৯ মার্চ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তিন হাজার ১৮৩ জন সদস্যকে নিয়ে সেখানে অভিযানে যায় স্থানীয় প্রশাসন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৪৮৭, বিজিবি ১২২ জন, র্যাবের ৩৭১ জন সদস্য ছিলেন। তিনটি হেলিকপন্টার, ১৫টি এপিসি, ডগ স্কোয়াড, ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয় অভিযানে।
অভিযানে বেশ কয়েকজনকে ধরা হলেও ইয়াছিন ছিলেন অধরা।অভিযানের পরপরই সেখানে দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করার তথ্য দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি ও র্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেছিলেন, “সেখানে পুলিশ ও র্যাব মিলে ৩০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। সেখানে আমাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আশাকরি পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব।”
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যা বলছে-
প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা দাবির দেড় মাস পর কীভাবে এ ধরনের পরিকল্পিত হামলা চালানো সম্ভব হল–এ প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, জঙ্গল ছলিমপুর দীর্ঘদিন সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে এবং তারা এখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করেছে।“এটা বিরাট একটা সাম্রাজ্য। পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আসার কারণে এ সাম্রাজ্যে তাদের ইন্টারেস্টে ভাটা পড়েছে। তারা মুখিয়ে ছিল যে কোনো সময়ে এটার ব্যাপারে তারা কাউন্টার কোনো কিছু করবে। দীর্ঘদিন যেহেতু তাদের সাম্রাজ্য ছিল, এখানে একটু সময় লাগবে।”একই প্রশ্নের উত্তরে র্যাব-৭ অধিনায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, “পাহাড়ের ভেতর দিয়ে এক্সক্যাভেটর আনা হয়েছে। রাস্তা কাটাসহ সব কাজ খুব কম সময়ের মধ্যে করেছে। এক ঘণ্টার মধ্যে কাজ শেষ করে হামলা করেছে। তারা চর্তুদিক থেকে হামলা করেছে। ইট পাথরও মেরেছে। সামনে ককটেল মেরেছে।”
তার দাবি, পাহাড়ের উপরে নির্মিত কিছু টিনের ঘর থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে। এক ঘণ্টার মধ্যে বাকি প্রস্তুতি সেরে ফেলে তারা হামলা করেছে। আর হামলা চলাকালে এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাংচুর করেছে।হামলার মোটিভ কী জানতে চাইলে র্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, “ইয়াছিন গ্রুপ প্রায় ১৮-২০ বছর ধরে এই এলাকায় একটা নিজস্ব রাষ্ট্র তৈরি করেছে। সেখানে আমরা অভিযান পরিচালনা করে তাকে উৎখাত করেছি। তারা স্বার্থের জন্য, সরকারকে বিব্রত করার জন্য সবকিছুই করছে। সে (ইয়াছিন) যেহেতু ক্রিমিনাল, তার সব খারাপ ইস্যু নিয়েই সে এই হামলা করেছে।” এদিকে আগামী ৩১ মে জঙ্গল ছলিমপুর পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের। তার আগেই যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালাল সন্ত্রাসীরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে র্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, “এখানে নিরাপত্তার কোনো সমস্যা হবে না। কালকে করেছে সাডেনলি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় আসবেন এটা আমাদের কনসার্নে আছে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব নিরাপত্তা দেওয়ার।” স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনও ছলিমপুর ও আলীনগর এলাকার ‘অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ’ রয়ে গেছে দখলদারদের হাতে। ফলে প্রশাসন যতই বলুক ছলিমপুরে সন্ত্রাসীরা আর নেই, তবু ভয় ও উৎকণ্ঠা তাদের পিছু ছাড়ছে না।তাদের ভাষ্য ছিল, অভিযানের পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যাদের ধরেছে, তারা ‘উল্লেখযোগ্য কেউ না’; আসল সন্ত্রাসীরা অধরা রয়ে গেছে।এদিকে সোমবার র্যাব-৭ অধিনায়ক হাফিজুর রহমানের কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল কেন ধরা যাচ্ছে না ইয়াছিনকে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান উত্তরে বলেন, “এটা অনেক বড় একটা পাহাড়ি এলাকা। মূল সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের কমিউনিকেশন। সবসময় আমরা একটা জিনিসের প্রবলেম ফেইস করতেছি। আমরা যেদিক দিয়েই আসি, কোনো দিক দিয়ে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পারি না। গাড়ি এলেও খুব স্লো আসে। দ্রুত গতিতে এসে পৌঁছাতে পারি না। সে কারণে আমরা ঢোকার সাথে সাথে সে আরেক দিক দিয়ে জঙ্গলের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে।
“পাহাড়ের ভেতরে একজন মানুষকে খুঁজে বের করা খুব ডিফিকাল্ট। যদি রাস্তাঘাটগুলো ঠিক হয়ে যায়, তাহলে এই এলাকায় আর তার লুকিয়ে থাকা সম্ভব হবে না।”তিনি বলেন, “গাড়ির রাস্তা যদি ঠিক থাকে, যোগাযোগ ব্যবস্থাটা যদি ঠিক থাকে, বায়েজিদ লিংক রোড থেকে এ পর্যন্ত যদি পাকা রাস্তা পাই, ৫ মিনিটে পৌঁছে যাব। তখন সে পালানোর সুযোগ পাবে না।”
কে এই জঙ্গল সলিমপুরের ত্রাস ইয়াছিন-
জঙ্গল সলিমপুরের ত্রাস ইয়াছিন ২০০২-০৩ সাল থেকে আলী নগরে বসতি শুরু হয়। জঙ্গল ছলিমপুরের পুরো ছিন্নমূল এলাকাকে ১১টি ‘সমাজে’ ভাগ করা হয় ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য। আর আলীনগর এলাকাটি ‘আলী নগর বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে পরিচালিত হলেও তার পুরা নিয়ন্ত্রণ থাকে ইয়াছিনের হাতে।মূলত এই সমিতি দেখাশোনা করেন ইয়াছিনের ছোট ভাই ওমর ফারুক ও ভাগ্নে আনোয়ার। এছাড়া রয়েছেন নুরুল হক ভাণ্ডারী, মোর্শেদ, কালা ফারুক, মেহেদী হাসান নামে আরও কয়েকজন। যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর তারাও সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর জানায়, একসময় জঙ্গল ছলিমপুরের ওই অংশে এসে বসতি স্থাপন করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষ। তবে বর্তমানে সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি উচ্চবিত্তরাও জায়গা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে আছে সরকারি কর্মকর্তারাও। একসময় আমিন টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ইয়াসিন। ছিন্নমূল এলাকার নেতা আলী আক্কাসের সঙ্গে ছলিমপুরে আসেন তিনি। এরপর আক্কাস ছিন্নমূলের নিয়ন্ত্রণ নিলে ইয়াসিন নেন আলীনগরের নিয়ন্ত্রণ।
ছলিমপুরের পাহাড়ে এই অবৈধ বসতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২০০৪ সালে একাধিক পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ২০১০ সালে স্থানীয় লাল বাদশা ও আক্কাসের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই বছরের ২৩ মে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ আক্কাস নিহত হন। এরপর ছিন্নমূল এলাকার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ‘সমাজের’ বিভিন্ন জনের কাছে। তবে আলীনগরে নিজের নিয়ন্ত্রণ আরো পোক্ত করেন ইয়াছিন।স্থানীয়দের দাবি, এক সময় শুধু আলী নগর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ছিল ইয়াছিনের হাতে। ২০২৪ সালের পট পরিবর্তনের পর জঙ্গল ছলিমপুরের নিয়ন্ত্রণও তার হাতে চলে যায়। এ এলাকায় কে আসবে যাবে–সবকিছুই ইয়াছিনের ওপর নির্ভর করে।




