এনআইডির তথ্যচোর সিআইডির জালে
গত বছরের ৯ অক্টোবর একটি ফেইসবুক আইডি সিআইডির নজরে আসে। ওই আইডি থেকে নাগরিকদের এনআইডির পূর্ণাঙ্গ ডেটা, এসএমএস তালিকা, বিভিন্ন এমএফএস অ্যাকাউন্টের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল
বিশেষ প্রতিনিধি : নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও এমএফএস অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করে বিক্রির অভিযোগে ওয়েব ডেভেলপার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। প্রায় সাত মাস ধরে তদন্তের পর তাদের গ্রেপ্তারের কথা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে সিআইডি।গ্রেপ্তারদের একজন মো. আরমান হোসেন (২২) একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়েন। অ্যাপ ডেভেলপারও তিনি। বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে।আরমানের সঙ্গে আরও দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা বললেও তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ৯ অক্টোবর একটি ফেইসবুক আইডি সিআইডির নজরে আসে। ওই আইডি থেকে নাগরিকদের এনআইডির পূর্ণাঙ্গ ডেটা, এসএমএস তালিকা, বিভিন্ন এমএফএস অ্যাকাউন্টের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল।
“পরে বিষয়টি নিয়ে সিআইডির অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ওই বছরের ১৩ অক্টোবর রাতে লক্ষ্মীপুর থেকে সিয়াম হাওলাদার (২৩) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা স্মার্টফোনে ‘সব এখানে’ নামক একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির কথা স্বীকার করেন।”
সিয়ামকে গ্রেপ্তারের পরের দিন সিআইডির এসআই মেহেদী হাসান পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। পরে সিয়ামের দেওয়া তথ্যে ওই বছরের ২৮ অক্টোবর খুলনার কয়রা থেকে আলআমিন (২৩) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আল আমিন আদালতে জবানবন্দি দিয়ে বলেন, তিনি শুধু বিপণনের কাজ দেখতেন। পুরো সিস্টেম ও অ্যাপটি তৈরি করেন এক দক্ষ প্রোগ্রামার।”
পরবর্তীতে আরো তদন্তের একপর্যায়ে মঙ্গলবার ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদি এলাকা থেকে ওয়েব ডেভেলপার আরমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।সিআইডি বলছে, আরমান প্রোগ্রামিং আর ওয়েব ডেভেলপের কাজে খুব দক্ষ। এ দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তিনি আল আমিনের নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েকটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন।“ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের গোপন সংবেদনশীল যে তথ্য বিক্রি করা হয়, সেগুলো জাতীয় গোপন ডেটাবেজ থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ কাজ করে।”




