সড়ক অস্বাভাবিক উঁচু করে নির্মাণে ভোগান্তি-মিরপুর-১১ কাঁচাবাজার এলাকাবাসীর বিক্ষোভ
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিঁড়িলাইন থেকে শুরু করে সি ব্লকের ৪ নম্বর লাইন পর্যন্ত সড়কটি অস্বাভাবিকভাবে উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে আশপাশের বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও চলাচলের পথ নিচু হয়ে পড়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর মিরপুর-১১ কাঁচাবাজার এলাকার সি ব্লকের ৪ নম্বর লাই লেনের সড়ক অতিরিক্ত উঁচু করে নির্মাণ করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই নির্মাণকাজের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। এর প্রতিবাদে সোমবার ১১ মে ২০২৬ স্থানীয় ব্যবসায়ী, মাছ বাজারের বিক্রেতা ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিঁড়িলাইন থেকে শুরু করে সি ব্লকের ৪ নম্বর লাইন পর্যন্ত সড়কটি অস্বাভাবিকভাবে উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে আশপাশের বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও চলাচলের পথ নিচু হয়ে পড়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন মাছ বাজারের ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মিছিল পুর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ (ন্যাপ বাংলাদেশ) এর মহাসচিব নেয়াজ আহমদ খান । তিনি বলেন, “সড়ক উন্নয়নের নামে যদি মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে, তাহলে সেই উন্নয়ন সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসে না। এই সড়ক অতিরিক্ত উঁচু করায় প্রতিদিন শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও ব্যবসায়ীরা চরম কষ্টে চলাচল করছেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।” ন্যাপ নেতা তার বক্তব্যে হাইকোর্টে দীর্ঘদিন যাবত ঝুলে থাকা নিউ সোসাইটির রিট মামলাটি দ্রুত নিস্পত্তির করে মার্কেটের গরীব দোকানদার ও হকারদের পূনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও কোনো পরিকল্পিত ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাছ বাজারে ক্রেতাদের যাতায়াতে সমস্যা হওয়ায় ব্যবসায়ও প্রভাব পড়ছে। অনেকে বাজারে আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন, ফলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়কটির উচ্চতা সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তারা আশা করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল বাতেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উন্নয়নের কাজ অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেই উন্নয়ন যেন মানুষের দুর্ভোগের কারণ না হয়। এলাকাবাসী দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান। গোস্ত ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুস্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সোনা মিয়া, জালাল খান, বিহারি নেতা আবদুল মজিদ, মাছ ব্যনসায়ী আনোয়ার হোসেন প্রমূখ। মিছিল কর্মসূচির শুরুতেই ২ জন বাড়িওয়ালা গোলাযোগ সৃস্টি করে কর্মসূচি পন্ড করার চেস্টা করলে ন্যাপ নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।




