• সোমবার , ২৫ মে ২০২৬

পল্লবীর নৃশংস শিশুহত্যার চার্জসিট-বিচার শুরু ১জুন


প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ২৪ মে ২৬ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৫৬ বার

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন রেখে আদেশ দেওয়ার পর বিকেলে দুজনকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়-এই মামলার বিচারকাজ পাঁচ–সাত দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

 

 

কোর্ট রিপোর্টার : রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংসভাবে আট বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আদালত। আগামী ১ জুন এ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরুর দিন রাখা হয়েছে।ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আজ রোববার (২৪ মে) বিকেলে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।

এর আগে দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য বদলির আদেশ দেন। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে যায়।১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবীর একটি ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। পরদিন গত বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।

নৃশংস এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষসহ নানা দল ও সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।মামলার দু্ই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আজ আদালত প্রাঙ্গণে এনে হাজতখানায় রাখা হয়। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন রেখে আদেশ দেওয়ার পর বিকেলে দুজনকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়।

৫/৭ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এই মামলার বিচারকাজ পাঁচ–সাত দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে যা যা করা দরকার, সরকার তা–ই করবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিকে সাত ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এক দিনের মধ্যে। সেই ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সহযোগী হিসেবে তাঁর স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার খুব দ্রুততার সঙ্গে আদালতের অনুমতি নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করিয়েছে। সেই পরীক্ষায় তিন দিন সময় লাগে। তিন দিনের মধ্যে সেটি শেষ হয়েছে। প্রতিবেদন গতকাল শনিবার বিকেলে জমা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চলে এসেছে। এগুলো সব একসঙ্গে করে অভিযোগপত্র প্রণয়নের কাজ শনিবার রাতের মধ্যে শেষ হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য বিশেষ পিপি (সরকারি কৌঁসুলি) নিয়োগ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সবকিছু বিবেচনায় আমরা আশা করছি যে খুব সম্ভবত পাঁচ–সাত দিনের মধ্যে এই বিচারকাজ শেষ হবে।’