• বুধবার , ২২ জুলাই ২০২৬

ধর্ষণকান্ডে ঢাকার পর চট্টগ্রাম উত্তাল-মব পাঁয়তারা রুখেছে পুলিশ


প্রকাশিত: ৪:১৯ এএম, ২২ মে ২৬ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১০১ বার

 

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : ধর্ষণকান্ডে ঢাকার পর চট্টগ্রাম উত্তাল। বিক্ষুদ্ধ জনতা শিশু ‘ধর্ষণের’ সন্দেহভাজনকে বাকলিয়ায় পুলিশের হাত কেড়ে নিতে না পেরে গাড়িতে আগুন দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাকলিয়া থানার ওসি মো. সোলায়মান বলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। এর আগে স্থানীয়দের জনরোষের মুখে বিকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করেও আটক ব্যক্তিকে নিয়ে এলাকা ছাড়তে পারেনি পুলিশ। পরে জনবল বাড়িয়ে কঠোর নিরাপত্তায় ওই সন্দেহভাজনকে নিয়ে বাকলিয়া এলাকা ছাড়তে পারে পুলিশ।ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ওসি বলেন, বিকালে ধর্ষণের অভিযোগ শুনে পুলিশ গিয়ে সন্দেহভাজনকে আটক করে।

এর আগে চট্টগ্রাম নগরীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর আটক সন্দেহভাজনকে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার চেষ্টায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে থেমে থেমে চলা এ সংঘর্ষের কারণে শাহ আমানত সেতু থেকে বহদ্দারহাট সড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।বিকাল থেকে চলা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে রাত ১১টার কিছু পরে সাড়ে তিন বছরের ওই শিশু ‘ধর্ষণের’ অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিকে নিয়ে কড়া প্রহরায় বাকলিয়া এলাকা ছেড়েছে পুলিশ।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে দুই থেকে তিনশ লোক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছিল। তারা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চায়। তারা অভিযুক্তকে মেরে ফেলতে চায়, দেশেতো আইন আছে।“ফেইসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীরা জড়ো হয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। সিটিজেন ফোরামের সহায়তায় আমরা সেখান থেকে বের হয়ে আসামিকে হেফাজতে নিয়েছি।”

নগরীর বাকলিয়া এলাকায় সাড়ে তিন বছরের একটি শিশু ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে এদিন বিকালের পর থেকে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়িকে ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের দিকে ইট পাটকেল ছুঁড়ে মারে। রাতে এ ঘটনা আরও ছড়ালে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়রা গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে।

রাতে দফায় দফায় সংঘর্ষের এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টা থেকে স্থানীয় লোকজন বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সেতু সড়কে চলে আসে। বিভিন্ন অলিগলি থেকে পুলিশের ওপর হামলা শুরু করে। রাত ১১টার দিকে পুলিশ সদস্যদের বহনকারী একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার সেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোঁড়ে। সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।পরে আরও অতিরিক্ত পুলিশ এসে যোগ দিলে রাত ১১টার দিকে ওই সন্দেহভাজনকে নিয়ে এলাকা ছাড়তে সক্ষম হয় পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আবু জাফর সড়কে এক যুবক প্রতিবেশী সাড়ে তিন বছর বয়সি এক শিশুকে ফুসলিয়ে নিয়ে ‘ধর্ষণ’ করেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন এলাকাটি অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সন্দেহভাজনকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে।এর আগে রাত ৮টার দিকে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের সরিয়ে আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এদিকে সেই শিশুকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে তার চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি রাতে নির্যাতিত শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে যান। শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।