• বুধবার , ২০ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর ছবি নাই কেন! ৪৫মি. সড়ক মন্ত্রী অবরুদ্ধ


প্রকাশিত: ৮:১৫ পিএম, ১৯ মে ২৬ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৫৬ বার

 

একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকেরা পাল্টাপাল্টি মিছিল করতে থাকলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ থাকার পর মন্ত্রী সভামঞ্চে না গিয়ে ফেরি পার হয়ে ওপারে চরগরবদী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেন

বাউফল প্রতিনিধি : অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকার প্রতিবাদে সেতুমন্ত্রীকে অবরোধ করে রাখেন বিএনপির স্থানীয় নেতা–কর্মীরা। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে আজ মঙ্গলবার বেলা একটা থেকে পৌনে দুইটা পর্যন্ত উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মন্ত্রী সভাস্থলে না গিয়ে বগা ফেরিঘাট এলাকা ত্যাগ করেন। ফেরি পার হয়ে চরগরবদি এলাকায় একটি মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেন।

এ সম্পর্কে উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম–আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (ঝুরন) দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে বলেন, ‘ক্ষমতায় বিএনপি সরকার। আর সরকার প্রধান তারেক জিয়া। সেখানে ব্যানারে তারেক জিয়ার নাম থাকবে না, সেই অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী যেতে পারে না। এ কারণে সাধারণ কর্মী সমর্থকদের প্রতিবাদ ও অবরোধের মুখে সভা মঞ্চে সেতু মন্ত্রী যেতে পারেননি।

সরেজমিনে জানা গেছে,পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকার লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত বগা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে এসে বিএনপির সমর্থকদের অবরোধের মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সড়কের মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিট তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন।

এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি মিছিলে ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সড়কের মধ্যে মিছিলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শফিকুল ইসলামসহ মন্ত্রীর সফর সঙ্গীরা। একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকেরা পাল্টাপাল্টি মিছিল করতে থাকলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ থাকার পর মন্ত্রী সভামঞ্চে না গিয়ে ফেরি পার হয়ে ওপারে চরগরবদী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেন।

বিএনপি কর্মী সমর্থকরা দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে জানান, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম (মাসুদ) মন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য বগা ফেরিঘাট এলাকায় একটি সভামঞ্চ করেন। ওই সভামঞ্চের ব্যানারে কারও কোনো ছবি ছিল না। প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ছিল মন্ত্রীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে নাম ছিল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর। সভাপতি হিসেবে নাম ছিল পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের।

দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সংসদ সদস্য শফিকুল মন্ত্রীকে এগিয়ে আনার জন্য নদীর পশ্চিম তীরে অপেক্ষা করতে থাকেন। বেলা একটার দিকে ফেরিতে মন্ত্রীকে নিয়ে বগা ফেরিঘাট এলাকার সভামঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন। ওই সময় বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা সভামঞ্চের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকার প্রতিবাদে মন্ত্রীকে ঘিরে মিছিল করতে থাকেন।

সড়কের মধ্যে মিছিলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শফিকুল ইসলামসহ মন্ত্রীর সফর সঙ্গীরা। একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকেরা পাল্টাপাল্টি মিছিল করতে থাকলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ থাকার পর মন্ত্রী সভামঞ্চে না গিয়ে ফেরি পার হয়ে ওপারে চরগরবদী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেন।

আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও শফিকুল ইসলাম। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি প্রমুখ।

মন্ত্রী রবিউল আলম বক্তব্যে জানান, বগা সেতু নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর লেখা বাউফলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিরা বিনতে মাহামুদের চিঠি এবং টেলিভিশনে শিশুটির প্রচারিত সাক্ষাৎকার প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও স্থানীয় সংসদ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করে বগা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।রবিউল আলম বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই বগা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শিশু আদিরার হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন মন্ত্রী।