মেসি খেলেনি আর্জেন্টিনা হেরেছে
আর্জেন্টিনার খেলা দেখে এই হারের জন্যে মেসি প্রধানতম দায়ি তারপর তার শিষ্যরা দায়ি! খেলার শুরু থেকে মেসি তেমন খেলেনি। খেলার ধারাভাষ্যকার মেসির নাম নিয়েছে অতিরিক্ত সময়ের শেষের দিকে। যখন মেসির হারের লজ্জা আঁচ হচ্ছিল।
লাবণ্য চৌধুরী : পারল না মেসি! ফাইনালে মেসি নিজেকে উজাড় করে খেলেনি! অতিরিক্ত সময়ে মিনিট কয়েক খেলেছে বলে গোল সমতার দিকে যাচ্ছিল! কিন্তু মেসিসহ তার শিষ্যরা সময়ের মূল্য না দেয়ায় হেরে গেছে স্পেনের কাছে। অন্যদিকে তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল কামাল কর দিয়া! শুরুতেই একটি সহজ সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে না পারলেও ওর দলের সকলে দাপুটে খেলেছে।
আর্জেন্টিনার খেলা দেখে এই হারের জন্যে মেসি প্রধানতম দায়ি তারপর তার শিষ্যরা দায়ি! খেলার শুরু থেকে মেসি তেমন খেলেনি। খেলার ধারাভাষ্যকার মেসির নাম নিয়েছে অতিরিক্ত সময়ের শেষের দিকে। যখন মেসির হারের লজ্জা আঁচ হচ্ছিল। মেসির কর্ণার কিক ভাগ্যদোষে বল গোলে জড়ায়নি। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। জিতে গেছে স্পেন।
এর আগে প্রতিপক্ষের চাপে পুরোটা সময় পিষ্ট হয়ে থাকলেও, রক্ষণের দৃঢ়তায় লড়াই অতিরিক্ত সময়ে টানে আজেন্টিনা। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায়, আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে তারা। এরপর, চাপ আরও বাড়িয়ে, ফেররান তরেসের দারুণ এক গোলে আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উৎসবে মেতে উঠল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববার শিরোপা লড়াইয়ে তরেসের গোলে ১-০ ব্যবধানের জয় তুলে নেয় স্পেন। বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে আক্রমণ, বলের দখল এবং ছন্দ-সব দিক থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে স্পেন। নিউজার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে অনেকটাই নিষ্প্রভ দেখায়। একের পর এক আক্রমণ শানালেও গোলের দেখা পায়নি স্পেন। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় রয়েছে দুই দল। খেলার প্রথমার্ধ আর্জেন্টিনার দখলে বল ছিল ৬৫ শতাংশ আর স্পেনের ৩৫!
ম্যাচের শুরু থেকেই আজ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় স্পেন। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত স্প্যানিশরা ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালায় এবং আর্জেন্টিনার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে। তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল শুরুতেই একটি সহজ সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় স্পেন।
প্রথমার্ধের পরিসংখ্যানেও স্পেনের প্রাধান্য স্পষ্ট। তারা তিনটি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যেখানে আর্জেন্টিনা একটি শটও নিতে পারেনি। বলের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে শুরুতে বেশ বেগ পেতে হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। যদিও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা কিছুটা গুছিয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে, তবু স্পেনের চাপ পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট পর শুরু হয় ম্যাচটি। এই ফাইনালে নেমে নতুন ইতিহাস গড়েছেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে কিশোর বয়সেই উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউরো) ফাইনাল এবং ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল—দুই আসরের ফাইনালেই খেলার কীর্তি গড়েছেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও স্পেনের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন বার্সেলোনার এই বিস্ময়বালক।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিও স্পর্শ করেছেন অনন্য এক মাইলফলক। ২০১৪ ও ২০২২ সালের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও ফাইনাল খেলতে নেমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে অংশ নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার নজির গড়লেন তিনি।
টানা দ্বিতীয় এবং মোট চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন। প্রথমার্ধে অবশ্য সেই লক্ষ্যের পথে এগিয়ে থাকার ইঙ্গিতই দিয়েছে স্প্যানিশরা, যদিও স্কোরলাইন তখনও গোলশূন্য।




