নজির দিয়ে জাতিসংঘের সভাপতিসহ ২পদেই পূর্ণকালীন থাকতে চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।’পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাঁর একান্ত সচিব ছিলাম এবং তাঁর সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। উনি দুই পদেই পূর্ণকালীন কাজ করেছেন
কূটনৈতিক রিপোর্টার : ‘নজির দিয়ে’ জাতিসংঘের সভাপতিসহ ২পদেই পূর্ণকালীন থাকতে চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের সভাপতি পদে বিজয়ী হয়ে ছুটি নেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘চাকরি ছাড়ব কি না, এটাই তো? না না, ছুটি নেব কিনা? ভাই, এত ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই! এরও নজির আছে। আজ থেকে ৪০ বছর আগে আমাদের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
‘আমি তাঁর একান্ত সচিব ছিলাম এবং তাঁর সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। উনি দুই পদেই পূর্ণকালীন কাজ করেছেন। তাই ভাই, এত ব্যস্ত হইয়েন না।’ আজ বৃহস্পতিবার ৪ জুন বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
২ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের পর তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় ফিরেছেন।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিজয় বাংলাদেশের বিজয়। এই বিজয় প্রধানমন্ত্রীর। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি যদি এই সিদ্ধান্ত না নিতেন এবং দৃঢ়ভাবে, অবিচলভাবে ও বিরোধহীনভাবে আমাদের সমর্থন না করতেন, তাহলে ১০ বছরের এই রাস্তা ১০ সপ্তাহে আমরা অতিক্রম করতে পারতাম না।’
খলিলুর রহমান বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা, বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা—আমরা যে টিম স্পিরিট নিয়ে কাজ করেছি, এই বিজয়ের পেছনে তাঁর অবদান ছিল বিপুল। এ বিজয় আমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কাছে উৎসর্গ করছি।’
এ সময় সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, আপনি এখন ছুটিতে যাবেন কি না। এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চাকরি ছাড়ব কি না, এটাই তো? না না, ছুটি নেব কিনা? ভাই, এত ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই! এর নজির আছে। আজ থেকে ৪০ বছর আগে আমাদের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাঁর একান্ত সচিব ছিলাম এবং তাঁর সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। উনি দুই পদেই পূর্ণকালীন কাজ করেছেন। ওই সময়টা ছিল ইন্টারনেট-পূর্ব যুগ; কিন্তু আজ আপনি নিরবচ্ছিন্নভাবে দুটি কাজই একসঙ্গে করতে পারেন। এটা এখন খুব স্বাভাবিক।’
নির্বাচিত হলে খলিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে থাকবেন কি-না, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এই পদ পেলে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন।ভোটের প্রচারের মধ্যে গত ১৩ মে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ে তিনি বলেছিলেন, “নির্বাচিত হলে আমি সবার সভাপতি এবং পূর্ণকালীন সভাপতি হব। আমি জাতিসংঘের সনদ সমুন্নত রাখব। আমি সব সদস্য রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করব এবং বিশেষ করে ছোট প্রতিনিধিদলগুলোর প্রতি মনোযোগ দেব।“আমি সভাপতির আচরণবিধি সম্পূর্ণরূপে মেনে সভাপতিত্ব করব। আমি আমার ব্যক্তিগত মতামতকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেব না এবং মতপার্থক্য উপেক্ষা না করে ঐক্যের পথ খুঁজব।”
তবে পূর্ণকালীন সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে এক বছরের জন্য ছুটি নিতে পারেন বলেও ধারণা দেন খলিলুর রহমান।
ওই মতবিনিময়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি কি পদত্যাগ করব? না। আমার প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) আমাকে স্পষ্টভাষায় বলেছেন যে, তিনি আমাকে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য এক বছর সময় দেবেন। পদত্যাগ একমাত্র বিকল্প নয়। আমি ছুটিও নিতে পারি।”দুই পদের দায়িত্ব কীভাবে চলবে, বিষয়টি আগেই স্পষ্ট করে দেওয়ার দাবি করে তিনি বলেন, “আমি আগেই বলে দিয়েছি, ক্লিয়ার করে দিয়েছি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমি আগেও পরিষ্কার করে দিয়েছি। অনেকেই বলেছেন, বর্তমানে জার্মানিতে যিনি আছেন, তিনি তো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন; কিন্তু ওই পদ ছেড়ে তিনি কাজ করেছেন। আসলে বিষয়টা হচ্ছে, তিনি গ্রিন পার্টির নেতা ছিলেন। তাঁর দল গ্রিন পার্টি নির্বাচনে হেরে যায়। এ কারণে তিনি আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেননি।’




