• বৃহস্পতিবার , ২ জুলাই ২০২৬

উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি:শামা ওবায়েদ


প্রকাশিত: ৯:০২ পিএম, ১ জুলাই ২৬ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৫ বার

 

সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সর্বক্ষেত্রে মোকাবিলায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।“এ ধরনের শক্তির বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে তাদের কখনোই সুযোগ দেওয়া হবে না।

কূটনৈতিক রিপোর্টার : হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ১০ বছর পূর্তিতে রাজধানীর গুলশানে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিহতদের নামফলকের সামনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এসময় তিনি সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

দশ বছর আগে গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে বুধবার এক অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য দেন তিনি।রাজধানীতে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর বাসভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, আদর্শিক বা অন্য কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে কখনো ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সর্বক্ষেত্রে মোকাবিলায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

“এ ধরনের শক্তির বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে তাদের কখনোই সুযোগ দেওয়া হবে না।”বুধবার নিজের বাসভবনে ওই সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে কূটনৈতিক কোরের ডিন ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস. ওয়াই. রমাদান, ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধান আলবার্ট সিয়া এবং বাংলাদেশ পুলিশের একজন প্রতিনিধি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

বাংলাদেশে ইতালি দূতাবাসের কনস্যুলার শাখার প্রধান লরা স্কেলা অনুষ্ঠানের সূচনা করেন এবং নিহতদের নাম পাঠ করেন। পরে তাদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। নিহতদের স্মরণে উপস্থিত সবাই এক মিনিট নীরবতাও পালন করেন।২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২ এর হোলি আর্টিজান বেকারিতে আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি ও গ্রেনেড নিয়ে হামলা চালায় পাঁচ জঙ্গি।

হামলাকারীরা ছিলেন–মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।প্রায় ১২ ঘণ্টার জিম্মি সংকটের মধ্যে তারা ২০ জনকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন নয়জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি, একজন ভারতীয় এবং তিনজন বাংলাদেশি।

জিম্মিদের উদ্ধারে অভিযানের প্রস্তুতিকালে জঙ্গিদের ছোড়া বোমায় নিহত হন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম এবং বনানী থানার ওসি সালাহউদ্দিন খান।পরদিন ভোরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ এর মাধ্যমে জিম্মি পরিস্থিতির অবসান ঘটে। সেই অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হন এবং ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

এ জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ বলেন, “দশ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেই রাতের ক্ষত এখনো আমাদের জাতীয় চেতনা থেকে মুছে যায়নি। ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার ছায়া আজও আমাদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে। এটি আমাদের জাতির ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়।”

তিনি বলেন, হামলাটি ছিল আশা, মানবতা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের অভিন্ন মূল্যবোধকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা।“বাংলাদেশি নাগরিক এবং ভারত, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজ আমরা তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমরা শুধু তাদের স্মৃতিকেই নয়, তাদের সাহস, দৃঢ়তা ও সংহতিকেও সম্মান জানাই।”

হোলি আর্টিজান হামলাকে মানবতার ওপর নির্মম আঘাত হিসেবে বর্ণনা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটি ছিল আমাদের প্রাণবন্ত, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজে ভয়, ঘৃণা ও বিভাজন সৃষ্টি করার পরিকল্পিত চেষ্টা। কিন্তু এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখেও বাংলাদেশ অসাধারণ দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে।”

তিনি বলেন, এ ঘটনা জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সংহতি এবং অভিন্ন মূল্যবোধ রক্ষায় সম্মিলিত সতর্কতার গুরুত্ব আজও স্মরণ করিয়ে দেয়।“সেই দিনের বেদনাদায়ক ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সংহতি ও সম্মিলিত সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, নৃশংস ওই সন্ত্রাসবাদ বাংলাদেশে থাকা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর বড় রকমের প্রভাব ফেলেছিল। ওই সন্ত্রাসী হামলা ২৪ জন নিরপরাধ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। যারা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন।নিহতদের সবসময় স্মরণের এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যেন এ ঘটনা ভুলে না যাই… এমন ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে।”