সেই পাসপোর্ট জালিয়াতরা সাইজ-
বিশেষ প্রতিনিধি : অবশেষে পাসপোর্ট জালিয়াত সেই ৭১জন সাইজ হয়েছে। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সাধারণ পাসপোর্টকে সরকারি পাসপোর্ট করে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ ও অপকর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের বরখাস্তকৃত দুই পরিচালকসহ ৭১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিগগরিই দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শফি উল্লাহ তা আদালতে দাখিল করবেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাতিরকন্ঠকে। এর আগে ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই দুদকের উপ-পরিচালক মো. বেনজির আহমেদ বাদী হয়ে পাসপোর্ট অফিসের তিন কর্মকর্তাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে বরখাস্তকৃত দুই পরিচালকসহ পাসপোর্ট অফিসের আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। বাকি ৬৩ আসামি পাসপোর্ট ব্যবহারকারী।
পাসপোর্ট অফিসের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন- আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের বরখাস্তকৃত পরিচালক মুনসী মুয়ীদ ইকরাম, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বরখাস্তকৃত পরিচালক এস এম নজরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক উম্মে কুলসুম, নাসরিন পারভীন নুপুর, প্রাক্তন বরখাস্তকৃত প্রাক্তন সহকারী পরিচালক এস এম শাহজামান, বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের বরখাস্তকৃত উচ্চমান সহকারী মো. শাহজাহান মিয়া, মো. সাইফুল ইসলাম ও পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের উচ্চমান সহকারী মো. আনোয়ারুল হক।
অন্যদিকে, পাসপোর্ট অপব্যবহারকারী ৬৩ জন হলেন- ফেনীর মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন শরীফ; মানিকগঞ্জের মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও মোহাম্মদ রেজাউল করিম; নওগাঁর সাইদুর রহমান ও মো. জালাল মোল্লা; ঢাকার সোহেল রানা, তুষার খান, মোহাম্মদ শাহ জালাল ও মো. বিল্লাল মিয়া; ফরিদপুরের শহিদ শেখ ও মোহাম্মদ কামরুজ্জামান; সিলেটের আমিন উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, এম এন সাওন সাদেক, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, শাহজাহান আহমেদ, মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ ফয়েজ আহম্মেদ, আফজল চৌধূরী, কোয়েস আহমেদ, জুয়েল আহমেদ, মামুন রশিদ, মোহাম্মদ মান্নান, মোহাম্মদ শফিকুল আলম মান্না ও মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন; মুন্সীগঞ্জের মোহাম্মদ আরিফ হাসান, মো. ফরহাদ খান, মোহাম্মদ দিপু, মিলন বেপারী ও মো. রাকিব মিয়া; কুমিল্লার কাজী মো. আল আমিন, এস এম হিমেল, সেন্টু চন্দ্র বিশ্বাস, মো. জসিম উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ বাবর উদ্দিন, মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, মাহফুজুর রহমান সবুজ, মো. মিজানুর রহমান, শহিদুল ইসলাম মজুমদার ও মোহাম্মদ ইসমাইল সরকার; সুনামগঞ্জের হাবিবুর রহমান, ইমরান হোসেন ও সামছুদ্দিন; নোয়াখালীর মো. হানিফ শিবলু, সহিদ কামাল ও ইয়াসিন আরাফাত; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ আরিফ খলিফা, ফারুখ আহমেদ, শিবলী আহম্মেদ, আলাউদ্দিন মিয়া ও রানা আব্দুল মান্নান; টাঙ্গাইলের আব্দুল বারেক ও মনির খান; পাবনার মোহাম্মদ শামীম হোসেন; হবিগঞ্জের মোহাম্মদ মামুন; বরিশালের মো. আমির হোসেন শরিফ; চট্টগ্রামের মোহাম্মদ কামরুল হাসান; লক্ষীপুরের রাশেদ খান; যশোরের মোহম্মদ জামাল উদ্দিন; মাগুরার ইসমাইল হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জের মো. ইব্রাহিম খলিল।
মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, আসামিগণ পরস্পর যোগসাজশে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ৬৫ জন ব্যক্তিকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দেখিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার নাম ও পদবি ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে জাল অনাপত্তিপত্র (এনওসি) তৈরি করে। এরপর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ভুয়া ও জাল অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ব্যবহার করে ৬৫টি সাধারণ পাসপোর্টকে অফিসিয়াল পাসপোর্টে রুপান্তর করে। যা ব্যবহার করে কিছু সংখ্যক পাসপোর্টধারী অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশে গমন ও বসবাস করছেন। এর মধ্যে ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহারকারী চার বাংলাদেশি ব্যক্তি তুরস্ক পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হন এবং তাদের জালিয়াতির বিষয়টি উদঘাটিত হওয়ার পর তুরস্ক সরকার তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
দুদক জানায়, ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ফাঁসের পরপর এ বিষয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানর করে ২০১৬ সালে ১৮ জন পাসপোর্টধারী ও পাসপোর্ট অফিসের তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। মামলাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শফি উল্লাহ ৭১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদনের সুপারিশ করে দুদকে প্রতিবেদন দাখিল করেন। দুদক তা আজ অনুমোদন দিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা এজাহারনামীয় ও তদন্তে অভিযুক্ত ৭১ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৭১/১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিলের সুপারিশ করেন।



