জেনোসাইডে আপোষ নাই
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাকেও কাটছাঁট ও কাস্টমাইজ করে, নিজেদের পকেটে পোরার জন্য যার যেখানে যতটুকু হালকার ওপরে ঝাপসা সত্যের ওপরে মিথ্যার আর মিথ্যার ওপরে সত্যের প্রলেপ দেওয়া দরকার, তারা তা পুরোটাই করেছেন এবং নিজের দলের তথা নিজের আখের গোছানোর শয়তানি রাজনীতিটা করছেন।
আফরোজা সোমা : কোনো কোনো লোক আছে, সে যদি জাহাজের ক্যাপ্টেন হতে না পারে তো এমনকি পুরো জাহাজটাই ডুবিয়ে দিতে দ্বিধা করে না।নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গের প্রবাদটা তো আর এমনি এমনি হয়নি।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাও মোটা দাগে এখনো এইরকম ইলইন্টেন্ডেড বিড়াল তপস্বীদের কব্জায় রয়ে গেছে।(মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে যারা ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল থেকে নির্মোহভাবে চারপাশের ঘটনা পরম্পরা দেখতে আগ্রহী তারা একাকী সৈনিক বৈকি!)আর পাকিস্তানের দর্শনে উদ্বুদ্ধ জম্বি পিঁপড়ারা তো আছেই।
জম্বি পিঁপড়ারা মূলত এক প্রকারের পরজীবী ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই ছত্রাক আক্রান্ত পিঁপড়ার মগজ ও স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং পিঁপড়ার আচরণে পরিবর্তন ঘটায়।২৩ মার্চ ছিল পাকিস্তান দিবস। পাকিস্তান দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছিল নিজেদের রাজনীতি সচেতন দাবী করা একদল তরুণ-যুবা।বটে!তারা রাজনীতি সচেতনই বটে। এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই তারা কার হয়ে, কার পক্ষে, কার রাজনীতি করছেন?
এই তারা কার রাজনীতির বয়ানের পক্ষে বৈধতা তৈয়ার করছেন?
এই প্রশ্নগুলো নিখুঁত ও নির্মোহভাবে চিহ্নিত করতে পারা বুদ্ধিজীবী হিসেবে, রাজনীতিসচেতন মানুষ হিসেবে আপনার প্রধান কাজ।২৩ মার্চের দোয়া মাহফিল আয়োজনকারী এক নেতার বক্তব্য দেখলাম দৈনিক ইত্তেফাকের পোস্ট করা অনলাইন ভার্সনে। বক্তব্যের মূল পয়েন্টটা এইরকম:“আপনারে বলা হচ্ছে, ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, ১৯৬৬, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১। এই আলাপ দিয়ে আপনারে কী করতেছে? ভারত আপনারে অনুগ্রহ করছে, এইরকম একটা আলাপ দিতে চাচ্ছে।”
“আপনাদের কী ছিল? কিচ্ছু ছিল না।
এই যে আপনি যে আজকে অবকাঠামো দেখতেছেন, এটা পাকিস্তান আন্দোলনের পর পাকিস্তান রাষ্ট্র হওয়ার পর হয়েছে।এই যে আপনার কুয়েট, রুয়েট, চুয়েট দেখতেছেন, চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম মেডিকেল, এই যে আপনার টেক্সটাইল মিলগুলো যে দেখতেছেন, এইগুলা পাকিস্তান আমলে হইছে।তো এইজন্য আজকে আমরা ১৯৪০ সালের যে লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাব তা নিয়ে আমরা আলাপ করতে চাচ্ছি।
আমরা সেই অস্তিত্ব ভুলতে চাই না।
আমাদের সন্তানদের মনে করায়ে দেবো আমরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি ছিলাম, আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ হিসেবেই গড়ে তুলব। আমরা আমাদের অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী ছিল, আমরা আমাদের অর্থনীতি শক্তিশালী করব। আমরা কারও ভারত বা হিন্দুস্তানের মুখাপেক্ষী ছিলাম না।”প্রজ্ঞাবানেরা বলেন, নেভার আন্ডারএস্টিমেট দি পাওয়ার অফ আ স্টুপিডম্যান অর এন ইডিয়ট। মানে বেকুবেরে বা আহাম্মকেরে ছোট করে দেখো না।
একমাত্র শয়তানই জায়গা মতন বেকুব আর কায়দা মতন চালাকের রূপ ধরে।‘জেনে-শুনে বিষ করেছি পান’-এর মতন, জেনেবুঝেই যারা এক চিমটি সত্য তথ্যের সঙ্গে এক মুঠো শয়তানি আর এক মগ মিথ্যা মিশিয়ে ঘোটা দিয়ে নিজের পলিটিকেল এলাইয়ের পক্ষে বয়ান তৈয়ার করে, তাদেরকে আপনার কাছে ‘স্টুপিড’, ‘ইডিয়ট’, ‘ধুরন্ধর’, বা ‘ইগনোরেন্ট’ মনে হতে পারে।
সেটা আপনার দেখার অভিরুচি ও অভিজ্ঞতা।কিন্তু প্রকৃতার্থে তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই ১৯৭১ প্রশ্নে পাকিস্তানের বয়ানকেই নানান ছলে-বলে-কৌশলে বৈধতা দেবার প্রাণান্ত চেষ্টা করে।বৈধতা উৎপাদনের জন্যই ‘দেশি মালদেরকে’ জম্বি পিঁপড়ার মতন বানিয়ে তাদের মগজের দখল নিয়ে সেই জম্বিদের মুখ দিয়েই নিজের বয়ানকে জনপরিসরে রেলেভেন্ট বা জারি রাখাটাই অধুনা বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনীতি।
এইটাকেই বলে কৈ-এর তেলে কৈ ভাজা।
ফলে, আপনি কোনো ইন্ডিভিজুয়ালকে ইডিয়ট বা স্টুপিড ভেবে যতই ‘হিসেবের বাইরে’, ‘ধর্তব্যের মধ্যেই আসে না’ মনে করুন না কেন, এই কথাটা ভুলে যাবেন না যে, অনেক ইন্ডিভিজুয়াল ইডিয়ট বা একক আহাম্মক বা শয়তান যখন একত্র হয়ে দলে ভারী হতে থাকে, তাদের সমবেত শক্তিকে অবজ্ঞা ও অস্বীকার করাটা তখন আরো বড় আহাম্মকি।
কেননা সংখ্যায় বা পরিমাণে পরিবর্তন আনা হলে সামগ্রিক অর্থেই গুণ-মানেও পরিবর্তনও ঘটে।এক মগ পানিতে এক চিমিটি লবণ আর এক মুঠো চিনি মেশালে পানির স্বাদ যা হবে, এক চিমটি চিনি আর এক মুঠো লবণ মেশালে পানির স্বাদ আর তা থাকবে না।পরিমাণের কম বেশি হলে শুধু শরবত না, সমাজের স্বাদেও বদল ঘটে।ইতিহাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
এটাই কেমিস্ট্রি। এটাই সায়েন্স।
বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য হলো, আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বানরের রুটিভাগ প্রকল্পের মতনই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাকেও কাটছাঁট ও কাস্টমাইজ করে, নিজেদের পকেটে পোরার জন্য যার যেখানে যতটুকু হালকার ওপরে ঝাপসা সত্যের ওপরে মিথ্যার আর মিথ্যার ওপরে সত্যের প্রলেপ দেওয়া দরকার, তারা তা পুরোটাই করেছেন এবং নিজের দলের তথা নিজের আখের গোছানোর শয়তানি রাজনীতিটা করছেন।
এসব ধুরন্ধরগিরি ও চালিয়াতিপনার চক্করে পরে একটা বিশাল দেশের আস্ত জনযুদ্ধটাই হয়ে গেল ভাগের মা!আহারে ভাগের মা! গঙ্গা যে ভাগের মায়ের কপালে জোটে না, তা তো কতো পুরানা প্রবাদ!তবু, ‘মা তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়নজলে ভাসি’।‘জেনোসাইড’, ‘ম্যাস কিলিং’ আর ‘এথনিক ক্লিঞ্জিং’ তিনটি ভিন্ন বিষয়।ঘটনাভেদে তাদের মধ্যে সাদৃশ্য ও সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এদের একটা ঘটানোর সময় অন্যগুলোও ঘটতে পারে বা ঘটার আশঙ্কা থাকে। তবে, কেইস বাই কেইস প্রত্যেকটা বিষয়ই আলাদাভাবে দেখতে হয়।
বাংলাদেশে ১৯৭১-এ পাকিস্তান যা ঘটিয়েছে, তা জেনোসাইড, শুধু ‘ম্যাস কিলিং’ নয়।জেনোসাইডের বাংলা ‘গণহত্যা’ নয়। গণহত্যা মানে ‘ম্যাস কিলিং’।
জেনোসাইডের কোনো যুৎসই ছোটো বাংলা প্রতিশব্দ এখনো আমাদের ভাষায় তৈরি হয়নি।সারা পৃথিবীতেই এখনও জেনোসাইড গণহত্যার চেয়েও কয়েকগুণ ঘৃণ্য ও মারাত্মক এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
১৯৭১, জেনোসাইড, পোস্ট-কলোনিয়াল মেমোরি স্টাডি আমার আগ্রহের একটা বিষয়।আমি অনুরোধ করব, আপনারা ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসররা বাংলাদেশে যে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সেগুলোকে শুধু ‘গণহত্যা’ বলবেন না, ‘জেনোসাইড’ হিসেবে উল্লেখ করবেন।
জেনোসাইড বোঝাতে গিয়ে জেনোসাইডের প্রতিশব্দ হিসেবে ‘গণহত্যা’ উল্লেখ করলে তা হবে অসমীচীন ও অন্যায্য।১৯৭১-এ নয় মাস ধরে পাকিস্তানি প্রশাসন ও জান্তা বাহিনী বাংলাদেশে জেনোসাইড চালানোর সময় চুকনগরে হওয়া গণহত্যার মতন আরো অগুনতি গণহত্যা ঘটিয়েছে।
৭১-এ চালানো জেনোসাইডের জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতেই হবে, আজ নয়তো আরো একশ বছর পর।এমনকি বাংলাদেশের বর্তমান মানচিত্র ভবিষ্যতে যদি নাও থাকে, বাংলাদেশে ৭১-এ সংঘটিত হওয়া জেনোসাইডের খতিয়ান ইতিহাসে তবু থেকেই যাবে।
জেনোসাইড এমন এক টাইমলেস চেক, যা কখনোই তামাদি হয় না।
ফলে, উপায় নাই, গোলাম হোসেন!
রেদার, দ্য সুনার, দ্য বেটার।‘বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল—পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক হে ভগবান!’এই পুণ্য কাজে আপনার আমার দায়িত্ব ও কর্তব্যটা কী?পবিত্র দায়িত্ব হলো, জেনোসাইডের তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণাদি ঘেটে বের করা এবং যারা এই কাজ করেন তাদেরকে ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে’ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করা।
আরেকটা কথা।
আজকাল কাউকে-কাউকে দেখবেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, জেনোসাইড এবং নয় মাসব্যাপী চালানো গণহত্যা বা ম্যাস কিলিং নিয়ে আলাপের সময় ইনিয়ে-বিনিয়ে, চামে-চিকনে ‘১৯৭১-এ বিহারিদের ওপরে হওয়া অত্যাচার ও গণহত্যা’র আলাপ টেনে দাবার চালের মতন বাঙালির জেনোসাইডকে বিহারি চাল দিয়ে আটকানোর পাঁয়তারা করেন।
মনে রাখবেন, বাঙালির রক্তাক্ত ৯ মাসের কারবালাসম ঘটনার আলাপের বিপরীতে যে বা যারা বিহারি প্রসঙ্গকে স্পটলাইট দিয়ে হাজির করবে, কোনো প্রকার ‘যদি’, ‘কিন্তু’, ‘তবু’ ছাড়াই চোখ বন্ধ করে বুঝে নেবেন যে, তাদের মতলব খারাপ।পাকিস্তানের বহু বছরের খায়েশ যে, তারা মুক্তিযুদ্ধটাকে ‘ভাইয়ে-ভাইয়ের ঝগড়া-ফ্যাসাদ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
পাকিস্তান ভাঙা টেপ রেকর্ডারের মতন এই বয়ান বাজাতে চায় যে, ‘আমিও ভালো, আমার ভাইও (বাঙালিরা) ভালো।’কিন্তু ‘দুশমন (ভারত) নে পিঠ মে ছুরা মার দিয়া।’ ‘দুশমন নে ভাই কো ভাই সে আলাগ কার দিয়া!’পাকিস্তানিদের এই নাকিকান্নাসম বয়ান হলো মাছের মায়ের পুত্রশোক।তাদের এই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বয়ান মিঠা কথা দিয়ে পাতা এক ভয়ংকর ফাঁদ।
এই বয়ানের মোদ্দা কথা হলো, বাঙালিরা যেমন নির্দোষ, পাকিস্তানও তেমনই নির্দোষ। নিজে ফায়দা লুটার জন্য ভাইয়ে-ভাইয়ে ফ্যাসাদ লাগিয়ে ছিল দুশমন (ভারত)।
পাকিস্তানের এই এক লাইনের বয়ানের ভেতর দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের পুরা দুই দশকের আন্দোলন-সংগ্রাম-গণহত্যা-জেনোসাইড-মুক্তিযুদ্ধ সব নালিফাই করে দেওয়া হয়।
আর এভাবেই বাংলার নিজের জনযুদ্ধের গল্পে বাংলা ও বাংলার মুক্তিকামী মানুষ নিজেই উহ্য ও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়।ফলে, তার লড়াই, সংগ্রাম বলে দাবি করার আর যা কিছু অবশিষ্ট থাকে তা হলো ‘বাবুরাম সাপুড়ে’ কবিতার নির্বিষ সর্প।অর্থাৎ এর থাকা না থাকা সমান। এটাকে আর পাকিস্তানের ভয় পাবার কিছু নেই।
কিন্তু জেনোসাইডে ভয় আছে।
জেনোসাইডর কথা উঠলেই ইসরায়েল থেকে শুরু করে মিয়ানমারসহ পৃথিবীর সব দেশই ভয়ে প্রমাদ গোনে।রোহিঙ্গাদের ওপরে বা প্যালেস্টাইনিদের ওপরে যা হয়েছে বা হচ্ছে তা ‘জেনোসাইড’ না ‘ম্যাস কিলিং’ না ‘এথনিক ক্লিঞ্জিং’ এই আলাপ ডেলিবারেটলি ওঠানো হয়।কেননা আইনের মারপ্যাঁচে জেনোসাইড অনেক বেশি ঘৃণ্য ও গুরুতর অপরাধের কাজ।
তাই, মুক্তিযুদ্ধটাকে বাংলাদেশেই খুব মাইনর, খুব ইররেলেভেন্ট বা অপ্রাসঙ্গিক ও বিতর্কিত দেখানোর রাজনীতিটা পাকিস্তান সেই ৭১-এর পরাজয়ের পর থেকেই শুরু করেছে।আপনি যদি ইতোমধ্যেই জম্বি পিঁপড়ায় পরিণত হয়ে না থাকেন, তাহলে নিজের বিবেকের দ্বার খোলা রাখুন।বাংলাদেশে পাকিস্তানি বয়ান উৎপাদনকারী এবং সেইসব বয়ানের লেজিটেমেসি বা বৈধতা তৈয়ারকারী বকধার্মিকদের চিনে রাখুন।
চিনে নেওয়ার সহজ তরিকাটা কী?
একটা টোটকা দিয়ে রাখছি।মুক্তিযুদ্ধকে যারা ‘ভাইয়ে-ভাইয়ে ঝগড়া’ এবং ‘ভারতের ষড়যন্ত্র’ বলে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তারাই পাকিস্তানের বয়ানের বৈধতাদানকারী মুক্তিযুদ্ধের দোস্তরূপী দুশমন।১৯৭১-এ বাংলাদেশে পাকিস্তানের চালানো জেনোসাইডের সঙ্গে এক পংক্তিতেই ‘বিহারিদের ওপরে হওয়া নির্যাতন’কে যেইসব ব্যক্তি বা বুদ্ধিজীবী উল্লেখ করবে সেই ব্যক্তিই আন্ডারকাভার জম্বি পিঁপড়া।
অধুনা বিশ্বে ‘একটু চালাক না হলে টিকা মুশকিল।’তাই, রাজনীতির ময়দানে আজকাল কোনো বুদ্ধিমান পক্ষই আর নিজের হাতে রক্তের দাগ নিতে চায় না।তারা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলে।অর্থাৎ তারা জম্বি পিঁপড়ার জন্ম দেবে এবং সেই জম্বিদের দিয়েই লেজিটিমেট ওয়েতে বা বৈধ পন্থাতেই নিজের পক্ষে বয়ান উৎপাদন করবে এবং নিজের যা চাওয়ার ও পাওয়ার তা আদায় করে নেবে।
১৯৭১-এ চালানো জেনোসাইডের দায় থেকে পাকিস্তানের যদি দায়মুক্তি পেতে হয়, তাহলে জেনোসাইডের দাবিটাকেই নাল অ্যান্ড ভয়েড করে দিতে হবে।
তা করতে হলে মুক্তিযুদ্ধটাকেই পুরাপুরি হোক না হোক, অন্তত ‘ভাইয়ে-ভাইয়ে ঝগড়া’ বা ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বা ‘ভারতের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
পাকিস্তানের হয়ে এই কাজ যদি বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশি লোকেরাই করে তাহলে পাকিস্তান তাদেরকে দুধ-কলা দিয়ে পুষবে না তো কী করবে?
আপনি হলে কী করতেন?
ভুলে যাবেন না, ১৯৭১ প্রশ্নে বাংলাদেশ ন্যায্যভাবেই আপারহ্যান্ডে আছে।আর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টা গলার কাঁটা হয়ে আছে কার? পাকিস্তানের।তাই, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত বেশি দ্বিধা ও ধোঁয়াশা তৈরি হবে তত বেশি পোয়া-বারো হবে কার?জ্বি, ঠিক ধরেছেন পাকিস্তানের।পাকিস্তান ঈমানের সঙ্গে গত অর্ধশতকের বেশি সময় ধরে নিজের কাজটা করে যাচ্ছে। জম্বি পিঁপড়া বানানোতে মদদ দিচ্ছে।
এবার এই কালরাত্রিতে নিজেকে কালকূটুম প্রশ্নটা করুন।‘শত্রু’ তার অপরাধ আড়াল করে দেশের ইজ্জত বাঁচানোর জন্য এত কিছু নিরলসভাবে করছে।কিন্তু আপনার নিজের দেশের বুকে রক্তজবার মতন ফুটে থাকা রক্তের দাগ যে দিল, সেই সব অপরাধীর অপরাধ প্রমাণের জন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে, ব্যক্তি হিসেবে আপনি কী কী করেছেন?




