• বৃহস্পতিবার , ২৩ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পরে কে? মির্জা ফখরুল!


প্রকাশিত: ৮:২৬ পিএম, ২৩ জুলাই ২৬ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৪০ বার

 

পরিচ্ছন্ন ও সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে চূড়ান্ত করা হতে পারে ! সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন

 

 

শফিক রহমান : রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন যে কোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন। দেশে বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র নিয়ে কথা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি পদত্যগ করতে পারেন বলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল মতপ্রকাশ করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার সাথে সাথে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

নতুন স্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনিই রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব সামলাবেন।তিনি একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং বিএনপির দীর্ঘদিনের জ্যেষ্ঠ স্থায়ী কমিটির সদস্য। প্রশাসনিক ও সামরিক ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এরপর কে হবেন রাষ্ট্রপতি-

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন তা নিয়ে বিএনপিতে এবং দেশের রাজনৈতিক মহলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই দুই জ্যেষ্ঠ নেতার নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তাঁরা
বর্তমানে বিএনপির রাজনীতি এবং দেশের রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের এই মুহূর্তে তাঁদের উভয়েরই সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 বর্তমান অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট-

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বর্তমান স্পিকার ও সম্ভাব্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি)- তিনি বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বিএনপি মহাসচিব ও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি আলোচিত প্রার্থী)।

তিনি বিএনপির বর্তমান মহাসচিব এবং দলটির সবচেয়ে বড় নীতিগত অভিভাবক। বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার এই সংসদে পরবর্তী স্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নামই সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। দলের একটি বড় অংশ তাঁকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি একজন সাবেক অধ্যাপক এবং বিগত দেড় দশক ধরে চরম রাজনৈতিক সংকটের সময়েও অত্যন্ত ধৈর্য ও দক্ষতার সাথে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। পরিচ্ছন্ন ও সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের কাছেও তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বর্তমান সমীকরণ যদি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়, তবে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর কাছ থেকে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ পাঠ করাবেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি বর্তমানে জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারে রয়েছে। ফলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই যে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা নিশ্চিত।

সম্ভাব্য আরো প্রার্থীদের তালিকা-

বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গন এবং নীতিনির্ধারণী মহলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আরো ২ জনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। এরমধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। যিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য এবং সাবেক এই মন্ত্রী দলের নীতিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী।

এছাড়াও নজরুল ইসলাম খান এবং মঈন খানের নামও রয়েছে আলোচনায়। তাঁরা দলের স্থায়ী কমিটির প্রবীণ, বিশ্বস্ত ও রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

তবে রাজনৈতিক মহলের বাইরে সরকারের বর্তমান কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত একজন জ্যেষ্ঠ আমলা বা সচিবকেও চমক হিসেবে এই পদে দেখা যেতে পারে।

সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও সময়সীমা-

সংসদে নির্বাচন: সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নতুন স্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

সাহাবুদ্দিন এর পদত্যাগের সম্ভাব্য কারণ ও প্রেক্ষাপট – শারীরিক অসুস্থতা-

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শিগগিরই পদত্যাগ করার সম্ভাবনা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। একাধিক নির্ভরযোগ্য ও দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন।

আনুষ্ঠানিক বা প্রকাশ্য কারণ হিসেবে রাষ্ট্রপতির শারীরিক অসুস্থতা বা স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা উল্লেখ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সরকারের আমলের একমাত্র শীর্ষ সাংবিধানিক ব্যক্তি হিসেবে বর্তমান বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দলটির উচ্চপর্যায় থেকে তাকে ইতিমধ্যে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

গোপন যোগাযোগ নিয়ে অসন্তোষ-

লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার গোপন ফোনালাপের তথ্য সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আসার পর থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তীব্র অসন্তুষ্টি তৈরি হয়। সরকার দেশের সর্বোচ্চ পদে এই মুহূর্তে তাকে আর সমীচীন মনে করছে না।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ইতিমধ্যে তাঁর অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং তিনি স্পিকারের ফেরার অপেক্ষা করছেন। তবে আগামী ২৯ জুলাই চার দেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণের একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঠিক কবে আসবে তা নিয়ে এখনো কিছু সংশয় রয়েছে।