৬৫৪৪ প্রতিষ্ঠানে সোলার স্থাপনে বরাদ্দ ৩৭০ কোটি টাকা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আলাদা আলাদা চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ প্রতিনিধি : বৈশ্বিক বৈরী পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে বিদ্যুৎ খাতে। এ চাপ মোকাবিলা করতে বসে নেই তারেক রহমানের সরকার। তারা ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছে নানা উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় নিয়েছে অনন্য ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তারা পরিবেশবান্ধব গ্রিন এনার্জি বা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতের প্রসারে প্রকল্প গ্রহণ করেছে । এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সারা দেশের মোট ৬,৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী কর্মসূচির মূলে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং সরকারি খাতের প্রতিটি ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাঁর মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রকল্পটির দ্রুত ও মসৃণ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রাথমিক ৩৭০ কোটি টাকার সরকারি অর্থ বরাদ্দও ছাড় করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এই দূরদর্শী উদ্যোগের আওতায় তৃণমূল থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) মাঠপর্যায়ের অফিসসমূহ। বিভিন্ন অঞ্চলের ওয়াসা (WASA) কার্যালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভবনসমূহ সারা দেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টারগুলো;
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য সরকারি অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। এসব প্রতিষ্ঠানের খালি ছাদে আধুনিক সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে আমরা প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড ও স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য যোগ করতে পারব। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
পরিবেশ সুরক্ষা ও বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্ধারিত একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রাও (Deadline) প্রকাশ পায় তাঁর বক্তব্যে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার মানসিকতা প্রকাশ করে তিনি জানান, আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারির মধ্যেই সমগ্র কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রী মীর শাহে আলমের এই দ্রুত ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ দেশের বিদ্যুৎ নির্ভরতা কমাতে, জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে এবং সরকারি পর্যায়ে টেকসই এনার্জি মডেল প্রতিষ্ঠায় এক রোল মডেল হিসেবে কাজ করবে। তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই নতুন দিগন্ত স্থানীয় প্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মদক্ষতা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।




