• সোমবার , ২৪ আগস্ট ২০২৬

ঢালাও মৃত্যুদন্ডে সাইজ বিচারক-ক্ষমতা প্রত্যাহার


প্রকাশিত: ৭:৪৬ পিএম, ২৪ আগস্ট ২৬ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৩ বার

 

 

 

হাই কোর্টের রায়ে তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং খালাস দেওয়া হয়েছে বাকি ১০ জনকে

 

কোর্ট রিপোর্টার : ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে ‘মাইন্ডলেস সেন্টেন্স’ বলে বর্ণনা করেছে হাই কোর্ট।একইসঙ্গে ওই রায় ঘোষণাকারী ফেনীর তখনকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সিনিয়র জেলা জজ পদ মর্যাদার এ বিচারিক কর্মকর্তা নিম্নতম মজুরি বোর্ডে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন, আপিল ও জেল আপিলের টানা ১৭ দিনের শুনানি শেষে সোমবার এ রায় দেয় বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাই কোর্ট বেঞ্চ।২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নিম্ন আদালতে দেওয়া রায়ে ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছিল।

হাই কোর্টের রায়ে তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং খালাস দেওয়া হয়েছে বাকি ১০ জনকে।এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেকসহ অন্যান্য আইন কর্মকর্তা।

আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান, ফরিদ উদ্দিন খান, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, তাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ শিশির মনির, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম রিপন, এম ডি রেজাউল করিম, বেলায়েত হোসেন, তাহামিনা তানজিম, দেব দুলাল বরালসহ আরও অনেক আইনজীবী।

আদালতের পর্যবেক্ষণ-অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন-

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, একজন বিচারকের কোনো মামলায় দণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের বিচারিক মন প্রয়োগ করার প্রয়োজন, বিচারক মামুনুর রশিদ সেই বিচারিক মন প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছেন বলে হাই কোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।তবে এ পর্যবেক্ষণ নির্দিষ্ট ওই বিচারকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, ঢালাওভাবে সব বিচারকের ক্ষেত্রে নয় বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ও বিবেচনা করবে।

বিচারকদের স্বাধীনভাবে বিচার পরিচালনার বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, বিচারকরা বিচার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ভীক থাকবেন এবং আদালতের সামনে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই বিচার করবেন। বাইরে কোথায় কে কী বলল বা কীভাবে কোনো বিষয় উপস্থাপিত হলো, সে কারণে বিচারকের রায় প্রভাবিত হতে পারে না।

২০১৯ সালে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন নুসরাত। এর আগে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করার পর সে বছরের ২৭ মার্চ পুলিশ গ্রেপ্তার করে অধ্যক্ষ সিরাজকে।

সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার পক্ষে নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তার মুক্তি দাবিতে মানববন্ধনেও সক্রিয় ছিল মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী। মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ।

এর মধ্যেই ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল; টানা পাঁচ দিন যন্ত্রণা সহ্য করে ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় পরিণত নেয়।

নুসরাতকে যখন ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছিল, তখনও তিনি বলছিলেন, তিনি প্রতিবাদ করে যাবেন। প্রতিবাদী এই তরুণীর জন্য প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয় গোটা দেশজুড়ে।