• শনিবার , ২৫ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বিএনপি সরকারের সমর্থক ছিলেন স্বীকারোক্তি স্পিকারের


প্রকাশিত: ৩:৩০ এএম, ২৫ জুলাই ২৬ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৩২ বার

 

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচিত হলেও বর্তমান সরকারের প্রতি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘সমর্থন ও শ্রদ্ধা’ ছিল।শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এসে সাহাবুদ্দিন সম্পর্কে উচ্চ মূল্যায়ন করেন তিনি 

লাবণ্য চৌধুরী : রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বিএনপি সরকারের সমর্থক ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি করেছেন স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সম্পর্কে উচ্চ প্রশংসা করে এ মন্তব্য করেন। শুক্রবার বিকেলে এনিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচিত হলেও বর্তমান সরকারের প্রতি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘সমর্থন ও শ্রদ্ধা’ ছিল।শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এসে সাহাবুদ্দিন সম্পর্কে উচ্চ মূল্যায়ন করেন তিনি ।

এর আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন— এমন গুঞ্জন ওঠে ২২ জুলাই। এর দুই দিন পর শুক্রবার পদত্যাগপত্র জমা দিলেন তিনি।

এদিন বিকালে বঙ্গভবনের তরফে তার পদত্যাগপত্র প্রকাশ করা হয়, যেখানে তারিখ লেখা আছে ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই।পদত্যাগপত্র সামনে আসার পর বিকাল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন।সংবাদ সম্মেলনের আগে বিকাল ৪টা ২৬ মিনিটে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী এসএসএফের দুটি প্রটোকল গাড়ি সংসদ ভবনে পৌঁছায়।

সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার বলেন, “পদত্যাগপত্রে সাহাবুদ্দিন হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভোগার কথা লিখেছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও হয়েছে।সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ শনাক্ত হওয়ার কথা পদত্যাগপত্রে লিখেছেন সাহাবুদ্দিন। এ রোগের কারণে মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়ার কথাও আছে পদত্যাগপত্রে।হাফিজ উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র তিনি গ্রহণ করেছেন। আর স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়েই প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

একইভাবে কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার সেই দায়িত্ব পালন করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন হাফিজ উদ্দিন।সাহাবুদ্দিনের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করে স্পিকার বলেন, “তিনি ‘মাফিয়া সরকারের আমলে’ নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জানতে চান, সাহাবুদ্দিন তার পদত্যাগপত্রের সঙ্গে চিকিৎসকের সনদ বা কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজ জমা দিয়েছেন কিনা? জবাবে হাফিজ উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজেই তার রোগগুলোর নাম লিখিতভাবে জানিয়েছেন।“এজন্য ডাক্তারের সার্টিফিকেটের কোনো প্রয়োজন নাই।”রাষ্ট্রপতির পদত্যাগকে দেশের জন্য ‘গুরুতর’ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে স্পিকার বলেন, “একজন মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি অসুস্থ হতেই পারেন। এর আগেও বিভিন্ন কারণে রাষ্ট্রপতিরা পদত্যাগ করেছেন।”

এ পদত্যাগের পর বিষয়টি নিয়ে সব বিভ্রান্তি দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া যেন তৈরি না হয়, সেই আহ্বানও জানান। প্রশ্নের ধরন নিয়ে একপর্যায়ে আপত্তি জানিয়ে হাফিজ বলেন, তিনি ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করছেন এবং সরাসরি কথা বলতে অভ্যস্ত।সাংবাদিকদের গঠনমূলক প্রশ্ন করার পরামর্শ দেন তিনি।

সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের যে দাবি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তুলেছেন, সে বিষয়েও স্পিকারের বক্তব্য চাওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। জবাবে তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নাই।”

তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনের বিষয় ছিল দেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ। এরপর আর কোনো প্রশ্ন না নিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন তিনি।সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আর ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতির কার্যভার পালন করবেন।