• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

সুইমিংপুলের ছবিতেই পাকরাও জিসান


প্রকাশিত: ৮:৫৯ পিএম, ৪ অক্টোবর ১৯ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২০০ বার

শফিক রহমান : সুইমিংপুলের সেই ছবিতেই পাকরাও জিসান; দুবাইয়ে ধরা খেল সেই কিলার জিসান । যুবলীগ সন্ত্রাসী খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেফতারের পর ঢাকার বিভিন্ন স্তরে রাস্তা ঘাটে ছড়িয়ে পড়ে খালেদের সঙ্গে পলাতক বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সুইমিংপুলে গোসলের ছবি। এরপরই নড়েচড়ে বসে গোয়েন্দারা। শুরু হয় তথ্য তালাশ। এরপর মাঠে কাজ শুরু করে গোয়েন্দারা। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় খালেদ মাহমুদ ভূইয়াকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিসানের দুবাই কানেকশন প্রকাশ্য হয়ে পড়ে।

শিগগির দুবাইয়ে পাকরাও এই শীর্ষ কিলার সন্ত্রাসী জিসান কে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।২০০৩ সালে মালিবাগে একটি আবাসিক হোটেলে দুজন গোয়েন্দা পুলিশ ইন্সপেক্টরকে গুলি করে হত্যা করে সে বিদেশে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে সে অপরাধ জগতে আলোচনায় চলে আসে। পরে সে গাঢাকা দেয়। ২০০৫ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে সে দেশ ছেড়ে পালায়।

অবশেষে দীর্ঘ ১৩ বছর পলাতক থাকার পর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো দুবাইয়ের সঙ্গে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকার তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বুধবার (৩ অক্টোবর) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।আজ এনসিবি ঢাকা গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) মহিউল ইসলাম শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জাতিরকন্ঠ কে বলেন, জিসানকে গ্রেফতারের বিষয়ে আগে থেকে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো দুবাইয়ের সঙ্গে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো ঢাকা যোগাযোগ শুরু করে। গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি থেকে জিসানের লেটেস্ট ছবি ও তথ্য পাঠানোর পর তারা (এনসিবি দুবাই) জিসানকে শনাক্তের কাজ শুরু করে। এরপর দুবাই এনসিবি ঢাকাকে জানায়, তারা জিসানকে নজরদারির মধ্যে রেখেছে।

নিশ্চিত হওয়ার জন্য এনসিবি দুবাই জিসানের সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য চায় এবং ঢাকাকে জানানো হয়, জিসান ভিন্ন নাম ব্যবহার করে দুবাইতে আছে। একইসঙ্গে অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। এ তথ্য জানার পর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মাধ্যমে সেগুলো যাচাই করা শুরু হয়।পরে আমরা জানতে পারি জিসান বর্তমানে ‘আলী আকবর ’ নামে দুবাইতে আছে এবং তার পাসপোর্টটি ভারতের। এই পাসপোর্ট ভেরিফাইয়ের কাজ শুরু করার পর এনসিবি দুবাই ফের জানায়—জিসানের কাছে ডমিনিকান রিপাবলিকের পাসপোর্ট রয়েছে। পরবর্তীতে ডমিনিকান রিপাবলিকের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করি। তারা জানায়—না, আমরা এ নামে কোনও পাসপোর্ট দেই নাই।

এরই মধ্যে জিসানের ব্যাপারে ইন্টারপোলের রেড এলার্ট নোটিশটি আপডেট করা হয় । বিভিন্নভাবে ভেরিফিকেশনের কাজ চলার সময় জিসানের ব্যাপারে থাকা রেড এলার্টটি আপডেট করতে বলা হলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে সেটা আপডেট করে। আপডেটে আরও কিছু মামলা যুক্ত করা হয়। এরমধ্যে এনসিবি দুবাই জিসানের আপডেট সম্পর্কে জানতে চায়। আমরা তখন ডিবির সঙ্গে বৈঠক করি। ডিবি আমাদের জানায়, সে এখনও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তার ভাইও সেখানে বসে অপরাধ করছে। এরপর ডিবি কয়েকটি নম্বর দেয়। এনসিবি দুবাই সেগুলো ট্র্যাক করে। সম্প্রতি তার দুজন সহযোগী ঢাকায় ধরা পড়ে। এসব তথ্যও আমরা দুবাইকে জানাই।

সর্বশেষ বুধবার (২ অক্টোবর) রাতে দুবাইয়ে জিসানকে গ্রেফতারের পর এনসিবি দুবাই ঢাকাকে জানায়। পরদিন বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) যাচাই করে জিসানের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানান এনসিবি ঢাকার কর্মকর্তা মহিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দুবাই এনসিবি জিসানকে গ্রেফতারের পর আমাদের জানিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে আইপি ফোনে যোগাযোগ করি এবং ভেরিফাইয়ের করে নিশ্চিত হই গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিই জিসান।

জিসানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে মহিউল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারের পর আমাদের কাছে অনেক ডকুমেন্ট চেয়ে চেকলিস্ট পাঠিয়েছে দুবাই। মামলা সংক্রান্ত পেপারগুলো ডিবি আমাদের দেবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিগ্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট করার চেষ্টা করা হবে। আমরা আশা করি তাকে শিগগিরই দেশে এনে বিচার কাজ শুরু করতে পারবো। দীর্ঘদিন জিসানের পেছনে লেগে থাকার কারণে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

গত এক দশকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত দেশের শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর একজন ছিল জিসান। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বাড্ডা, মতিঝিলসহ বেশ কিছু এলাকায় তার একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতো সে। পরে সে সময় পালিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। এরপর নিজের নাম পরিবর্তন করে আলী আকবর চৌধুরী নামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে।

সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে দুই যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের পর জিসানের নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়। এমনকি জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া মোটা অংকের টাকা জিসানকে দুবাইয়ে পাঠাতো বলে গোয়েন্দাদের জানায়।এ্ররপর নড়ে চড়ে বসে গোয়েন্দারা। এর জের ধরে গোয়েন্দা জালে ধরা পড়তে বাধ্য হয় জিসান।