• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

সিলেটে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-নানা প্রশ্ন


প্রকাশিত: ৩:১৩ পিএম, ৩১ জুলাই ১৮ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৩৬ বার

 

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটে কি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-ঘটেছে নাকি অতি গোপনে কারো ফল পার্টে দেয়া হয়েছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন সৃষ্ঠি হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপটে সোমবার রাতেই ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন বদর উদ্দীন কামরানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

তিনি অনলাইন দৈনিক জাতিরকন্ঠকে বলেন, আমরা নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত, ভোট পুনর্গণনা এবং কয়েকটি কেন্দ্রে পুনরায় ভোট নেওয়ার জন্য বলেছি। কারণ গত রাতে যে ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছিল সেখানে কেন্দ্রে আমাদের পোলিং এজেন্টদের দেওয়া ফলাফলের সঙ্গে মিলছিল না। ফলে আমরা ভোট পুনর্গণনা চেয়েছি।

ওদিকে ফল ঘোষণা না হলেও ভোটের যে চিত্র দেখা গেছে, তাতে জটিল এক সমীকরণ দেখা দিয়েছে। এখানে আরিফুল হক চৌধুরীর পাল্লা ভারি বদর উদ্দীন আহমদ কামরানের চেয়ে।সোমবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ভোটার এবং ভোটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই দুটি কেন্দ্রের সব ভোটার ভোট দিলে এবং তার প্রায় সব ভোট কামরানের বাক্সে পড়লে তবেই আরিফুল হারতে পারেন।

অন্যদিকে বিকালে ভোটগ্রহণের পরপরই আরিফুল ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যানের আগাম ঘোষণা দিলেও পরে তিনি তার আগের বক্তব্য থেকে সরে আসেন।তখন তিনি বলেন, ভোটের অনিয়মের ঘটনায় ‘ঘৃণা’ প্রকাশ করতে ফল প্রত্যাখ্যানের ওই কথা বলেছিলেন।রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান ১৩২টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করে জানান, ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৬ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। ৭ হাজার ৩৬৭টি ভোট বাতিল হয়েছে।অর্থাৎ এবার ভোটের হার ৬২ শতাংশের কাছাকাছি; গতবারও ভোটের হার ৬২ শতাংশই ছিল।

১৩২ কেন্দ্রে আরিফুল ধানের শীষে ভোট পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৩টি; অন্যদিকে নৌকা প্রতীকে কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০টি।তাদের দুজনের ভোটের ব্যবধান ৪ হাজার ৬২৬।দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধানের চেয়ে স্থগিত কেন্দ্রের ভোট সংখ্যা কম হলে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এগিয়ে থাকা প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতে দেখা যায়।কিন্তু সিলেটে স্থগিত কেন্দ্র দুটির মোট ভোট সংখ্যা একটু বেশি, ৪৭৮৭টি। অর্থাৎ দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধানের চেয়ে ১৬১টি ভোট বেশি রয়েছে স্থগিত কেন্দ্র দুটিতে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেছেন, স্থগিত দুটি কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের নির্দেশ দেবে নির্বাচন কমিশন।সাধারণত মাস খানেকের মধ্যে এই ধরনের স্থগিত কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ হয়। সেই ভোটগ্রহণের পর এই ভোটের সঙ্গে প্রার্থীর নতুন ভোট যোগ হবে। তারপরই হবে চূড়ান্ত ফল।
এই দুই কেন্দ্রের ভোটারদের আবার ভোট দিতে হবে এবং তাতেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী মেয়র কে হবেন।