• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

সিটি ব্যাংকের খলনায়িকা পপি লাপাত্তা!


প্রকাশিত: ২:৫৮ এএম, ২৪ আগস্ট ১৯ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৬৪৭ বার

 

বিশেষ প্রতিনিধি : পুমা ক্যাপ পরিহিতা এই নারী’ই মনিরা সুলতানা পপি। অভিজাত গুলশান ব্যাংক পাড়ায় তার নাম ইতিমধ্যে সকলের মুখে মুখে। তিনি এখন ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির আসামী। নারী হয়ে এত বড় অংকের টাকার চাঁদা দাবি করে তিনি বাজারমাত করে ফেলেছেন। গুলশান থানা পুলিশ এখন তাকে হণ্য হয়ে খুঁজছেন। বাড়ির ঠিকানায় দেখেন দরজায় তালা। পপির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখেন সেখানেও সে নেই।

সিটি ব্যাংকের ভায়ায় মনিরা সুলতানা পপি খলনায়িকা। অনৈতিক সুবিধা দাবি এবং চাকরিরত অবস্থায় নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে পপি ব্যাপক বদনাম কুড়িয়ে শেষমেষ ব্যাংক কর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে মামলা করে এখন লাপাত্তা। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

দি সিটি ব্যাংক লিমিটেডের চাকরিচ্যুত অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিরা সুলতানা পপির বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ, নানা অনিয়ম, পূর্ব অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতি, অনৈতিক সুবিধা দাবি এবং চাকরিরত অবস্থায় নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কারণেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।সিটি ব্যাংক মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইনের ব্যক্তিগত সহকারী মনিরা সুলতানা পপির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা বিরোধী নানা অভিযোগ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল।

ব্যাংকের ফাস্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব কোর্ট অপারেশন এ কে এম আইয়ুব উল্যা’র দাায়েরকৃত মামলার কপি

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পে-রোল ব্যাংকিং বিভাগে তাকে বদলি করা হয়। কিন্তু বদলির পর’ও মনিরা সুলতানা পপি ‘র স্বভাব বদলায়নি। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে কোনো ধরনের পূর্ব অনুমতি ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের নিয়ম ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে তিনবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিস পাঠায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তারপরও তিনি কর্মস্থলে যোগদান না করায় এবং অননুমোদিত অনুপস্থিত থাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি পান।

এরপর তার প্রভিডেন্ট ফান্ড ঋণ, হাউজ বিল্ডিং ঋণ, ক্রেডিট কার্ড ও গাড়ির ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ খাতে মনিরা সুলতানা পপির কাছে তার চাকরিরত থাকাকালের যাবতীয় প্রাপ্ত টাকা সমন্বয় করার পরও ব্যাংকের প্রায় ১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য তাকে নোটিসও দেয়।

এমতাবস্থায় ব্যাংকের পাওনা প্রায় ১ কোটি টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য নানা টালবাহানা করেন মনিরা সুলতানা পপি। পাশাপাশি চাকরিরত অবস্থায় লেগেসি মেকওভার (বিউটি পার্লার), লেগেসি ইন্টারন্যাশনাল প্রি স্কুল অ্যান্ড ডে-কেয়ার (স্কুল), লেগেসি গ্লোবাল কনসালটেন্সি (এজেন্ট ব্যাংকিং), এনএমসি এন্টারপ্রাইজ (এজেন্ট ব্যাংকিং) নামে চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি। যা সিটি ব্যাংকের সঙ্গে তার চাকরির শর্তের পরিপন্থি ছিল।

এইসব অনিয়মের কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হলে পপি এবার তার আসল রুপে আর্বিভূত হয়। ব্যাংকের প্রধান ৩ কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ ও বোর্ড সেক্রেটারি কাফি খানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।এমনকি যৌন হয়রানির অভিযোগ থেকে বাঁচলে চাইলে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন পপি। এতে প্রত্যাখাত হওয়ার পর চাকরিচ্যুত পপি তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা দায়ের করেন। যাতে আসামী করা হয় ব্যাংকের শীর্ষ ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিটি ব্যাংকের ওই শাখা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় আবৃত। সেখানে যৌন হয়রানি হলে তা তাতক্ষণিকভাবে ক্যামেরায় ধরা পড়ত। তার এই প্রতারণা’র বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির মামলা করতে বাধ্য হন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ব্যাংকের ফাস্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব কোর্ট অপারেশন এ কে এম আইয়ুব উল্যা বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার তদন্তভার দেয়া হয়েছে গুলশান মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স ম কাইয়ূম কে।

তিনি জাতিরকন্ঠ কে বলেন, সিটি ব্যাংক কে কেন্দ্র করে মনিরা সুলতানা পপি ও ফাস্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড অব কোর্ট অপারেশন এ কে এম আইয়ুব উল্যা’র দায়ের করা দুটি মামলা তিনি খতিয়ে দেখছেন। এসব ঘটনায় এখনও তিনি ভাসমান আছেন এবং খোঁজখবর নেয়া শুরু করেছেন। তদন্তে বেরিয়ে আসবে আসল ঘটনা।