যুবলীগে ক্ষুদ্ধ প্রধানমন্ত্রী-শুদ্ধি অভিযানে আসছেন শেখ মারুফ!
শফিক রহমান : এবার যুবলীগে শুদ্ধি অভিযান হবে। চাঁদাবাজ নেতাদের পরিণতি হবে শোভন রাব্বানির মতো। এদের স্থলে সৎ যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব আনছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে তিনি হোমওয়ার্ক সম্পন্ন করে ফেলেছেন। কাকে কোথায় কি দায়িত্ব দেয়া হবে তাও নির্ধারিত করবেন নেত্রী। আওয়ামী লীগের একাধিক সৎ দক্ষ নেতৃত্ব সূত্রে জানা গেছে খুব শিগগির যুবলীগের নেতৃত্বে রদবদল করা হচ্ছে। এরমধ্যে যুবলীগ চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আনার প্রক্রিয়া চলেছে শেখ মারুফকে।
দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর আগামী অক্টোবরে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। যুবলীগের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, রাজনীতির বাস্তবতায় যুবলীগের কাউন্সিল করা হয়নি। যার ফলে যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে যুবলীগ পরিচালনা করছেন। এবার পরিবর্তন হতে পারে নেতৃত্ব।
যুবলীগের নেতৃত্বে কে আসবে এনিয়ে নানা আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এটা চুড়ান্ত করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের চাওয়া শেখ মারুফকে যুবলীগের চেয়ারম্যান করা হোক। কারণ শেখ মারুফ হচ্ছেন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ও সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছোট ভাই। তিনি এখন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শেখ মারুফের এক ভাই শেখ ফজলুল হক মনি যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা।
যুবলীগের পরিবর্তন যে আসন্ন তা খোদ প্রধানমন্ত্রীই গতকাল শনিবার গনভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় বলেছেন। তিনি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে শোভন-রাব্বানীকে অপসারণের নির্দেশ দেয়ার পর যুবলীগের কিছু নেতার কর্মকাণ্ড নিয়েও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগের সদ্য অব্যাহতি পাওয়া সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে তুলনা করে যুবলীগের কিছু নেতার উদ্দেশে বলেন, ‘এরা আরও খারাপ’। প্রধানমন্ত্রী নিজের জন্মদিন পালনে যুবলীগের উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন।
শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।ওই বৈঠকসূত্র জানায়, যুবলীগ প্রসঙ্গে বৈঠকে আলোচনার সূত্রপাত ঘটান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক। বৈঠকের এজেন্ডায় উল্লেখ থাকা শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দল সাড়ম্বরে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করতে চায়। কিন্তু শেখ হাসিনা জন্মদিন পালন নিয়ে অনীহা প্রকাশ করলে নানক যুবলীগের শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।
পরে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এ কথা উল্লেখ করে বলেন, শনিবার যুবলীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনাসভা করেছে। তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা বলেন, চাঁদাবাজির টাকা বৈধ করতে মিলাদ মাহফিল করা হয়েছে। নিজের জন্য এমন মিলাদ মাহফিল তিনি চান না। এর পর যুবলীগ নিয়ে তার কাছে আসা নানা অভিযোগ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা (ঢাকা মহানগর যুবলীগের একটি অংশের সভাপতি) ক্রসফায়ার থেকে বেঁচে গেছেন। আরেকজন এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে বের হয়নি, অস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিবাদ করেনি। যখন দলের দুঃসময় ছিল, তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, টানা তিন বার সরকারে আছি। অনেকের অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু আমার সেই দুর্দিনের কর্মীদের অবস্থা একই আছে। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেন, তারা সাবধান হয়ে যান- এসব বন্ধ করুন।দলীয় পদ ও সরকারের দায়িত্বশীল পদে আসীন ব্যক্তিদের আত্ম-অহমিকা ও ক্ষমতার জোরে অর্থ ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।অস্ত্রবাজ-চাঁদাবাজদের হুশিয়ার করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান- এসব বন্ধ করুন। তা না হলে যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে।



