• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

মোদিবিরোধী বিক্ষোভ উত্তাল রোববার সারাবেলা হরতাল


প্রকাশিত: ১১:৫৫ পিএম, ২৬ মার্চ ২১ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৯৫ বার

বিশেষ প্রতিনিধি/মতিঝিল প্রতিনিধি : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকাসহ সারাদেশের বিভিন্নস্থানে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে হেফাজতে ইসলামসহ বেশ কয়েকটি ইসলামপন্থি সংগঠনের। এর মধ্যে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বেগ পেতে হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এসময় পুলিশের সঙ্গে অ্যাকশনে যোগ দেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও। আজ জুমার নামাজ শেষে এ সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

হাটহাজারীতে নিহত -৪

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে হাটহাজারীতে পুলিশের গুলিতে ৪ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শিলব্রত বড়ুয়া জাতিরকন্ঠ কে চার জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাটহাজারী থেকে ৪ জন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে চমেক হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। এখনো তাদের পরিচয় জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এদিকে সংঘর্ষের সময় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা হাটহাজারী থানায় ভাংচুর চালায়। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম -খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। আশেপাশের দোকানপাট বন্ধ আছে। সেখানে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

রণক্ষেত্র বায়তুল মোকাররম-

সরেজমিনে দেখা গেছে, জুমার নামাজ শেষে নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করে হেফাজতে ইসলামসহ বেশ কয়েকটি ইসলামপন্থি সংগঠন। এসময় পুলিশ বাধা দিলে মুসল্লিদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদেরও মুসল্লিদের দিকে ইটপাটকেল ছুুড়তে দেখা যায়। মুসল্লিরা মসজিদের ভেতরে অবস্থান নিয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। উভয়পক্ষে দীর্ঘক্ষণ চলে তুমুল সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে। জলকামান নিয়ে টহল দিতে দেখা যায়। সংঘর্ষে গণমাধ্যম কর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত উভয়পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও তুমুল সংঘর্ষ চলে।

রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল-

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেতা-কর্মী ও প্রতিবাদী মুসল্লিদের হত্যা ও হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ এবং রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। শুক্রবার রাত আটটায় পুরানা পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আবদুর রব ইউসুফী এই ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে চট্টগ্রাম থেকে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী একটি ভিডিও বার্তায় কর্মসূচির বিষয় জানান।

হেফাজতের প্রচার সেলে সদস্য মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন মানবজমিনকে জানান, ঢাকার ডেমরা ও উত্তরায় বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে আবদুর রব ইউসুফী বলেন, হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর পক্ষে আমি এই কর্মসূচি ঘোষণা করছি। তিনি বলেন, ঢাকার বায়তুল মোকাররমে, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদী মুসল্লিদের ওপর পুলিশ ও সরকারি দলীয় ক্যাডার বাহিনী হামলা করে পাঁচনজনকে শহীদ করেছে। অসংখ্য মুসল্লিকে আহত করেছে এবং গ্রেপ্তার করেছে। এর প্রতিবাদে এই কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।