মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী ছিল জামালপুর কমিউটারে
সরেজমিনে এস রহমান টঙ্গি থেকে : গাজীপুরের টঙ্গীতে জামালপুর কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে চারজন নিহত হওয়ার
নেপথ্যে মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ছিল জামালপুর কমিউটারে। ঘটনার পর সরেজমিনে খোঁজ নেযা হলে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে ভুক্তভোগী ট্রেন যাত্রীদের কাছ থেকে।
এই ট্রেনে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী গাজীপুরের সাইদুর রহমান ভূঞা অনলাইন দৈনিক জাতিরকন্ঠকে জানান, জামালপুর কমিউটারে এমন কোন দিন নেই যে মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো হয় না। ট্রেনের ভিতর বাদুর ঝোলা অবস্থায় যাত্রী নেয়া হয়। ফলে অনেক যাত্রী ছাদে উঠে গন্তব্যস্থলে যেতে বাধ্য হয়।
তিনি দাবি করেন, রেল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই এই অবৈধ কর্ম করছে জামালপুর কমিউটার ট্রেন মালিক কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে এটি একটি বেসরকারি মালিকানাধীন ট্রেন। রেল সূত্রে জানা গেছে এই ট্রেন মালিকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও তা কোন সময় আলোর মুখ দেখেনা রহস্যজনক কারণে।
সরেজমিনে জানা গেছে, রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গীর নতুনবাজার এলাকায় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটি লাইনচ্যুত হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।ওই দুর্ঘটনার পর রেল লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।
পাঁচ ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৫টায় রিলিফ ট্রেন এসে আপ লাইন (ঢাকা থেকে আসা রেললাইন) ক্লিয়ার করলে সেই পথে ট্রেন চলাচল শুরু হয় বলে টঙ্গীর স্টেশন মাস্টার হালিমুজ্জামান জানান।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামালপুর কমিউটার ট্রেনটি স্টেশনের ২ নম্বর লাইন দিয়ে আসছিল। স্টেশনে পৌঁছার পর সেটি লাইন বদলানোর সময় ভুল সিগন্যালের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হালিমুজ্জামান জানান, ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার পর ছাদে থাকা যাত্রীরা লাফিয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের পর দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বলা যাবে।এদিকে আহতদের মধ্যে সাতজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে একজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই বাবুল মিয়া।



