মলদ্বারে সুচ রাখা ডাক্তারদ্বয় কুপোকাত
এস রহমান/প্রদীপ শীল : অবশেষে মলদ্বারে অপারেশনের পর সুচ রেখে সেলাই করে দেয়ার মামলায় চট্টগ্রামের দুই চিকিৎসককে বিরুদ্ধে অভিযোগ
গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। ওই দুই চিকিৎসককে মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ খারিজ করে দিয়ে সোমবার বিচারপতি মো. আব্দুল হাকিম ও এস এম মুজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক হলেন- চট্টগ্রামের জেষ্ঠ্য শল্য চিকিৎসক সুরমান আলী এবং জাকির হোসেন। বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ২০১৬ সালে চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত দুই আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছিলেন। আদেশের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত সেটাও খারিজ করে দেন। এরপর বাদি হাইকোর্টে নিম্ন আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেন। হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের আদেশ খারিজ করে দিয়েছেন।
২০১২ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে রোগী আমিনুল ইসলামের মলদ্বারে অস্ত্রোপচার করেছিলেন অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক। অস্ত্রোপচারের কয়েকদিন পর আমিনুল মলদ্বারে ব্যথা অনুভব করলে তারা দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে রেডিওলজিস্ট দেবাশীষ দত্ত অস্ত্রোপচার করে সেখান থেকে সুচ বের করেন।
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি সুরমান আলী ও জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেন আমিনুলের মা দেলোয়ারা বেগম। আদালত এই অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।২০১৪ সালের ৩০ মে পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন ওই দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২৪ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট এ মামলার আসামি দুই চিকিৎসককে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দেন চট্টগ্রামের তৎকালীন মুখ্য মহানগর হাকিম মশিউর রহমান চৌধুরী।এর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দাখিল করেন দেলোয়ারা বেগম। ২০১৬ সালের ৮ মে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শাহে নূর রিভিশন খারিজ করে দেন।



