• বৃহস্পতিবার , ৮ অক্টোবর ২০২৬

বিমানে ভরপুর হচ্ছে বাংলাদেশ


প্রকাশিত: ১১:৫০ পিএম, ৭ অক্টোবর ২৬ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৫১ বার

‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শিরোনামের ওই চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিমানের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন, এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়োর্গেন ওয়েস্টারমেয়ারসহ বাংলাদেশ সরকার, বিমান ও এয়ারবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

বিশেষ প্রতিনিধি : বিমানে ভরপুর হচ্ছে বাংলাদেশ। আগে বোয়িংয়ের ২৫টির পর এবার এয়ারবাসের ১০টি বিমান কিনছে বাংলাদেশ সরকার। সরকার এবার এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন্স বিমান বাংলাদেশ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ফ্রান্সভিত্তিক কোম্পানিটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি করে। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে ইউরোপীয়দের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক প্রচেষ্টা ফল পেতে যাচ্ছে।

এর আগে মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করেছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটি।সব মিলিয়ে বিএনপি সরকারের ক্ষমতায় আসার আট মাসের মধ্যে বিমানের জন্য মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা এল।বিমানের বহরে এখন কোনো এয়ারবাস নেই। দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস বাংলা বেশ কয়েকটি এয়ারবাস ব্যবহার করছে।

‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শিরোনামের ওই চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিমানের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন, এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়োর্গেন ওয়েস্টারমেয়ারসহ বাংলাদেশ সরকার, বিমান ও এয়ারবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিমানের চেয়ারম্যান ও এয়ারবাসের দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোম্পানির তরফে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।অনুষ্ঠানে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, স্পেনের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনাররা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঢাকা মিশন প্রধান মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।চুক্তি অনুযায়ী এয়ারবাসের কাছ থেকে চারটি সুপ্রশস্থ (ওয়াইড) বডির এ-৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি ন্যারো বডির এ-৩২১ নিও উড়োজাহাজ কিনছে বিমান।

এয়ারবাসের দাবি অনুযায়ী, এ-৩৫০-৯০০ মডেলের ওয়াইড বডির উড়োজাহাজগুলো ২৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ী ও কম কার্বন নিঃসরণ করে। বিজনেস ক্লাস, ইকোনমি ফার্স্ট ক্লাস ও ইকোনমি ক্লাস এরকম তিন শ্রেণির আসন বসালে এ মডেলের একেকটি উড়োজাহাজে ৩৩২ থেকে ৩৫২ জন যাত্রী বসতে পারেন। শুধু ইকোনমি ক্লাসের আসন বসালে এ মডেলের একটি উড়োজাহাজে ৪৮০ পর্যন্ত আসন বসানো যায়।একটি ৩৫০-৯০০ মডেলের উড়োজাহাজ একেবারে ১৮ হাজার কিলোমিটারের মতো উড়তে পারে বলে দাবি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের।

এয়ারবাস এ ৩২১- নিও সিরিজের উড়োজাহাজগুলো মাঝারি সংখ্যক যাত্রী ধারণ ক্ষমতার। এ মডেলের উড়োজাহাজ একেবারে সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারবে। ফার্স্ট ক্লাস বা বিজনেস ক্লাসসহ দুই শ্রেণিতে এই ধরনেরর একেকটি উড়োজাহাজের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ১৮০ থেকে ২২০ জন। শুধু ইকোনমি আসন বসালে এই উড়োজাহাজে ২৪৪টি পর্যন্ত আসন বসানো যেতে পারে।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর এক বিফ্রিংয়ে এয়ারবাস কেনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।তখন তিনি বলেছিলেন, ভূরাজনৈতিক চাপে নয়, যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই এসব উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। যদিও বোয়িং কেনার বিষয়ে সেপ্টেম্বরেই তিনি বলেছিলেন, ডনাল্ড ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ীই ১৪টি বোয়িং কেনা হচ্ছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পরে চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আর ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের চাপের মধ্যে বোয়িং কেনার পথে পা বাড়ায় বিমান।

এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বাংলাদেশ এয়ারবাস থেকে ১০টি বড় উড়োজাহাজ ‘কেনার প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে।

তখন এয়ারবাস থেকে আটটি যাত্রীবাহী ও দুটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ কেনার বিষয় ‘পর্যালোচনার’ মধ্যে তখন মার্কিন কোম্পানি বোয়িংও তৎপর হয়ে ওঠে। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে দুপক্ষেরই দেনদরবার চলে। এর মধ্যেই ২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের।এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছর যে বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করেন, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে।

ট্রাম্পের ৩৫ শতাংশ শুল্কের চাপ সামলাতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা নিয়েই বিএনপি সরকার এপ্রিলে প্রথমে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি করে। পাঁচ মাসের মাথায় আরও ১১টি বিমান কেনার চুক্তির ঘোষণা আসে সরকারের তরফেণ অর্থাৎ সব মিলিয়ে ২৫টি বোয়িংয়ের এয়ারক্রাফট কিনবে বাংলাদেশ।

বোয়িং কেনার এসব ঘোষণা আর চুক্তির খবরের মধ্যে এয়ারবাস বিক্রি করতে সরকারের ভেতরে লবিং আর কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছিল ইউরোপের দেশগুলো।ঢাকায় ফ্রান্সের নতুন রাষ্ট্রদূত ২২ সেপ্টেম্বর বলেন, “আমি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের উপর জোর দিচ্ছি এবং এটা এমন এক বার্তা, সেটা বর্তমান সরকারের কাছেও আমরা দিচ্ছি। কেননা, আমরা মনে করি এটা অত্যাবশ্যকীয়।
“আমি মনে করি এটা বর্তমান সরকারের জন্য ভালো পরীক্ষা এবং এই সরকার এবং বিমানের প্রতি আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে।”

এর এক সপ্তাহের মাথায় বিমানমন্ত্রী এয়ারবাস কেনার ঘোষণাও দেন। ঘোষণার এক সপ্তাহ পরেই হচ্ছে এই আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর।অনুষ্ঠানে বিমানের এমডি কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, এ ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজগুলো দিয়ে দূরপাল্লার এবং এ ৩২১- নিও সিরিজের উড়োজাহাজগুলো দিয়ে আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা বিমানের।

বাংলাদেশ বিমান এর আগে দুই দফায় যে ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি করেছে তার মধ্যে ১৩টি ওয়াইড বডির ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ১০টি ন্যারো বডির ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে।বিমানের বহরে আগে যুক্ত হওয়া ছয়টি ড্রিম লাইনার এখনো ট্রিপে আছে, এগুলো ৭৮৭-৮ ও ৭৮৭-৯ মডেলের।

এখন পর্যন্ত বিমান ২৪টি আন্তর্জাতিক ও সাতটি অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে চলাচল করছে। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকায় কেবল কানাডার টরন্টো এবং ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার এবং ইতালির রোমে বিমানের ফ্লাইট রয়েছে। বাকি ফ্লাইটগুলো সব মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মধ্যেই। নতুন যুক্ত হওয়ার ৩৫টি উড়োজাহাজ দিয়ে বিমান পুরো মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় যেতে পারবে।