উপকূলের ভাগ্য বদলাতে খুলনা বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন।
বিশেষ প্রতিনিধি খুলনা থেকে : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা খুলনা ও বাগেরহাটে প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী এক সরকারি সফর সম্পন্ন করেছেন তারেক রহমান। অবহেলিত এই উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের রূপরেখা তৈরি করতে তাঁর এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সকাল ৮:৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং সকাল ৯:০০ টায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে খুলনার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। খুলনায় নামার আগে সকাল ১০:০০ টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং হিরণ পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকা আকাশপথ থেকে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। বিশ্ব ঐতিহ্যের এই ম্যানগ্রোভ বনকে রক্ষা করে কীভাবে পরিবেশবান্ধব পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটানো যায়, তা যাচাই করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।
আকাশপথের পর্যবেক্ষণ শেষে সকাল ১০:২৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি খুলনার দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের দুর্গম উপকূলীয় এলাকা নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তৈরি করা অস্থায়ী হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম দেশের কোনো সরকারপ্রধান নলিয়ানের মাটিতে পা রাখলেন। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং নলিয়ান বাজার মোড়ে তাঁর আগমন উপলক্ষে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ জমায়েত হন। প্রধানমন্ত্রী গাড়ি ব্যবহার না করে পায়ে হেঁটে সাধারণ মানুষের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষের সাথে হাত মিলিয়ে তাদের দুঃখ-দুর্দশার খোঁজখবর নেন।
নলিয়ান বাজার মোড়ের সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান এবং সকাল ১০:৪৮ মিনিটে কোস্টগার্ডের একটি বিশেষ জাহাজে আরোহণ করে নদীপথে বাগেরহাটের মোংলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দাকোপ থেকে পশুর নদী হয়ে নদীপথের প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং উপকূলীয় বেড়িবাঁধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে করতে দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর জাহাজটি বাগেরহাটের নৌবাহিনী ঘাঁটি বানৌজা মোংলা জেটিতে এসে পৌঁছায়। সেখানে তিনি ঘাঁটির ওয়ার্ডরুমে মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করে কিছু সময় বিশ্রাম নেন।
মধ্যাহ্নবিরতি শেষে বিকেল ১:৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে একটি বিশেষ প্রশাসনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার এবং খুলনা ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন।
দুপুরের বৈঠক শেষ করে বিকেল ৩:০০ টায় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম দেখতে যান। তিনি বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্প, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং চলমান জেটি সম্প্রসারণের কাজগুলো ঘুরে দেখেন। মোংলা বন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যিক হাবে রূপান্তর করার জন্য দ্রুত প্রকল্প শেষ করার তাগিদ দেন তিনি।
এরপর বিকেল ৩:১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের পাশেই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA) এর জন্য নির্ধারিত প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকা পরিদর্শন করেন। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং স্থানীয় যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গতি আনার বিষয়ে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক কর্মসূচি সফলভাবে সমাপ্ত করে বিকেল ৪:০০ টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে মোংলা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল ৫:০০ টায় তাঁর রাজধানী ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে সুন্দরবনের পর্যটন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন আশার আলো দেখছে স্থানীয় মানুষ।




