• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

বায়েজিদ জনতার পুলিশ হননি বলে!


প্রকাশিত: ৬:১৬ পিএম, ২ আগস্ট ১৮ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১০৩ বার

 

বিশেষ প্রতিনিধি : বৃহস্পতিবার দুপুর তখন আড়াইটা। ট্রাফিক সার্জেন্ট বায়েজিদের বাইকের লাইসেন্স ছিলনা বলে উত্তেজনার পারদ বাড়ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তারপরও ওই ট্রাফিক সার্জেন্ট নিজের পুলিশী ভাব ছাড়েননি। বরং তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশগিরি দেখিয়েছেন! কিন্তু তিনি জনতার পুলিশ হতে পারেননি।

অথচ রাস্তায় তিনি যখন ডিউটি করেন তখন অন্যে কারো বাইকের বা গাড়ীর লাইসেন্স না থাকলে তিনি যেভাবে ফাইন করেন কিংবা পাবলিককে অপদস্ত করেন সেটা কিন্তু আজ ভাবার সময় হয়েছে দেশের সকল পুলিশের। আজকের শিক্ষা সকল পুলিশকে নিতে হবে। যদিও ঢাকার পুলিশ কমিশনার ইতিমধ্যে সকল পুলিশ সদস্যকে লাইসেন্স সঙ্গে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

বলা বাহুল্য পুলিশকে এ নির্দেশনা দিতে হতোনা পুলিশ কমিশনারকে যদি পুলিশ নিজেকে জনতার পুলিশ ভাবতো। কারণ, আগে নিজে আইন মানতে হবে পরে অন্যকে মানাতে হবে-এটাই তো নিয়ম হওয়ার কথা।কিন্তু পুলিশ তা করছেনা বলে পুলিশ কমিশনার নিজে ছোট হয়ে আজ নির্দেশনা দিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁর বাহিনীর– দেখে?

যদিও শিক্ষার্থীরা আইন হাতে তুলে নিয়ে অপরাধ করেছে; তারা বরং ওই সার্জেন্ট বায়েজিদকে লাইসেন্স ছাড়া বাইক চালানোর অপরাধে তাকে স্থানীয় থানায় সোপর্দ করতে পারতো।কিন্তু তারা আইন হাতে তুলে নিয়ে মারাত্মক অন্যায় করেছে।এই অপরাধ অবশ্যই তাদের শাস্তিযোগ্য। কারণ, আইন সবার জন্যে সমান। তাই যারা অন্যায়ভাবে করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত।তানাহলে বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদবে-যা হতে দেয়া যায়না!

যাহোক-
নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দালনের মধ্যে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে এক ট্রাফিক সার্জেন্টের ওপর হামলা চালিয়ে তার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট বায়েজিদের মোটর বাইকের লাইসেন্স দেখতে চায় শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তিনি লাইসেন্স না দেখিয়ে বরং ছাত্রদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্র।তিনি বলেন, ওই পুলিশ সার্জেন্ট আমাদের একজনকে ধাক্কা দেয়। তখন ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে তিনি মোটর বাইক ফেলে দৌঁড় দেন। পরে তাকে ঘিরে ফেলে পিটুনি দেওয়া হয়।আহত ট্রাফিক সার্জেন্ট বায়েজিদকে পরে সায়েন্স ল্যাব মোড়ের পুলিশ বক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে বিক্ষোভকারীরা তার মোটরসাইকেলটি জ্বালিয়ে দেয়।এ ঘটনার পর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্স ঘিরে উত্তেজনা চলছে।

এদিকে সাইন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে ট্রাফিক সার্জেন্টের মোটরবাইক পোড়ানোর ঘটনায় কোনো মামলা দায়েরের খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ওসি ধানমন্ডী জাতিরকন্ঠকে জানান এ বিষয়টি নিউমার্কেট থানা দেখছেন। তবে নিউমার্কেট থানার ওসি জাতিরকন্ঠকে জানান, ধানমন্ডী থানার অফিসাররা সার্জেন্ট বায়েজিদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়েছেন বিষয়টি তারাই দেখছেন।