বনানীতে কান্না থামছেনা: নিহত ৭

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর বনানীর বহুতল এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ আগুনে ৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ২৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন নিহত শ্রীলংকার নাগরিক। নিহত আহত স্বজনদের কান্নায় বনানীর পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। তবে আহত নিহতের এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরমান আলী।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে মতে তিনি জাতিরকন্ঠ কে বলেন, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পারভেজ সাজ্জাদ (৪৭), আমেনা ইয়াসমিন (৪০), মো. মামুন (৩৬), শ্রীলঙ্কার নাগরিক নিরস চন্দ্র, আবদুল্লাহ আল ফারুক (৩২), মাকসুদুর রহমান (৬৬) ও মো. মনির (৫০)।পুলিশ জানায়, আমেনা মারা গেছেন অ্যাপোলো হাসপাতালে। পারভেজ সাজ্জাদ বনানী ক্লিনিকে, নিরস চন্দ্র কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এবং মামুন, মাকসুদুর ও মনির ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা গেছেন। তাদের লাশ সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
বিকালে সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর এফ আর টাওয়ার থেকে আরও একজনের পোড়া লাশ নামিয়ে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এফআর টাওয়ার থেকে উদ্ধার করে পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের মধ্যে একজনকে বার্ন ইউনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়।শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সর্দার জাতিরকন্ঠ কে জানান, আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৩২)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভনিং এমবিএ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছিলেন।
কুর্মিটোলা হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রফিকুননবী জাতিরকন্ঠ কে জানান, অন্তত ৩০ জনকে তার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে নিরাস চন্দ্র নামের এক শ্রীলঙ্কান নাগরিককে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।সে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছিলেন। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতাল আনা হয়।যাদের কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ কেউ নেই। অধিকাংশই ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অথবা লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন বলে জানান পরিচালক।
আএসপিআরের সহকারী পরিচালক রাশেদুল ইসলাম খান জাতিরকন্ঠ কে জানান, ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত পাঁচজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক কর্নেল এসএম জুলফিকার রহমান জাতিরকন্ঠ কে বলেন, “২২ তলা ভবনের সব ফ্লোরেই আমাদের কর্মীরা যাচ্ছেন, কেউ আটকা পড়ে থাকলে বা হতাহত থাকলে তাদের উদ্ধার করার জন্য তল্লাশি চালাচ্ছেন।”



