• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

প্রিয়াসাহা’র বক্তব্যের নেপথ্যে বারাকাত!


প্রকাশিত: ৯:২৮ পিএম, ২১ জুলাই ১৯ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৮৩ বার

 

বিশেষ প্রতিনিধি : পরিবারসহ আতংকে প্রিয়া সাহা এবার বললেন আসল কথা। তিনি দাবি করলেন তার বক্তব্যের নেপথ্যে তথ্য আবুল বারাকাত এর। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ করে আলোচিত প্রিয়া সাহা তার বক্তব্যের একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যেখানে তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথা বলেছেন।

প্রিয়া সাহার দাবি, ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের নিখোঁজ হওয়ার যে তথ্য তিনি ট্রাম্পকে দিয়েছেন,তা সরকারি পরিসংখ্যান থেকেই নেওয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারকাত ওই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ২০১১ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা সে সময় গণমাধ্যমেও আসে।

এদিকে এক ভিডিও বার্তায় ‘‘আমি ভালো নেই, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর লড়াইকেই উপস্থাপন করতে চেয়েছি, নিশ্চয়ই নীতিনির্ধারকরা আমার অবস্থান বুঝবেন’’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রিয়া সাহা। প্রিয়া সাহাসহ আট সংখ্যালঘু ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল জানিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন অ্যাম্বাসী।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে এরইমধ্যে সামাজিক ও আইনি ঝামেলায় পড়েছেন হিন্দু খ্রিষ্টান বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা। বাংলাদেশে যখন তাকে নিয়ে মামলার প্রস্তুত নিচ্ছেন অনেকে তখন ইউটিউবে এক সাংবাদিকের সঙ্গে ইন্টারভিউ প্রচার হয় প্রিয়া সাহার। সেখানে শুরুতেই প্রিয়া সাহা দাবি করেন তিনি একা শুধু খারাপ আছেন তা না । তার পুরো পরিবার সংকটে পড়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তার বাড়ির সামনে মিছিল ও বিক্ষোভের কারণে অনিরাপত্তায় ভুগছেন বলে জানান প্রিয়া। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় প্রিয়া বলেন, দেশ ভাগের সময় দেশে ২৯.৭ শতাংশ সংখ্যালঘু হিন্দু ছিল তা হ্রাস পেয়ে এখন মোট জনসংখ্যার দশভাগের নীচে চলে এসেছে। আর এই ঘটনার জন্য তিনি বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের ঘটনাকে দায়ী করেন।

এসময় তিনি বলেন, আপনারা কি অস্বীকার করতে পারবেন ২০০১ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগ সরকারকে কী নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছিল। কতটা সংগ্রাম করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন তা কিভাবে আপনারা অস্বীকার করবেন এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। এসময় অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাতের একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে সংখ্যালঘুদের সংকটের চিত্রই তিনি তুলে ধরেছেন বলেও জানান প্রিয়া।

তিনি বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার। প্রিয়া সাহা বলেন, ‘২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, সেটা সকলেই জানেন। আর আমার নিজ গ্রামে ২০০৪ সালে ৪০টি হিন্দু পরিবার থাকলেও এখন সেই সংখ্যা মাত্র ১৩টি।’

যুক্তরাষ্ট্রে তিন কিভাবে গিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আমন্ত্রণে আমি এখানে এসেছি। যুক্তরাষ্ট্র সরকার থেকে আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও যোগ দেওয়ার উদ্দেশে আমি এখানে আসি। আমি হঠাৎ করেই এখানে আসি। সে কারণে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদেও নেতারা সেটা জানেন না। ঐক্য পরিষদের নেতা রানা দাশ গুপ্ত বা বাদল দা এখানে আসার কথা জানতেন না।’গ্রীন কার্ডের জন্য তিনি এ আচরণ করেছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন,২০১৪ সাল থেকে আমি যুক্তরাষ্ট্রে আসি। গ্রিন কার্ড পেতে প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত আসতে হয় কিনা এমন প্রশ্নও তোলেন প্রিয়া।

নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, সাওতালদের উপর হামলাসহ বিগত ৪৭ বছরে বিভিন্ন হামলার কথা জানিয়ে প্রিয়া বলেন, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হওয়া কী মিথ্যা। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সংখ্যক মানুষ এই বক্তব্যকে বিকৃত করে অন্য খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এসময় তিনি বলেন , পরিকল্পিত বক্তব্য না হওয়ায় ও শব্দগত ত্রুটির কারণে বক্তব্যে সামন্য ভুল হয়ে থাকতে পারে। পুরো বক্তব্যে প্রিয়া প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার প্রশংসা করেন। এবং তার এই আন্দোলন প্রধানমন্ত্রীর আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আন্দোলন বলেও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন , নীতিনির্ধারকরা অবশ্যই বুঝবেন কেন এই বক্তব্য দিয়েছি।’’

এদিকে প্রিয় সাহা কিভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন জানতে চাইলে, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক কমকর্তা জানান যে, অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নিয়েছেন সেই অনুষ্ঠানেই অংশ নিতে প্রিয়াসাহ সহ আট সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।