• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

পৈশাচিক খুনী’র লোমহর্ষক জবানবন্দী


প্রকাশিত: ৩:৩২ পিএম, ২৬ জানুয়ারী ১৯ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৯৭ বার

 

শ্রীপুর প্রতিনিধি : পৈশাচিক কায়দায় স্বামীকে খুন করে সেই খুনের লোমহর্ষক জবানবন্দী দিলেন স্ত্রী জেবুন নাহার। আজ শনিবার আদালতে জেবুন নাহার এই জবানবন্দী দেন। পুলিশ জানায় তার স্বামী চাকরি করতেন। পাশাপাশি স্ত্রী জেবুন নাহারেরও চাকরি ছিল। যা বেতন পেতেন তা থেকে তিনি প্রতিমাসে নিজের মা-বাবাকে কিছু টাকা দিতে চাইতেন। কিন্তু স্বামী রফিকুল ইসলাম শেখ নাকি তাতে বাধা দেন। শুধু বাধাই নয়, বিভিন্ন সময় মারধরও করেন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন জেবুন নাহার।

এর জের ধরেই নাকি ধীরে ধীরে স্বামীর ওপর আক্রোশ তৈরি হয় জেবুন নাহারের মনে। পর একদিন ঝগড়া বাঁধলে স্বামীকে হত্যাই করেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুরে। শুক্ররাত রাতে পুলিশ তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে তিনি ওই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানিয়েছেন, জেবুন নাহার আদালতে আজ শনিবার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন।

শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জেবুন নাহার জানিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার সকালে স্বামীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে ইট দিয়ে রফিকুলের মাথায় আঘাত করেন তিনি। এতে রফিকুল অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ ওয়ারড্রবের ভেতর রেখে কর্মস্থলে চলে যান। এ সময় তাদের মেয়ে পাশে তার ছোট বোনের বাসায় ছিল।

রাত ৮টার দিকে কর্মস্থল থেকে ফিরে ১১টা পর্যন্ত তিনি বোনের বাসায় ছিলেন। সেখানেই রাতের খাবার খান জেবুন। রাত ১১টার দিকে নিজের বাসায় গিয়ে ওয়ারড্রব থেকে স্বামীর মরদেহ বের করে প্রথমে দুই পা কাটেন। পরে দুই হাত কেটে মাথাও বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন।

ছয় টুকরো করা মরদেহটি গুমের উদ্দেশ্যে একটি বস্তায় ভরে ফেলেন। পরে দুই হাত ও বিচ্ছিন্ন মাথা ময়লার ড্রামে ফেলেন। এরপর বাসা থেকে কয়েকশ গজ দূরে ময়লার ভাগাড়ে বস্তাবন্দি দেহটি ফেলে আসেন। এর প্রায় ৪০০ গজ দূরে শৌচাগারের পেছনে নিয়ে ফেলেন পায়ের দুটি টুকরো। শৌচাগারের পাশে দুই হাত ও খণ্ডিত মাথা রাখা ড্রামটিও ফেলে যান। সবশেষে ব্যবহৃত বটিটিও বাইরে লুকিয়ে রাখেন জেবুন নাহার।

এসআই শহিদুল ইসলাম মোল্লা বলেন, জেবুন নাহারের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রাতেই নৃশংসতায় ব্যবহৃত বটিটি জব্দ করা হয়েছে।শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় রফিকুল ইসলামের বাবা আব্দুল লতিফ বাদী হয়ে জেবুন নাহারকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন।