• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

‘পাপুলদের অপকর্ম দায় সরকারের’


প্রকাশিত: ৩:১৮ পিএম, ১০ জুন ২০ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৮৫ বার

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ১২ বছরে এ দেশে ক্যাসিনো ক্যাপিটালিজমের জন্ম দিয়েছে সরকার। কুয়েতে লক্ষ্মীপুরের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল গ্রেপ্তার তারই বহিঃপ্রকাশ। পাপুলদের অপকর্মের দায় সরকার এড়াতে পারে না। আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে রিজভী এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, মানবপাচার ও হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে কুয়েতে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যা বাংলাদেশের জন্য চরম লজ্জার হলেও সরকারের টনক নড়েনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের হিড়িক চলে। বর্তমানে এমপি হতে ভোটের প্রয়োজন হয় না। নির্বাচনের আগের রাতেই নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাতের ভোটে সংসদ সদস্য বানিয়ে দেন। লক্ষ্মীপুরের সেই সংসদ সদস্য তারই একটি উদাহরণ। বিএনপি নেতা বলেন, ১২ বছরে সুইস ব্যাংকসহ মালয়েশিয়া, কানাডায় লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ব্যাংক লুট, শেয়ার বাজার লুট, মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার মহাদুর্নীতি, দখল ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশজুড়ে যে লুটের মহোৎসব চলছে কুয়েতে সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার তারই একটি নমুনা মাত্র।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকটাই অপরিচিত, শুধু পাপুলই একাই সংসদ সদস্য হননি, তাঁর স্ত্রীকেও এমপি বানিয়েছেন। যাদের ধনস্ফীতির কোনো বৈধ উৎস জানা যায় না, তাঁদেরই রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে প্রকৃত রাজনীতিক ও রাজনীতিকে ধ্বংস করে। এরা ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই জনগণই ক্ষমতার উৎসকে বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গন থেকে বিদায় করে পাপুলদের পরিচর্যা করা হয়েছে নিরন্তরভাবে। পাপলুদের অপকর্মের দায় সরকার এড়াতে পারে না।সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু থামছেই না। সরকারের ব্যর্থতায় প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার একটি ভেন্টিলেটরের জন্য মানুষ হাহাকার করছে। প্রতিবছরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। এই বরাদ্দের টাকা দিয়ে যদি স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি করা হতো তাহলে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বাংলাদেশ মুখ থুবড়ে পড়ত না।

রিজভী বলেন, করোনা মোকাবিলায় সমন্বিত ও গোছানো কোনো কাজ হয়নি। সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তার মাধ্যমে তারা এই সংকটকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। রোগীদের দুর্দশা চরম আকারে, অসুস্থ মানুষ হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা পাচ্ছে না, জনগণ দিশেহারা হয়ে রাস্তাতেই ঘুরতে ঘুরতে প্রাণ হারাচ্ছে। দিনের পর দিন ঘুরেও করোনার পরীক্ষা করানো যাচ্ছে না। এই সরকারের স্বাস্থ্যসেবা এমনই যে, করোনা আক্রান্ত মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দেশজুড়ে চলছে শোকার্ত মানুষের আহাজারি। চলছে করোনার ত্রাণ চুরির মহৌৎসব। রুহুল কবির রিজভী আরো বলেন, ক্ষমতা-অন্ধ ওবায়দুল কাদের সাহেবরা নির্জন কক্ষ থেকে প্রায় প্রতিদিনই ভার্চুয়াল সংবাদ ব্রিফিং করে বিরোধী দলের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন অবান্তর কথা বলে।