• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

পাক জঙ্গিদের পেটে ২০০০ কোটি টাকা!


প্রকাশিত: ৫:১৭ পিএম, ৫ মার্চ ১৯ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৪৪ বার

শফিক রহমান : এক বছরে ২০০০ কোটি টাকা জঙ্গি অর্থায়ন হয়েছে পাকিস্তানে। দেশটির ১০৯ ব্যাংক কর্তার ভুয়া হিসাবে এই বিপুল অংকের টাকা লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে ছ’টি ব্যাঙ্ককে বিপুল জরিমানা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে১০৯ জন ব্যাঙ্ক কর্তাকে। এ ছাড়াও চোরাপথে যাওয়া অর্থ ও গয়না মিলে প্রায় ২০০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি সালের মধ্যে। আইসিআরজি’র (ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন রিভিউ) এক প্রতিবেদন এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এনিয়ে সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকের পর অসন্তোষ প্রকাশ করে সংস্থাটি বলেছে, ২০১৯ সালের মে মাসের মধ্যে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে।

সূত্র জানায়, একের পর এক নিখুঁত সন্ত্রাসের পরিকল্পনা এবং তা কার্যকর করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় অর্থের। এই অর্থ আসে কোথা থেকে? এই প্রশন তুলেই ফের সন্ত্রাস দমন নিয়ে ভারতের পাশে থেকে পাকিস্তানের উপরেই চাপ বাড়াল ফ্রান্স।এর আগে ভারত বহুদিন ধরেই নানা আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিযোগ জানিয়ে আসছিল, পাকিস্তানে ঘাঁটি বানিয়ে বসে থাকা জঙ্গিরা নানাভাবে বিপুল অর্থ পাচ্ছে। এতদিনে সেই অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে আন্তর্জাতিক মহল। ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) নামে এক আন্তর্জাতিক সংস্থা তদন্ত করে জানিয়েছে, সত্যিই পাকিস্তানে জঙ্গিদের হাতে বিপুল অর্থ চলে যাচ্ছে। সেদেশের সরকার জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ।

এরপরে পাকিস্তানকে ‘গ্রে লিস্ট’-এর অন্তর্ভুক্ত করেছে এফএটিএফ। যে দেশে জঙ্গিরা নানাভাবে বিপুল অর্থ তছরুপ করতে পারে, তাকে ওরকম গ্রে লিস্টে রাখা হয়। তার ওপরে ইন্টারন্যাশনাল কো অপারেশন রিভিউ গ্ৰুপ নামে এক সংঠন নজর রাখে। সরকার টাকা নয়ছয় বন্ধ করতে পারছে কিনা তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে রিপোর্ট দেয়। যদি দেখা যায়, গ্রে লিস্টে রাখার পরেও জঙ্গিরা আগের মতোই অর্থ পাচ্ছে, তাহলে সেই দেশকে ব্ল্যাক লিস্টে তোলা হয়। আন্তর্জাতিক মহল তাদের বৈদেশিক বাণিজ্যে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অর্থনৈতিক দিক থেকে সেই দেশ খুব বিপদে পড়ে।

সন্ত্রাসে ইন্ধন জোগাতে অর্থের জোগান দেওয়া বন্ধ করুক পাকিস্তান, প্যারিসের ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) তরফে এমনটাই সতর্কবার্তা দেওয়া হল। পুলওয়ামায় জইশ ই মহম্মদ জঙ্গিগোষ্ঠী পরিকল্পিত হামলার তীব্র নিন্দা করে প্যারিসের ওই সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে যে সন্ত্রাসের রমরমা, তার অন্যতম মূল কারণ ঘুরপথে অর্থের জোগান।এই সংস্থা যে যে বিষয়গুলি তুলে ধরেছে তাঁদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে, তা নিয়ে পাকিস্তানেও অভ্যন্তরীণ বৈঠক হয়েছে। সংস্থার ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন রিভিউ (আইসিআরজি)গ্রুপের তরফে বলা হয়েছে, এই বৈঠকের কথা।

এই ফিনান্সিয়াল মনিটরিং ইউনিট ২০১৮ সালে পাকিস্তান জুড়ে ৮৭০৭টি রহস্যজনক লেনদেনের কথা জানিয়েছে। যেখানে ২০১৭ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ৫,৫৪৮, জানিয়েছে পাকিস্তানের দৈনিক ডন।সন্ত্রাসে অর্থের জোগান সংক্রান্ত বিষয়ের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তান যুক্তি দিয়ে তাদের কিছু বুঝিয়ে উঠতে পারেনি, এমনটাই জানিয়েছে প্যারিসের ওই সংস্থা। সন্ত্রাস দমন নিয়ে ভারতের পাশে থেকে ফের পাকিস্তানের উপরেই চাপ বাড়াল ফ্রান্স। আমেরিকাও পাকিস্তানকে বার বার বলেছে, সন্ত্রাসে অর্থের জোগান যাতে বন্ধ করা হয়, সে বিষয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে।

ইসলামাবাদ জানিয়েছে, প্যারিসের ওই সংস্থার পরিকল্পনামতোই সন্ত্রাস রুখতে সহায়তা করবে তারা। এর পরেও সন্ত্রাস বন্ধ না হলে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এফএটিএফের কালো তালিকার অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে পাকিস্তান।বালাকোট অভিযান প্রসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ-র বিদেশ মন্ত্রক বলেছিল, ‘‘সন্ত্রাসের মুখে নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করার অধিকার ভারতের রয়েছে।’’ চিন সমস্যা তৈরির চেষ্টা করে গেলেও জইশ-প্রধান মাসুদকে নিষিদ্ধ করতে ফের রাষ্ট্রপুঞ্জে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে ফ্রান্স।