• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

পহেলা বৈশাখ এলো কিভাবে?


প্রকাশিত: ৯:২৫ পিএম, ১৩ এপ্রিল ১৯ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৯১ বার

 

লাবণ্য চৌধুরী : পহেলা বৈশাখ এলো কিভাবে? ইংরেজী সালের মত বাংলা সালেও ৩৬৫ দিন। মূলতঃ পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে আসতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড অর্থাৎ প্রায় ৬ ঘণ্টা। চার বছর পর এই ৬ ঘণ্টা ১ দিনে পরিণত হয়ে ৩৬৬ দিন হয়ে যায়। ইংরেজী ১২ মাসের মধ্যে ৭ মাস ৩১ দিনে (৭´৩১=২১৭), ৪ মাস ৩০ দিনে (৪´৩০=১২০), ফেব্রুয়ারী মাস ২৮ দিনে মোট (২১৭+১২০+২৮)= ৩৬৫ দিন। চার বছর পর ফেব্রুয়ারী মাস ২৯ দিনে হয়। যে বছর ফেব্রুয়ারী মাস ২৯ দিনে হয় সে বছরের দিন সংখ্যা হয় ৩৬৬ এবং বছরটির নাম Leapyear। ২৯ ফেব্রুয়ারীর দিনটির নাম Leap day। জুলিয়ান ক্যালেন্ডার থেকে এই নিয়মটি প্রচলিত হয়ে আসছে।বাংলা সালের সাথে খৃষ্টাব্দের মিল করতে ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহকে প্রধান করে বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ঐ কমিটি ১৭ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৬ সালে বাংলা সালের সংস্কার করেন এভাবে-

১. বছরের প্রথম পাঁচ মাস (বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র) গণনা হবে ৩১ দিনে।

২. পরের সাত মাস (আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র) গণনা হবে ৩০ দিনে।

৩. ইংরেজী লিপ ইয়ারে বাংলা ফাল্গুনের সাথে ১ যোগ হয়ে ৩১ দিনে হবে।

এই সংস্কারের ফলে এখন প্রতি ইংরেজী বছরের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালীরা এ সংস্কার গ্রহণ করেনি। ফলে বাংলা সাল হ’লেও তাদের সাথে তারিখে আমাদের মিল নেই।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বৈশাখের প্রধান আয়োজন হালখাতা, যার মোড়কের লাল আর ভেতরের পাতার সাদা থেকে লাল-সাদার প্রচলন। অনেকের মতে, আগেকার দিনে হিন্দু নারীরা লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরে বিভিন্ন পূজা-পার্বণে অংশ নিতেন।

চল সেখান থেকে লাল-সাদার, যদিও এসব মত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কারণ, সাধারণভাবেই অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবারে, বিশেষত মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাল পেড়ে সাদা শাড়ির প্রচলন ছিল। এখনকার প্রেক্ষাপটে ধারণা করা হয়, যেহেতু বৈশাখের প্রথম দিন বেশ গরম থাকে, তাই দেহত্বকের আরামের কথা ভেবে সাদা আর উৎসবের রঙ হিসেবে লালকে ব্যবহার করা হয়।কারণ যা-ই হোক, তা শুরু থেকেই সর্বজনীনভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে এটা সত্য, বাঙালির যেকোনো উৎসবে লাল রঙের একটা প্রাধান্য সব সময় ছিল এবং আজও তা আছে। আমাদের দেশে সাদা পবিত্রতা, কালো শোকের আর লাল উৎসবের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

ইতিহাস অনুযায়ী,বাদশাহ আকবরের সময় কাল হতেই মূলত,বাঙ্গালীর নববর্ষ পালনের উৎসব এর রেওয়াজ শুরু হয়। সে সময় এই বাঙ্গালী জনপদে,বছরের প্রথম ফসল ঘরে উঠানোর দিনে হিন্দু সমাজে পূজো রাখা হতো,বছরের প্রথম দিনে দেবতাদের আশির্বাদ স্বরুপ,যেনো বছরের বাকী দিন গুলোতেও ফসলের ফলন ভালো হয়,ঘরে অন্নের অভাব না হয়।

সে পূজোয় রেওয়াজ ছিলো এমন যে,খুব সকালে উঠে যত দেব-দেবি আছে তাদের,সে সবের আকৃতির আলোকে মুখোশ,বিভিন্ন প্রতিকৃতি নিয়ে রথযাত্রা,মঙ্গল যাত্রা হবে,যা অনেকখানি হেঁটে মন্দিরে যেয়ে শেষ হতো,এবং সে সময় মেয়েরা শাঁখা-সিঁদুরের রঙ অনুযায়ী পোষাক পড়তো,অর্থাৎ লাল-সাদা পোষাক পড়তো,এবং পুরুষেরা ধূতি-পাঞ্জাবী। নতুন চালের তৈরী,বিভিন্ন উপাদেয় খাবার দিয়েই তারা দিন শুরু করতেন,বিভিন্ন রকমের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,মেলার মাধ্যমে বছরের প্রথম দিনটি কে তারা আনন্দের সাথে পালন করতেন,তখন মোঘল দরবার,জমিদারদের দরবার গুলোতেও উৎসবের আয়োজন করা হতো,এবং সব ধর্মের মানুষেরাই তাতে আনন্দের সাথে অংশ নিতেন।

এই ছিলো ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী,সেই সময়কার পহেলা বৈশাখ পালনের চিত্র। কালক্রমে এটি এখন বাঙ্গালী জাতির শেকড়ের অংশ এবং সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া উপযোগী,আনন্দের প্রতীকএবং ঐতিহ্যের দাবী অনুসারে লাল-সাদা টা কে ট্রেডিশনাল রঙ হিসেবে ধরা হয়,এবং বৈশাখের পোষাকের প্রধান রঙ হিসেবে লাল-সাদা কে ধরা হলেও এখন আর পহেলা বৈশাখের পোষাক কেবল লাল-সাদা রঙে সীমাবদ্ধ নেই,বরং অন্যান্য সব রঙের পোষাক ই এখন বৈশাখী পোষাক তৈরীতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বর্তমান ফ্যাশন জগতের মৌলিক,এবং সু-পরিচিত ডিজাইনাররা,সার্বজনীন এই উৎসবের জন্য পোষাক তৈরিতে লাল-সাদার পাশাপাশি,কমলা,নীল,অফহোয়াইট সহ অন্যান্য অনেক রঙ ই ব্যবহার করে থাকেন। তবে যেহেতু লাল-সাদা রঙটা প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে,তাই বৈশাখে এই রঙটা খুব বেশিই ব্যাবহৃত হয়।