• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

পরিবহন ধর্মঘট ভোগান্তি চরমে


প্রকাশিত: ৯:২২ পিএম, ৫ নভেম্বর ২১ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৮৭ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘটে সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তি চরমে পৌচেছে। রাজধানীর সব এলাকায় গণ পরিবহন বন্ধ। যোগাযোগে ভরসা কেবল উবার, সিএনজি এবং রিক্সা। বিআরটিসি বাস চললেও তাতে বাদুরঝোলা হতে হচ্ছে।ওদিকে সদরঘাট থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করেনি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন দক্ষিণবঙ্গ থেকে লঞ্চে আসা সদরঘাটের যাত্রীরা।

লঞ্চ থেকে নেমে রাজধানীতে ঢোকার জন্য তারা কোনো গাড়ি পাননি। ভিক্টোরিয়া পার্ক ঘিরে বাসস্ট্যান্ডে কোনো বাস দাঁড়ানো ছিল না। সেখান থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি, অন্য কোথাও থেকে আসেও নি। বাসের জন্য অপেক্ষা করে কেউ হাঁটা পথে রওনা দেন। কেউ অতিরিক্ত ভাড়ায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা, রিকশা, ভাড়ায় চলা মোটরসাইকেলে যান।

এদিকে শুক্রবারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের বাণিজ্য বিভাগের পরীক্ষা এবং সরকারি ২৬টি প্রতিষ্ঠানের চাকরি পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থীদের ঝামেলা পোহাতে হয় সবচেয়ে বেশি। সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষার্থী বরগুনা থেকে আসা শফিকুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার আগের রাতে হঠাৎ করে ধর্মঘটের খবর জানতে পারেন তিনি। সকালে সদরঘাটে নেমে ঢাকা কলেজে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে কোনো বাস না পেয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় রিকশায় যান তিনি। বরিশাল থেকে মাকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে আসেন আলমগীর। কিন্তু রাজধানীতে ঢুকতে ভোগান্তিতে পড়েন। সদরঘাট থেকে মিরপুরের সিএনজি চালিত অটোরিকশার ভাড়া ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকার জায়গায় তার কাছ থেকে ৬০০ টাকা দাবি করে।

রংপুর থেকে চাকরি পরীক্ষা দিতে আসা এস এম খলিল বাবু সকালে গাবতলীতে নামেন। গাবতলী থেকে কোনো গণপরিবহন না পেয়ে অটোরিকশায় সদরঘাটে আসতে তাকে চারগুণ ভাড়া গুনতে হয়েছিল।বাবু জানান, গণপরিবহনের ধর্মঘটের বিষয়টি তিনি জানতেন না। সকালে ঘণ্টাখানেক গাবতলীতে কোনো গণপরিবহন না পেয়ে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় তাকে আসতে হয়েছে।সদরঘাট থেকে সাভারগামী সাভার পরিবহনের মালিক মনির ইসলাম জানান, সরকার হঠাৎ করে তেলের দাম বৃদ্ধি করায় পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ভাড়া বাড়েনি। ফলে সব খরচ মিটিয়ে বাস চালানো সম্ভব না।





ভাড়া ডাবলের প্রস্তাব লঞ্চ মালিকদের

সদরঘাট প্রতিনিধি : যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ১ টাকা ৭০ পয়সার পরিবর্তে ৩ টাকা ৪০ পয়সা ও ১০০ কিলোমিটারের বেশি হলে ১ টাকা ৪০ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থা (যাপ)। আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় সারা দেশের লঞ্চ মালিকদের সমন্বয়ে সংস্থাটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এই প্রস্তাব করা হয়েছে। লিখিত প্রস্তাবটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লউটিএ) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিআইডব্লউটিএ চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো চিঠিতে জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ভাড়া বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার প্রেসিডেন্ট মাহবুব উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান মোবাইল ফোনে শনিবার দুপুর ১২টার মধ্যে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন।বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাড়ার বিষয়ে আগামী ৮ নভেম্বর আমাদের একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক আছে। তবে মালিকদের এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বৈঠকের সময় এগিয়ে আনা হতে পারে। এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’