• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

‘পরমানু বিদ্যুৎ ভয়ের কিছু নাই’


প্রকাশিত: ৬:০৫ পিএম, ১৪ জুলাই ১৮ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২০৮ বার

14-07-18-PM_Ruppur Newclear Power Plant-9পাবনা থেকে নির্বাণ ভৌমিক  :  সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে রূপপুরে বিদ্যুৎকেন্দ্র; কাজেই ভয়ের কিছু নাই। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে কোনো ধরনের বিপর্যয়ে সুরক্ষার সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে কনক্রিট ঢালাই কাজ উদ্বোধন করে তিনি এই আশ্বস্তকরন করেন। রুপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে হাত দেওয়ার পর থেকে ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে এধরনের প্রকল্পে দুর্ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।

‘কোনো কাজ করতে গেলে অনেক কথা হয়’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে উদ্বেগের কিছু নেই। এখন পারমাণবিক বিদ্যুতে উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। যার ফলে এখানে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে- সেটা আমরা মনে করি না। বিশেষ করে নিরাপত্তার দিকটা আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছি।’

14-07-18-PM_Ruppur Newclear Power Plant-7এই বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রক্ষণাবেক্ষণ ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মনে করেন তিনি।এক্ষেত্রে রাশিয়া ও ভারত বাংলাদেশের জনবলকে প্রশিক্ষিত করছে বলে তিনি জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি ইউনিট গড়ে তোলা হয়েছে।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর রূপপুরে পরমাণু চুল্লির জন্য কনক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণ উদ্বোধন করেছিলেন শেখ হাসিনা, শনিবার দ্বিতীয় চুল্লীর নির্মাণ কাজ শুরু হল।৬৮ মাসের মধ্যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনা নির্মাণের কথা রয়েছে এ কাজের দায়িত্ব পাওয়া রাশিয়ার কম্পানি অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের।

14-07-18-PM_Russian Deputy PM-5সরকার আশা করছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে। পরের বছর চালু হবে সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট।রূপপুরের প্রকল্প এলাকায় এক হাজার ৬২ একর জমির ওপর চলছে বিপুল কর্মযজ্ঞ। প্রথম পর্যায়ের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে রুশ সহায়তায়। দুই ইউনিট মিলিয়ে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার (১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা)।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্বলিত সর্বাধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

ব্যবহৃত তেজষ্ক্রিয় জ্বালানি সরিয়ে নিতেও রাশিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।রূপপুরের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রূপপুর তৈরি হচ্ছে ৩ প্লাস প্রযুক্তি দিয়ে। আর বর্জ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সে দায়িত্ব নিয়েছে রাশিয়া। এদিক থেকে আমি মনে করি, কারও আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই।’