• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

নতুন শিল্পে জাগবে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ


প্রকাশিত: ৩:২৯ পিএম, ৩ এপ্রিল ১৯ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১১৬ বার

 

বিশেষ প্রতিনিধি : এবার জাগবে নতুন শিল্পে স্বনির্ভর বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি ১৩টি অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ২০টি শিল্পকারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী।এ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিল্পায়ন ছাড়া কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না। আমাদের শিল্পায়ন প্রয়োজন। শিল্পায়ন কোথায় হবে সেগুলো আমরা ঠিক করে দেব। শিল্পায়নের কারণে যেন কৃষি জমির কোনও ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না। ফসলি জমি আমি নেবো না। আমাদের শিল্পায়ন যেমন দরকার তেমন-ই কৃষি জমিও লাগবে। মিরসরাই ইকোনমিক জোন চরাঞ্চলে হচ্ছে। সেখানে কোনো ফসলি জমি নেয়া হয়নি। ভবিষ্যতেও কোনো কার্যক্রমে ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না।

বুধবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের প্রতি এ নির্দেশনা দেন তিনি। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেনের সঞ্চলনায় মীরসরাই প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।এ সময় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী ও বসুন্ধরা গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মো. ফখরুদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিল্প স্থাপনের উপযোগী ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, নতুন ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপিত ১৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উৎপাদন উদ্বোধন এবং নতুন ২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপনসহ ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী পরে মিরেরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরী, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সিটি ইকোনমিক জোন, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণ, উপকারভোগী এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।সিটি ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময়ে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী রোজায় চিনি, ডাল, ছোলার সমস্যা যেন না হয়। রমজানে দাম যেন বৃদ্ধি না পায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, পাটমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীরসহ ব্যবসায়ীরা ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।

এর আগে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েও তিনি একই আহ্বান জানান।এ সময় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালসহ ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করেন। সিলেটের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই প্রবাসীরা যেন এগিয়ে আসে। তারা যেন বিনিয়োগের সুযোগ পায়।

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরীর সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, যারা জমির মালিক তারা যেন জমির দাম সঠিক সময়ে পায়। মানুষের জন্য আমরা কাজ করি। তাই মানুষের জন্য কষ্ট না হয়। যাদের জমি তাদের পরিবারের সদস্যরা যেন যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।আর আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী সব অর্থনৈতিক অঞ্চলে যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কাজের সুযোগ পায় সেদিকে খেয়াল রাখার অনুরোধ করেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জমির স্বল্পতা আছে, আমার খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। আমার কৃষি জমি বাঁচাতে হবে। আবার পাশাপাশি শিল্পায়ন একান্তভাবে প্রয়োজন। শিল্পায়ন ছাড়া একটা দেশ কখনো উন্নয়ন হয় না। আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কিন্তু সেই কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে কৃষি আমাদের প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আমাদের শিল্পায়নও প্রয়োজন। সে কথা চিন্তা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা সারা বাংলাদেশে ১০০টা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলব। যেখানে দেশি-বিদেশি সব ধরনের বিনিয়োগ হবে।

তিনি বলেন,শিল্পায়ন কোথায় হবে, কীভাবে হবে সেই জায়গা আমরা ঠিক করে দেব। যত্রতত্র আমার কৃষিজমি নষ্ট হবে না। তিন ফসলের জমি সেগুলো নষ্ট হবে না। আমরা গবেষণা করে করে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো শুরু করেছি। বাংলাদেশকে আমাদের ক্ষুধামুক্ত করতে হবে, দারিদ্র্যমুক্ত করতে হবে। খাদ্য উৎপাদন আমাদের বাড়াতে হবে। পাশাপাশি আমাদের দেশটা যেকোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক সময় আমাদের ফসল নষ্ট হয়।যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ সঙ্গে সঙ্গে দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের জমির তিনগুন দাম দেয়া হচ্ছে। আর তারা টাকা তো পাবে-ই তাদের বিকল্প জায়গার ব্যবস্থাও করতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক অবস্থা মন্দা থাকলেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যখন যা প্রয়োজন আমরা সেটি করার ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের অর্থনীতি সবসময় গতিশীল। এটাকে গতিশীল রাখতে হবে। সুষ্ঠু পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব।শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। এছাড়া, দুর্যোগে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সে সময় যেন খাদ্য মজুত থাকে সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বিদেশিরা যেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে, সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে সরকার। এর ফলে দেশের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে তরুণদের বেকারত্ব অনেকটাই দূর হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতে যারা এগিয়ে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, আপনারা দেশের অর্থেনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। আর এগুলোর সবকিছুর মূলে রয়েছে কর্মসংস্থান।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মাত্র একটা এয়ারপোর্ট ছিল আন্তর্জাতিক। প্রথমবার ক্ষমতায় এসে আরও দুটো আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট করে দেই। আমরা আরেকটা এয়ারপোর্ট ভালো করে দিচ্ছি কক্সবাজারে। ঢাকারটায় আমরা থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। সৈয়দপুর এয়ারপোর্টকে আমরা উন্নত করে দিচ্ছি। রাজশাহী এয়ারপোর্ট আমরা চালু করেছি। বরিশাল চালু করেছি, এগুলো এক সময় বন্ধ ছিল। বিমানের যে বিধ্বস্ত অবস্থা ছিল এখন অন্তত আমরা ড্রিম লাইনার নিয়ে এসেছি।