ধর্মঘট ঠেকানোর বল প্রধানমন্ত্রীর কোর্টে

বিশেষ প্রতিনিধি : পরিবহন ধর্মঘটের নয়া মোড় নিতে পারে। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ার প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহারে সরকার আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দিচ্ছেন না পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। রোববারের আগে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। ওদিকে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিদেশ থেকে পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেক্ষেত্রে নতুন করে কোনো মন্ত্রী নতুন কিছু বলছেন না। এ প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণের বল এখন প্রধানমন্ত্রীর কোর্টে। তেলের দাম বাড়তি লিটারে ১৫ টা বহাল থাকবে না আগের পুরনো রেটে বিক্রি হবে না গনপরিবহনে ভাড়া সমন্বয় হবে তা নির্ধারণ হতে সময় লাগবে।
যদিও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ার প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহারে সরকার আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দিচ্ছেন না পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। রোববারের আগে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।এদিকে দেশে এর আগে কখনো এক লাফে এত বেশি হারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। দাম বাড়ানোর পেছনে যুক্তি তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ক্রমবর্ধমান। বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বগতির কারণে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়মিত সমন্বয় করছে।
জ্বালানি তেল ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১৫ টাকা বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভাড়া বাড়ানো দাবিতে সারা দেশে ধর্মঘট চালিয়েছেন পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ (শনিবার) সন্ধ্যা ৬টায় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৪০ মিনিট আগে তা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে সভা স্থগিতের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফ মাহমুদ অপু।জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, আজকে (শনিবার) সন্ধ্যা ৬টার সভা অনিবার্য কারণে হবে না। পরে যেদিন সভা হবে যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বিকাল থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হতে থাকেন। এরমধ্যেই হঠাৎ সভা স্থগিতের কথা জানানো হয়।এদিকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ থেকে ৮০ টাকা করার প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে সারা দেশে ধর্মঘট শুরু করেছেন পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা। এতে দেশ কার্যত অবরুদ্ধ তাদের হাতে। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ।
বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের সঙ্গে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তার ধানমণ্ডির সরকারি বাসভবনে বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের।কিন্তু বৈঠকে কোনো সুরাহা হয়নি। ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠক শেষে বের হয়ে দাবি মানা না হলে ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের অতিরিক্ত মহাসচিব আবদুল মোতালেব সাংবাদিকদের বলেন, তেলের দাম প্রত্যাহারের দাবিতে চলা আমাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। আমাদের দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আবদুল মোতালেব বলেন, যেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়নি, তাই আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। হয় জ্বালানির বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে হবে, নয়তো ভাড়া বাড়াতে হবে। দুটির একটি না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।



