দরকষাকষি সমঝোতা:প্যারোলে মুক্তি তাঁর!
বিশেষ প্রতিনিধি : অবশেষে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া! অবিশ্বাস্য নয় ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছে। বিষয়টি মঙ্গলবার জাতিরকন্ঠ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।সেটি সত্যে পরিণত হতে চলেছে। জাতিরকন্ঠ প্রকাশ করেছিল-”শপথ নিতে বিএনপি থেকে নির্বাচিত নেতারা এবার দরকষাকষি শুরু করছেন? এই নেতারা সংসদে যোগ দেয়ার বিনিময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইছেন। যদিও খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিএনপির সংসদে যাওয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার একটি বিষয় অনেক দিন থেকেই শোনা যাচ্ছে। বিএনপি বিষয়টি গুজব বললেও তলে তরে তারা অনেক দূর এগুচ্ছেন।”
বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জাতিরকন্ঠ কে বলেছেন, শপথ নিয়ে দলের চেয়ারপারসনের মুক্তিসহ কয়েকটি বিষয়ে বিএনপির মধ্যে হিসাব-নিকাশ চলছে।১৫ এপ্রিল নির্বাচিতরা একটি বৈঠকও করেছেন।জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচিত হলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হারুন উর রশিদ, মোশাররফ হোসেন, আবদুস সাত্তার, আমিনুল ইসলাম ও জাহিদুর রহমান।
এদিকে দরকষাকষি অনেক দূর এগিয়েছে। ওদিকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন বলে একটি সংবাদপত্র খবর প্রকাশ করায় অসন্তোষ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলছেন, চিকিৎসার জন্য প্যারোলের সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়া দেননি।বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, কোনো একটা ইংরেজি দৈনিকে আজকে আপনার নাম ও তারিখ, সময় দিয়ে দেওয়া হচ্ছে কবে যাচ্ছেন তিনি (খালেদা জিয়া)। কোন দেশে যাচ্ছেন। ফখরুল বলেন-ইটস ভেরি আনফেয়ার বলে আমার কাছে মনে হয়। দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, তারা আমাকে জিজ্ঞাসাও করেছিলেন। আমি ফোনে বলেছি যে, ভিত্তিহীন, এটা একেবারেই ভিত্তিহীন, এর মধ্যে কোনো সত্যতা নেই। তারপরেও খুব বড় করে সেটাকে ছাপানো হয়েছে।
এ ধরনের খবর প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, আমরা অনুরোধ করব, এই ধরনের ইয়েলো সাংবাদিকতা থেকে দূরে থাকার জন্য। না হলে জনগণ বিভ্রান্ত হয়, জনগণ বিভ্রান্ত হলে সেটা আপনার ফল খুব ভালো হয়ে দেখা যায় না।দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে এক বছরের বেশি কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এই মাসের প্রথম দিন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।অসুস্থ খালেদা জিয়াকে গত ১ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়।
এদিকে পহেলা বৈশাখ রোববার বিকালে হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির তিন নেতা। পরদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিষয়।তবে সপ্তাহখানেক আগেই খালেদার প্যারোল নিয়ে আলোচনার মধ্যে মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, প্যারোল নয়, নেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি চান তারা।
হাসপাতালে খালেদার সঙ্গে দেখা করার পর বিষয়টি নিয়ে মির্জা ফখরুলের অবস্থান বদল নিয়ে নতুন করে আলোচনার মধ্যে একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা তাদের জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির ছয় নেতার শপথ গ্রহণের শর্তে এ মাসেই প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। মুক্ত হয়েই লন্ডনের ফ্লাইট ধরবেন তিনি।খালেদা জিয়ার ‘বিদেশযাত্রার’ সম্ভাব্য তারিখ আগামী ২৫ বা ২৬ এপ্রিলের কথা বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির একজন নেতা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে সেখানে।
দরকষাকষি সমঝোতায় প্যারোলে মুক্তি-
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে গোপনে ‘সমঝোতা’ হচ্ছে বলে প্রবল গুঞ্জন এখন রাজনীতিতে। কয়েক দিনের মধ্যেই তার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে এ বিষয়ে আবেদন করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৫ বা ২৬ এপ্রিল রাতের একটি ফ্লাইটে করে লন্ডন যাবেন তিনি।
দলীয় সূত্রেও এসব তথ্য বলাবলি করা হচ্ছে।সূত্র জানায়, প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে খালেদা জিয়া প্রথমে রাজি না থাকলেও এখন তিনি আগ্রহী। সে মোতাবেক গত ১৪ এপ্রিল দলীয় চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং নজরুল ইসলাম খান। চেয়ারপারসনের সঙ্গে এ বিষয়ে তারা চূড়ান্ত আলোচনা করেছেন।
সূত্র আরও জানায়, ‘সমঝোতা’র উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো- মির্জা ফখরুলসহ দলের ৬ জন নির্বাচিত এমপিকে বিএনপি যদি সংসদে পাঠাতে রাজি হয় তাহলে বিনিময়ে সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেবে। মুক্তি পেয়ে তিনি সরাসরি লন্ডন চলে যাবেন। দেশের বাইরে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা বলতে পারবেন না।
অন্য একটির সূত্রের দাবি, খালেদা জিয়া প্যারোলের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই মিথ্যা। আদালতে সুবিচার পেলে তিনি এতদিন সব মামলা থেকে রেহাই পেতেন। যেটা সরকার করতে দিচ্ছে না। এখন তাকে প্যারোলে মুক্তির নামে আরেক দফা নির্যাতন করতে চাইছে। প্যারোল প্রক্রিয়ায় জড়িতদের দল থেকে আজীবন বহিষ্কারের কথাও বলেছেন খালেদা জিয়া।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে মধ্যস্থতা করছেন বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা। জড়িত রয়েছে প্রভাবশালী দুটি দেশও। কয়েকজন মন্ত্রীও এ ব্যাপারে অবগত। গোপনে দৌড়ঝাঁপ চলছে।এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, শর্তসাপেক্ষ কোনো বিষয়ে জানা নেই। তাছাড়া প্যারোল কেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এমনিতেই জামিন হবে। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার প্যারোলের মূল শর্ত
বিএনপির ৬ নির্বাচিত এমপির শপথগ্রহণ নিয়েও দলের ভেতর শুরু হয়েছে তোড়জোড়। এ নিয়ে রয়েছে মতবিরোধও। নির্বাচিতদের সংসদে যোগদানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দিয়েও বিএনপিকে চাপ দেয়া হচ্ছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শপথ না নিলে বিএনপির ৬ জনের সংসদে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তারা যদি সংসদে না যায় তাহলে খালেদা জিয়াকেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরাসরি কেরানীগঞ্জ জেলখানায় যেতে হবে।



