তামিমা কি নাসিরের বউ-ব্যাভিচার হয়নি?

বিশেষ প্রতিনিধি : বউ তামিমা তুমি কার! নাসিরের না রাকিবের? নাসির বলেছে-তামিমা এখন আমার বউ! এ নিয়ে নাসির শো করেছে তালাকনামাও!! তাহলে’তো ব্যাভিচার হয়নি? যদিও এটা তদন্ত করছে পিবিআই। তদন্ত শেষে বলা যাবে তামিমা কার বউ?? এমনকি এতে ব্যাভিচার হয়েছে কিনা তাও ? ওদিকে বিয়ে নিয়ে বিতর্কের জেরে ক্রিকেটার নাসির হোসেন সংবাদ সম্মলনে বলেছেন, বিয়ে করেছি আইনগত ভাবে ও ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক। এমন হলে আমরা ওপেন বিয়া করতাম না, লুকিয়ে করতাম।
ওদিকে আলোচিত ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তামিমার স্বামী দাবি করে মো. রাকিব হাসান ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালতে গতকাল এ মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি শুনে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৩০শে মার্চের মধ্যে তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। মামলাটিতে ব্যভিচারের অভিযোগ এনে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা।

আজ বুধবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে নাসির হোসেন বলেন, ‘আসলে আমার তেমন কিছু বলার নেই। আমি চার বছর আগে থেকে তামিমাকে চিনি। সে প্রথমে ভালো বন্ধু পরে লাভার (প্রেমিকা)। বিয়ে করেছি আইনগতভাবে ও ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক। এমন হলে আমরা ওপেন বিয়ে করতাম না, লুকিয়ে করতাম।
নাসির আরও বলেন, আমি সব জানি, তামিমার আগে বিয়ে হয়েছে, ওর বাচ্চা আছে। আমি কাগজ পেয়েই তাঁকে বিয়ে করেছি। আমরা যা করেছি, সব লিগ্যাল করেছি; কোনো ভুল করিনি। জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ক্রিকেটার বলেন, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল লেখালেখি করছেন, তা থেকে বিরত থাকবেন। যেটা আজ তামিমার সঙ্গে করেছেন, সেটা আপনার সঙ্গেও হতে পারে। আর মিডিয়া থেকে সঠিক তথ্য জেনে মানুষের কাছে জানান। কারণ মিডিয়া কখনো ভুল তথ্য দেয় না। তারা বিচার করে এর পর দেয়।
নাসির বলেন, এত দিন তামিমা ছিল, এখন থেকে তামিমা হোসেন। আমি চাই না তামিমার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলুক। কথা বললে, আমি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব। আমি অনুরোধ করব, সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন এমন কিছু না করা হয়।
এই তারকা ক্রিকেটার বলেন, আমি এখন ন্যাশনাল টিমের প্লেয়ার নই। আমাকে নিয়ে লেখা-লেখি করলে সমস্য নেই। আমাকে অনেকে ভালোবাসে, আবার গালিও দেয়। কিন্তু তামিমা এই কালচারের নয়। ছোট বেলায় তামিমার বিয়ে হতেই পারে। আবার প্রেমও করতে পারে। তামিমা এখন আমার বউ, তাঁকে বলা মানে আমাকে বলা। এখন আইনগতভাবে যাব।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড ফর চিলড্রেন এর নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল মানবজমিনকে বলেন, যেসব ধারায় মামলাটি করা হয়েছে, অপরাধ প্রমাণিত হলে ৪৯৪ ধারায় তামিমা সুলতানাকে সর্বোচ্চ সাত বছর এবং ৪৯৭ ধারায় নাসিরকে পাঁচ (৫) বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া, ৫০০ ধারায় দুই (২) বছরের করাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। বাদীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট ইশরাত হাসান। তিনি বলেন, মামলায় এক নম্বর আসামি হিসেবে তামিমা সুলতানা এবং দুই নম্বর আসামি হিসেবে ক্রিকেটার মো. নাসির হোসেনের নাম রয়েছে। এ ছাড়া, মামলায় চারজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এরা হলেন বাদী নিজে, মোজারুল ইসলাম, রূপা আক্তার, লিটন হাওলাদার। ৪৯৪ ধারায় অভিযোগটি আনা হয়েছে তামিমার বিরুদ্ধে। ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে নাসিরের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ৫০০ ধারায় উভয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।



