• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ঢাকা বেঙ্গালুর দুবাইয়ে টিকটক হৃদয়ের নারীপাচার চক্র


প্রকাশিত: ১০:২৭ পিএম, ২৯ মে ২১ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৪২৪ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : ঢাকা বেঙ্গালুর দুবাইয়ে টিকটক হৃদয় চক্রের জমজমাট নারীপাচার এর সন্ধান মিলেছে। এ চক্রের সহযোগীদের চিহ্নিত করেছে বেঙ্গালুর ও ঢাকার পুলিশ। এই চক্র দুবাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে নারী পাচার করে আসছিল। ভারতে উদ্ধারকৃত তরুণীকেও দুবাইয়ে পাচার করা হয়েছে কয়েক বছর আগে। ওদিকে বেঙ্গালুরু পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, টাকা-পয়সা নিয়ে বিবাদ মেটানোর কথা বলে মেয়েটিকে বেঙ্গালুরুতে ডেকে আনা হয়েছিল। যারা তাকে ডেকে আনেন তাদের বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তার ওপর চরম সহিংসতা শুরু হয়। অভিযুক্তরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং যৌন ও পাশবিক নির্যাতন চালায়। তারা এসব দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২০ বছর বয়সী বাংলাদেশি ওই তরুণী পুলিশকে জানান, তিনি অভিযুক্তদের চিনতেন। তাদের দু’জন তার দুঃসম্পর্কের আত্মীয়। চক্রটি থেকে আলাদা হয়ে তিনি বেঙ্গালুরু থেকে কেরালার কোজিকোডে চলে যান এবং সেখানে একটি ম্যাসেজ পার্লারে কাজ শুরু করেন। এরপর থেকে অভিযুক্তরা টাকা-পয়সা নিয়ে তার সঙ্গে বিবাদ শুরু করে।

বেঙ্গালুরু পুলিশ আরও জানায়, আমিরাত থেকে কয়েক মাস আগে দূর সম্পর্কের আত্মীয় মোহাম্মদ বাবা শেখ মেয়েটিকে ভারতে এনে পতিতিবৃত্তিতে বাধ্য করেন। বাবা শেখ ভুক্তভোগী মেয়েটির এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়কে বিয়ে করেছেন। নির্যাতনের ঘটনায় বাবা শেখের স্ত্রীও গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই বাবা শেখ ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ থেকে তরুণীদের ভারতে বিউটি পার্লারে বা গৃহকর্মীর কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও কেরালায় নিয়ে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী তরুণীকে ফাঁদে ফেলে এই দলে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নির্যাতনকারীরা একটি আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য। বাংলাদেশ, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে এ চক্রের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ জুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করা যৌন নির্যাতনের এ ঘটনায় বেঙ্গালুরুতে রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২৬) নামের যে যুবক গ্রেপ্তার হয়েছেন, তিনি এ চক্রের অন্যতম সদস্য বলে পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

এদিকে আজ শনিবার বিকেলে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. শহীদুল্লাহ তাঁর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রিফাদুল ইসলাম বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং ভারতের কয়েকটি রাজ্যের কিছু অপরাধীর সঙ্গে মিলে মানব পাচারের আন্তর্জাতিক চক্র গড়ে তুলেছিলেন। এ চক্রের সদস্যরা লেখাপড়ায় অমনোযোগী স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদের ‘টার্গেট’ করত।

ওদিকে সম্প্রতি ভারতের কেরালা রাজ্যে নিয়ে বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশি তরুণ রিফাতুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। যৌন নির্যাতনের ঘটনা চাঞ্চল্য ছড়ানোর পর জড়িতদের গ্রেফতার অভিযানের মধ্যে পালানোর চেষ্টাকালে টিকটক হৃদয়ের পায়ে গুলি করে বেঙ্গালুরু পুলিশ। হৃদয় সেখানকার একটি স্থানীয় হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি জাতিরকন্ঠ কে নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ। তিনি বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যম, সাংবাদিক ও বেঙ্গালুরু পুলিশের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি- পালানোর চেষ্টাকালে জড়িত দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের একজন টিকটক হৃদয়।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি এনসিবি শাখার মো. মহিউল ইসলাম জাতিরকন্ঠ কে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত যা জেনেছি, তা দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম সূত্রেই। অফিসিয়ালি ঘটনা সম্পর্কে, ভুক্তভোগী এবং আটকদের সম্পর্কে জানতে আমরা দিল্লি এনসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, মেইল করা হয়েছে।তিনি বলেন, যেহেতু হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা হয়েছে, তেজগাঁও ক্রাইম ডিভিশন বিষয়টি তদন্ত করছে। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বক্তব্য পাওয়ার পরই ভুক্তভোগী এবং আটকদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এক্ষেত্রে বলতে পারেন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ২০-২২ বছরের একজন তরুণীকে বিবস্ত্র করে ৩-৪ জন যুবক শারীরিক ও বিকৃতভাবে যৌন নির্যাতন করছে। বিষয়টি জানার পর ওই ঘটনায় বাংলাদেশি রিফাতুল ইসলাম হৃদয় (২৬) নামে এক যুবক জড়িত বলে সত্যতা পাওয়ার কথা জানায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। অভিযুক্ত যুবক রাজধানীর মগবাজার এলাকার বাসিন্দা।তাদের মধ্যে টিকটক হৃদয়সহ দুজন পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তারা হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন।

তরুণীকে বিবস্ত্র করে যৌন নির্যাতন ও ভিডিও ভাইরাল প্রসঙ্গে বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশের এক প্রেস নোটে জানানো হয়েছে, ভিডিও ক্লিপ দেখে ঘটনায় জড়িত এক নারীসহ পাঁচ জনকে দ্রুত শনাক্ত করে আটক করা হয়। এরপর ভিডিও ক্লিপ এবং আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে রামমূর্তি নগর থানায় তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নিপীড়ন ও এ সংশ্লিষ্ট আইনের অন্যান্য ধারায় মামলা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই বাংলাদেশি।এ বিষয়ে দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চক্রটি ওই তরুণীকে নির্যাতনের সময় ধারণ করা ভিডিও ক্লিপ আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই নর্থ ইস্ট পুলিশ ও বাংলাদেশ পুলিশ তদন্ত শুরু করে।