জুতো মেরে গরু দান ক্যাসিনো কমরেডের!
শফিক রহমান : দুঃখপ্রকাশ করে কি ক্যাসিনো কমরেড পার পেয়ে যাবেন তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। তবে ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে দেয়া বক্তব্যের জন্য ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সোমবার নিজ বাসায় ১৪ দলের শরিকদের নিয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
এ সময় নাসিম বলেন, মেননের বক্তব্য কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, গতকাল তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। মেনন তার দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে ভ্রান্তি দূর করেছেন। এজন্য ১৪ দল সন্তুষ্ট।তিনি আরও জানান, জাতীয় নির্বাচন ও ১৪ দলের নির্বাচনী বিশ্লেষণে একমত পোষণ করেছেন রাশেদ খান মেনন। এছাড়াও তিনি তার দেয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি ১৪ দলের ঐক্য অটুট রাখতে চান। আমরা তার বক্তব্যে সন্তুষ্ট। ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ আছে, থাকবে বলেও জানান তিনি।গত ১৯ অক্টোবর বরিশালে ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেনন বলেন, আমি সাক্ষী দিয়ে বলছি, ‘এই নির্বাচনে আমিও নির্বাচিত হয়েছি, কিন্তু জনগণ ভোট দিতে পারেনি।’
এখন জনমনে প্রশ্ন হচ্ছে এবার কি তাহলে জুতো মেরে গরু দান করলেন ক্যাসিনো কমরেড মেনন! তা না হলে তিনি কেন শুধু দুঃখ প্রকাশ করে পার পেয়ে যাবেন? তিনি যে স্বাধীনতা স্বপক্ষের সকল মানুষকে অপমান করলেন তার বিচার কে করবে? তিনি যে সরকারকে দেশের নির্বাচন কমিশনকে অপমান করলেন তার বিচার কে করবে?
তা কি বিষয়টা এমন যে জুতো মেরে গরু দান করে পার পেলেন ক্যাসিনো মেনন সাহেব?? বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত বিএ/ বিএসএস প্রোগ্রামের বাংলা ভাষা-২ বইটিতে জুতা মেরে গরু দান-এর অর্থ দেয়া হয়েছে— প্রথমে অপমান করে পরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা; ড. শাহ জাহান মনির-এর বাংলা ব্যাকরণ বইটিতে গরু মেরে জুতো দান-এর অর্থ দেওয়া হয়েছে— কারো যথেষ্ট ক্ষতি করে পরে তার সামান্য উপকার করা।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এ দুটো অর্থ দুটো দিক থেকেই ঠিক। বিষয়টা অবশ্য এসেছে এভাবে— জনৈক ধূর্ত মুচি কোনো এক ব্রাহ্মণের একটি গরু মেরে তার চামড়া তুলে নেয়। পরে জানাজানি হয়ে গেলে মুচি ঐ চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়ে ব্রাহ্মণকে উপহার দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। এ থেকেই প্রবাদটির প্রচলন। দয়ালু ব্রাহ্মণ অবশ্য মুচিকে ক্ষমা করে থাকবেন। কিন্তু বাস্তবে এত বড় সর্বনাশ করে সামান্য ক্ষতিপূরণ করলে তা কারো পক্ষে মেনে নেবার কথা নয়।
সনাতন ধর্মে শ্রাদ্ধে গরু দান শ্রেষ্ঠ। পরের স্তরে অন্ন বস্ত্র জল। ভূমি দান এখন হয় না বললেই চলে। তাই গরু দানের প্রসঙ্গ ওঠে দানক্ষেত্রে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কাউকে জুতা মারা কেবল প্রহার করা নয়— রীতিমত অপমান করা। তাই কাউকে জুতা মেরে পরে তার ক্ষতিপূরণ বাবদ গরু দান করলেও কি অপমানের কালিমা পুরোপুরি মুছে যায়? এক্ষেত্রে এরই অনুকরণে কাউকে প্রথমে অপমান করে পরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা বা ক্ষমা প্রার্থনা করার বাগধারাটি এই জুতা মেরে গরু দান।
গরু মেরে জুতা দান প্রবাদটির আরো বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় ক্ষুদ্র কিছু করার জন্য ব্যাপক ক্ষতিকারক আয়োজন। যেমন রবীন্দ্রনাথের ‘সামান্য ক্ষতি’ কবিতায় বর্ণিত রানীর শীতের দিনে স্নান সেরে শীত নিবারণ কল্পে গরিব পল্লিবাসীদের ঘরে আগুন লাগিয়ে আগুন তাপানো। এর ক্ষতিপূরণে মহারানী যতই যুক্তি দেখান— সে নিছক অহংকার ছাড়া কিছুই নয়। তাই বৃহত্ ক্ষতি করে পরে সামান্য ক্ষতিপূরণ করার ব্যাপারেই প্রবাদটি প্রযোজ্য। সাধারণ্যে জুতা মেরে গরু দান নাকি গরু মেরে জুতা দান— সেটি নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর!!



