• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

জাতীয় স্মৃতিসৌধে লাখো জনতার ঢল


প্রকাশিত: ১:৪৩ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ১৮ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৮২ বার

স্টাফ রিপোর্টার : বিজয়ের ৪৭তম বার্ষিকীতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে লাখো জনতার ঢল নেমেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ফুলে ফুলে ভরে ওঠতে শুরু করে শহীদ বেদি। আজ ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহান দিবসের কর্মসূচি।সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। তিন বাহিনীর সু-সজ্জিত একটি চৌকসদল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় মন্ত্রী পরিষদবর্গ, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শহীদদের বেদিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করার পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শুরু হয়। ফুল দিতে আসা তৈরি পোশাক কারখানার মালিক রুবেল আহমেদ বলেন, দেশের সূর্য সন্তানদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য গভীর রাত থেকেই অপেক্ষা করছি। শেষ পর্যন্ত শ্রদ্ধা জানাতে পেরে বেশ ভালোই লাগছে।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় নেতাদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন দেশ একদিকে বিজয় দিবস পালন করছে। অন্যদিকে দেশে চলছে অত্যাচার, অনাচার, অন্যায়। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ চেয়েছিলাম, যা এখনও পাইনি। অথচ দুই সপ্তাহ পর এই নির্বাচন হওয়ার কথা।

এসময় স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, এ্যাডভোকেট আজম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির সঙ্গে যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলসহ সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া হয়।

এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দলের সদস্যসহ নানা বয়সের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ মহান বিজয় দিবসের বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন ও ফুল নিয়ে সৌধ প্রাঙ্গণের বাহিরে অপেক্ষমান অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে পর্যায়ক্রমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, গণবিশ্ববিদ্যালয়, আশুলিয়া প্রেস ক্লাব, সাভার প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ

কেন্দ্র (বিপিএটিসি), জাসদ, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, গণফোরাম, জাতীয় পার্টি, যুবলীগ, যুবদল, যুব ইউনিয়ন, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, কৃষক লীগ, জাসাস, মহিলা পরিষদসহ বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, এনজিও প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় বসানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা।

ড. কামাল হোসেন বলেছেন-

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, যারা রুগ্ণ রাজনীতি করে, যারা লাঠিয়াল ব্যবহার করে, যারা কালো টাকা ব্যবহার করে, যারা জনগণকে মর্যাদা দেয় না, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁরা স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে ঐক্যবদ্ধভাবে রক্ষা করবেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, ঐক্যবদ্ধ জনগণের বিজয় অনিবার্য।

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন ড. কামাল হোসেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রদ্ধা জানান তিনি।শ্রদ্ধা জানানোর সময় ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম খান, ঐক্যফ্রন্টের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণফোরাম নেতা মোস্তাফা মহসীন মন্টু প্রমুখ।