• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

চেঞ্জ হচ্ছে বাফুফের মনসদ


প্রকাশিত: ৮:৫৮ পিএম, ৩ অক্টোবর ২০ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২০৮ বার

বিশেষ প্রতিনিধি/ স্পোর্টস রিপোর্টার : বাফুফে নির্বাচন ঘিরে আজ সকাল থেকে উৎসব মুখর পরিবেশ ছিল। সাবেক তারকা ফুটবলার, বিভিন্ন পর্যায়ের সংগঠক ছাড়াও অনেক লোকের সমাবেশ হয়েছে। টিভি চ্যানেলগুলো লাইভে নির্বাচনের প্রতি মুহূর্তের খবর জানাতে ব্যস্ত ছিল। আগামী চার বছর কাদের হাতে থাকবে দেশের ফুটবল, সেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গেছে ভোটারদের আচরণ দেখে-। সেক্ষেত্রে চেঞ্জ হচ্ছে বাফুফের মনসদ। তাছাড়া ভেতরে যখন ভোট হচ্ছিল তখন বাইরে সালাউদ্দিন হটাও আন্দোলন ছিল চোখে পড়ার মত। কাজেই বোঝা যাচ্ছে পরিবর্তন হচ্ছেই।নির্বাচনে ভোটার ১৩৯ জন। ভোটাররা কী বলছেন ? ভোট দিয়ে বের হয়ে আসা দুই ভোটারের বক্তব্য প্রায় এক। স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে পড়া ফুটবলের উন্নয়ন দেখতে চার তাঁরা। এদের একজন রাজশাহী বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহফুজুল আলম মনে করেন নীরব ভোট বিপ্লবও হতে পারে।

টানা চতুর্থবারের মতো বাফুফে নির্বাচনে ভোট দেওয়া মাহফুজুলের ফুটবল কর্তাদের ওপর ক্ষোভের কমতি নেই। নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে কর্তারা ফোন ধরেন না বলে তাঁর অভিযোগ। তাই ভোট বিপ্লবের প্রত্যাশী মাহফুজুল, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। রাজশাহীতে ভালো মাঠ ও পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও আমাদের খেলার আয়োজন করার সুযোগ দেওয়া হয় না। ভোটের আগে অনেক কিছু বলে, কিন্তু ভোট শেষ হয়ে যাওয়ার পরে ফোনও ধরে না।এবার নির্বাচন বড় পদে প্রার্থীর হওয়ার কথা ছিল তরফদার রুহুল আমিনের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন তিনি। ভোটার হলেও ভোট দিতে আসেননি। তবে সাইফ স্পোর্টিং যুব দলের ডেলিগেট হিসেবে ভোট দিয়েছেন তাঁর ছেলে তরফদার রুহুল সাইফ। নির্বাচিতদের কাছে ফুটবল টেনে তুলার আহবান জানিয়েছেন তিনি, ‘খুব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট দিয়েছি। যারা নির্বাচিত হয়ে আসবেন তাদের কাছের প্রত্যাশা, দেশ ও দেশের ফুটবলের জন্য কাজ করবেন।

এবার ২১ পদে ৪৭ জন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন ১৩৫ জন কাউন্সিলর। মোট ভোটার ছিলেন ১৩৯ জন। চারজন নির্বাচন কেন্দ্রে আসেননি। ভোট দেননি চট্টগ্রাম আবাহনীর প্রতিনিধি তরফদার মো. রুহুল আমিন, ফরিদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের মাকসুদুর রহমান ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সাফওয়ান সোবহান। খবরটি নিশ্চিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন। এবার ফল পাওয়ার অপেক্ষায় প্রার্থীরা। ভোট গণনা শেষে জানা যাবে কে হচ্ছেন বাফুফের পরবর্তী সভাপতি।আজ শনিবার দুপুরে ভোট শুরু হয়। ভোট চলেছে ৬টা পর্যন্ত। প্রার্থীরা সবাই নির্বাচন কেন্দ্রে উপস্থিত হন। তবে অন্যতম সভাপতি প্রার্থী বাদল রায় আসেননি। উপস্থিত ছিলেন বাকি দুই সভাপতি প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম মানিক।

সভাপতি প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম মানিক নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তারা বলেন ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে শতভাগ আশাবাদী তারা। মানিক বলেন, সব কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা হয়েছে। সবার একটাই কথা, পরিবর্তন চাই। সবাই যোগ্য প্রার্থী চায়। আমি মনে করি, আমি যোগ্য প্রার্থী। ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে কাজী সালাউদ্দিনকেও। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বললেও বেশ হাসি-খুশি মেজাজেই দেখা গেছে সাবেক এই ফুটবলারকে।

এর আগে সকালে ভোটের আগে সুষ্ঠভাবে শেষ হয় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)। সভায় গত এক বছরের আর্থিক বিবরণীর প্রতিবেদন সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বর্তমান বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। তারা তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। আর আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করেন দেশের সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী।