গোল্ডস্মাগলারদের দখলে বিমান পাইপে মিলেছে ৯কেজি সোনা

শফিক রহমান : ফের গোল্ডস্মাগলারদের দখলে চলে গেছে বিমান বাংলাদেশ। গোল্ডস্মাগলারদের নিপুল পরিকল্পনায় বিমানের সিটের নিচের পাইপের ভিতর মিলেছে প্রায় ৯ কেজি সোনা।চক্রটির গভীর নীলনক্সায় বিমানের ‘আকাশ প্রদীপ’ ফ্লাইট থেকে মিলেছে প্রায় ৯ কেজি ওজনের ৭৬ স্বর্ণের বার । এ চোরাচালানের সঙ্গে ঢাকা ও আবুধাবী’তে কর্মরত বিমানের প্রকৌশল ও মেইনটেনেন্স বিভাগের লোকজন জড়িত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এই অর্গাইনাইজড সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের সকলকে খুঁজে বের করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে জাতিরকন্ঠ কে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত কাস্টমস কমিশনার কাজী তাওহিদা আখতার।স্বর্ণবার উদ্ধারে বিমানের আকাশ প্রদীপের ওই ফ্লাইটে টানা ৫ ঘন্টা অভিযান চালায় ঢাকা কাস্টমস হাউজ এর কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এসময় বিমানের লোকজন তেমনভাবে সহায়তা করেনি কাস্টমস কর্মকর্তাদের।
বিমান বন্দর ঢাকা কাস্টমস হাউস এর অতিরিক্ত কাস্টমস কমিশনার কাজী তাওহিদা আখতার আরো জানান, তল্লাশিকালে অভিনব কৌশলে রাখা ৭৬টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়েছে। এগুলো বিমানের সিটের নিচে পাইপের ভিতর সুনিপুন কৌশলে স্বর্ণবারগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এ চোরাচালানের সঙ্গে ঢাকা ও আবুধাবী’তে কর্মরত বিমানের প্রকৌশল ও মেইনটেনেন্স বিভাগের লোকজন জড়িত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এই অর্গাইনাইজড সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের সকলকে খুঁজে বের করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে। এজন্য ইতিমধ্যে সকল প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। কাস্টমস এর লোকজন মামলা দায়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তিনি আরো বলেন, খুব শিগগির ‘আকাশ প্রদীপ ‘ জব্দ করে পরবর্তী কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ‘আকাশ প্রদীপে’ পাঁচ ঘণ্টার সমন্বিত অভিযান চালিয়েছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং ঢাকা কাস্টমস হাউজ।তল্লাশিকালে বিমানের সিটের নিচে অভিনব কৌশলে রাখা ৭৬টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ৩টায় আবুধাবি থেকে ফ্লাইটটি সিলেট হয়ে ঢাকায় অবতরণ করে। এটি তল্লাশি করে পাঁচটি সিটের নিচের পাইপ এর ভিতর থেকে প্রথমে ৪৮ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। পরে তল্লাশি করে আরও ২৮টি বার উদ্ধার করা হয়েছে। বারগুলোর মোট ওজন ৮ কেজি ৮১৬ গ্রাম। আকাশ প্রদীপ ফ্লাইটের ৩২ ৩৩, ৩৪,৩৫ ও ১৭ নম্বর সিটের নিচে পাইপের ভিতর স্বর্ণবারগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। অভিযানকালে পাইপের ‘স্ক্র ‘ খুলে স্বর্ণবার গুলো জব্দ করা হয়।
এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন শিমুল জানান, বিমানবন্দর এপিবিএনের কাছে গোপন তথ্য এসেছিল স্বর্ণ চোরাচালানের।পরে এপিবিএন ও ঢাকা কাস্টমস হাউজের সমন্বিত অভিযানে স্বর্ণগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।



