• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

খাশিয়াদের হাতে ধরা পড়ল সিলেটের রায়হানের খুনী


প্রকাশিত: ১২:৫৭ এএম, ১০ নভেম্বর ২০ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৩০ বার

সিলেট প্রতিনিধি : খাশিয়াদের হাতে ধরা পড়ে সিলেটের রায়হানের খুনী এস আই আকবর। সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের বহিষ্কৃত উপ-পরিদর্শক আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রায়হানের মৃত্যুর একমাসের মাথায় সোমবার দুপুরে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) লুৎফর রহমান। এসআই আকবরকে সিলেটে আনা হচ্ছে।

সিলেট বন্দর বাজারের পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর প্রধান আসামি এসআই আকবর ভারতের মেঘালয় রাজ্যে পালিয়ে গেছেন বলে এর আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছিল। তবে আজ দুপুরে ভারতে পালানোর সময় সীমান্ত এলাকায় চিনে ফেলে খাশিয়ারা। এরপর খাশিয়াদের সহযোগিতায় আকবরকে গ্রেপ্তার করে সিলেট জেলা পুলিশ।পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর পর মানববন্ধন মিছিলে আন্দোলনে উত্তাল হয় পুরো সিলেট। আকবরকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন স্বররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত ১০ অক্টোবর শনিবার মধ্যরাতে রায়হানকে নগরীর কাষ্টঘর থেকে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।

শুরুর দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. আজাহার আলী শেখের তত্ত্বাবধানে মহানগর পুলিশের তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এর পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর পলাতক ছিলেন। তাকে পালানোতে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ২১ অক্টোবর ফাঁড়ির আরেক এসআই হাসানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে পিবআই এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন উর রশিদকে দুই দফায় আটদিন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহীকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তবে তারা কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হননি। এছাড়া রায়হানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী সাইদুর শেখ নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

আমি একা মারিনি-

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে ‘নির্যাতনে’ রায়হান আহমদ নিহতের প্রায় এক মাস পর এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত বহিষ্কৃত এসআই আকবর হোসেন কানাইঘাটের ডনা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে ওই ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ আকবর হোসেন স্থানীয় লোকজনের হাতে ধরা পড়েন। স্থানীয় লোকজনের হাতে ধরা পরার সময়ে তার একটি ভিডিও করা হয়। ভিডিওতে আকবর কান্নার সুরে বলছিলেন রায়হানের মৃত্যুর পর তাকে একজন সিনিয়র অফিসার পালিয়ে যেতে বলেছিলেন। তাই তিনি পালিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায় অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় লোকজন। ভাইরাল হওয়ায় ভিডিওতে আকবর’কে বলতে শোনা যায়, আমি একা মারিনি। পাঁচ ছয়জন মারছিল। এজন্যে মরে গেছে। তুমি কেন পালিয়ে গেলে স্থানীয়দের এমন প্রশ্নের জবাবে বহিস্কৃত এসআই আকবর ভুঁইয়া বলেন, সাসপেন্ড করছে এরেস্ট হতে পারি। আরও বলেন, আমাকে সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছিল, তুমি পালিয়ে চলে যাও, কয়েক মাস পরে আইসো। দুই মাস পরে সব ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে আবার সব হ্যান্ডেল করা যাবে। তবে কারা এমনটি বলেছিলেন বা কার নির্দেশে তিনি পালিয়ে যান এ সম্পর্কে কিছু বলেননি। এসময় ভিডিওতে দেখা যায় আকবরের হাত পা বাঁধতে বাঁধতে যুবকরা বলছেন- মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য সে মানুষকে মেরে ফেলেছে।  ওই যুবগুলো বাংলায় কথা বললেও তাদের কণ্ঠস্বর ছিলো অবাঙালিদের মতো। ভিডিও দেখে কানাইঘাটের স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, ভিডিও’র যুবকদের কথাবার্তা ও এলাকার দেখে বুঝা গেছে তারা ভারতের খাসিয়া আদিবাসী হতে পারেন। এদিকে সিলেটের এএসপি আব্দুল করিম জানিয়েছেন, ভারতে পালানোর সময় কানাইঘাটের লক্ষ্মীপ্রসাদ সীমান্ত এলাকা থেকে আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিকেল ৫টায় তাকে নিয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এরআগে অবশ্য গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছিলো আকবর ভারতের মেঘালয় রাজ্যে পালিয়ে গেছেন।