• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

খাবার নাই হজক্যাম্পে বিদ্রোহ কোয়ারেন্টাইনদের


প্রকাশিত: ৫:৫৯ পিএম, ১৪ মার্চ ২০ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৯২ বার

বিমানবন্দর প্রতিনিধি : খাবার নাই এবার কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বিদ্রোহ প্রদর্শন করল ইতালি থেকে দেশে ফেরত আসা ১৪২ জন। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ইতালি থেকে দেশে ফেরত আসা ১৪২ জনের সবাইকে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।  এর কিছু পরপরই তুমুল হট্টগোল শুরু হয় আশকোনার হজ ক্যাম্পে।

কোয়ারেন্টাইনে রাখা ১৪২ জনই বিদ্রোহ শুরু করে গোলমাল করতে করতে চলে আসেন হজ ক্যাম্পের গেটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।এর আগে, সকালে ইতালি থেকে দেশে ফেরেন এই ১৪২ জন বাংলাদেশি। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারা। পরে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।

আশকোনা হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে থাকা ইতালিফেরত লোকজন বিক্ষোভ করছেন। আর বাইরে তাঁদের স্বজনেরাও বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। বিক্ষোভস্থলে পুলিশের সঙ্গে ইতালিফেরত লোকজন ও তাঁদের স্বজনদের কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।আজ শনিবার বেলা দুইটা থেকে ইতালিফেরত বাংলাদেশি ও তাঁদের অভিভাবকেরা এই বিক্ষোভ শুরু করেন। হজ ক্যাম্প থেকে ইতালিফেরত লোকজন একপর্যায়ে বেরিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেন।

তাঁরা অভিযোগ করেন, হজ ক্যাম্পে আনার পর তাঁদের নিয়ে কর্তৃপক্ষ কী করতে চায়, তা বলছে না। শুধু পানি ছাড়া তাঁরা কোনো খাবার পাচ্ছেন না। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, তাঁরা বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকতে চান।ইতালিফেরত এক ব্যক্তি গেটে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের রোমে পরীক্ষা করা হয়েছে, দুবাইয়ে আরেক দফায় পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে করোনাভাইরাসের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে আসার পর এখন এখানে রাখা হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়নি। তিনি বলেন, এখানে তাঁরা অমানবিক অবস্থার মধ্যে আছেন। শিশুরা আছে। কিন্তু কোনো খাবার পাওয়া যাচ্ছে না।

ইতালি যেন এক মৃত্যুপুরী। যেখানে ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আড়াই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনা ভাইরাসে। এমন বাস্তবতায় ১৪২ জন বাংলাদেশি নিয়ে সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরন করে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। সেখানেই ৪টি থারমাল স্ক্যানারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও হেলথ কার্ড পূরণ করে ইমিগ্রেশন পার হন বিদেশ থেকে আসা যাত্রীরা।এরপর, সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় বিআরটিসি ও বাংলাদেশ পুলিশের ৪ টি বাসে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় আশকোনা হজক্যাম্পে। শরীরে করোনার উপসর্গ নির্ণয়ে চলছে কয়েক ধাপে পরীক্ষা নিরীক্ষা।