• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ক্ষমতায় যেতে মোচ পাকাচ্ছে এবি পার্টি


প্রকাশিত: ৯:৩৭ পিএম, ১২ আগস্ট ২১ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২২০ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : এবার ক্ষমতায় যেতে মোচ পাকাচ্ছে এবি পার্টি বা কথিত আমলাদের পার্টি। তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই দল পাকাচ্ছে বলে জানিয়েছে। এদিকে এবির নেপথ্যে কে বা কারা তা নিয়ে সরকার নজরদারি শুরু করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দল ও সংস্থার ৩০ জন নেতাকর্মী এবি পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। দলটির লক্ষ্য ও কর্মসূচির সঙ্গে একমত পোষণ করে ১১ আগস্ট বুধবার ফুলের তোড়া দিয়ে এবি পার্টিতে যোগ দেন তারা। সূত্র জানায়, এবি পার্টি সেন্ট্রাল জোনের উদ্যোগে এক যোগদান সভা অনুষ্ঠিত হয়। জোনের সমন্বয়ক বিএম নাজমুল হকের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সমন্বয়ক আনোয়ার সাদাত টুটুলের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম এবং সহকারী সদস্য সচিব ব্যারিস্টার সানি আবদুল হক, আবদুল্লাহ আল মামুন রানা ও শাহ আবদুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্রনেতা আমিরুল ইসলাম নুর, জাহাঙ্গীর আলম, শামসুল আলম, তাজুল ইসলাম মুকুল, শহিদুল ইসলাম, উজ্জ্বল হোসেন ও সাংবাদিক মাহমুদা আক্তার আসমার নেতৃত্বে ৩০ জন যোগ দেন।

কে এই সোলায়মান চৌধুরী-

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলীয় কোন্দলের কারনে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করেন সাবেক সচিব এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী। পরে তিনি জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। সোলায়মান চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর নীতি নির্ধারনী ফোরাম কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি জামায়াতের পেশাজীবীদের সংগঠন জাতীয় পেশাজীবী ফোরামের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। দলটির পদত্যাগপত্রে জামায়াতে ইসলামীর সব সাংগঠনিক পদ ও দায়দায়িত্ব থেকেও পদত্যাগের কথা উল্লেখ করেন সোলায়মান চৌধুরী।

দলীয় সূত্র বলছে গেছে, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ছেড়ে সোলায়মান চৌধুরী বিশাল কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন । ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি জন আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সুধী সমাবেশে অংশ নেন ।বিগত জাতীয় নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের ভরাডুবির পর জামায়াতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের বিশাল একটি অংশ দলটি বিলুপ্তির পক্ষে মত দেন। এ অংশটির অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী। জামায়াত বিলুপ্তির পক্ষে অবস্খান নেওয়া দলীয় নেতাদের অভিযোগ ছিল দলটির মূল নেতৃত্ব এখনো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসাবে বাংলাদেশে রাজনীতি করছে। ইসলামিক রাজনৈতিক দল হিসাবে জামায়াতে ইসলামের নৈতিক কোন ভিত্তি কখনো নেই ও ছিল না ।

সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসাবে এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী ফেনীতে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বিগত জামায়াত বিএনপি জোট সরকার আমলে। জেলা প্রশাসক থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক আলোচিত হন তিনি। পরে পুরস্কার হিসাবে সংস্থাপনসচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হন।

যাহোক-
যোগদানকৃতদের স্বাগত জানিয়ে সোলায়মান চৌধুরী বলেন, আজ দেশের মানুষের অধিকার নাই। সাধারণ মানুষ নিজেরাও তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। আমরা বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, নবাগত সবাইকে এবি পার্টিতে স্বাগত জানাই। কিন্তু মনে রাখতে হবে আমরা এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। শত রকমের মন্তব্য বক্তব্য আমাদের সইতে হবে। সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব। আমরা শুধু নবাগতদের একটাই আশাবাদ শোনাতে চাই, তা হলো আমরা দল গঠন করেছি রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। আপনারা আস্থা রাখেন, ক্ষমতায় গিয়ে রাষ্ট্রকে কল্যাণকর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ।
সভাপতির বক্তব্যে বিএম নাজমুল হক বলেন, আমার বাংলাদেশ পার্টি ঢাকার সব প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে আপনাদের প্রচেষ্টায়। আপনাদেরকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রাম চলবে এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আগ পর্যন্ত।

নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে আরও বক্তব্য দেন- সহকারী সদস্য সচিব ব্যারিস্টার সানি আবদুল হক, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, শাহ আবদুর রহমান, সেন্ট্রাল জোনের সংগঠক আবদুল হালিম নান্নু, বিশারত আলী, গাজী নাসির, মিনহাজুল আবেদীন শরীফ, নুসরাত তামান্না ফারুকী ও সুলতানা রাজিয়া। নবাগতদের মধ্যে বক্তব্য দেন- সাবেক ছাত্রনেতা আমিরুল ইসলাম নুর, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, যুবদল নেতা উজ্জ্বল হোসেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহমুদা আক্তার আসমা, জাহাঙ্গীর আলম, শামসুল আলম, তাজুল ইসলাম মুকুল, বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।