• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ক্যাসিনোবাজির টাকার ভাগে ১২ প্রভাবশালী


প্রকাশিত: ৭:৫৮ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৯৭ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানী ঢাকায় ক্যাসিনোবাজির টাকার ভাগে পেতেন ১২ প্রভাবশালী নেতা। টাকা পেতেল নেতাদের স্ত্রীসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও। এদের আমলনামা এখন গোয়েন্দাদের হাতে। শিগগির এদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে। এদের অনেক কে দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জানা গেছে প্রভাবশালী কোন কোন নেতা ক্যাসিনোবাজির টাকার ভাগ পেতেন তাদের নামের তালিকা পেয়েছে গোয়েন্দারা। নেপথ্য গডফাদার হিসেবে ক্যাসিনোকে যারা এগিয়ে নিয়েছেন, সেই সব প্রভাবশালীদের তালিকাও এখন তাদের হাতে। যাচাই-বাছাইয়ের পর শিগগিরই এই তালিকা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে শাসক দলের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ ১২ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে।

এ ছাড়া রিমান্ডে থাকা যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব স্থগিত (অবরুদ্ধ) করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শামীমের ব্যাংক হিসাবে ৩০০ কোটি টাকা আছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গত রবিবার সকালে জি কে শামীমের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য বড় অঙ্কের কয়েকটি চেক ব্যাংকে জমা পড়ে। এরপর ব্যাংকগুলো থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ করে পরামর্শ চাওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ওইদিন দুপুরের মধ্যেই নির্দেশনা জারি করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোয়েন্দাদের জেরার মুখে টেন্ডার কিং জি কে শামীম এবং ক্যাসিনো রাজা খালেদ টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তারা বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের নাম বলেছেন। যাদের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের। এ ছাড়া কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ ওরফে কালা ফিরোজও মুখ খুলতে শুরু করেছে। আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন কালা ফিরোজের কাছ থেকে গোয়েন্দারা ক্যাসিনো চালানো এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। সূত্র জানায়, পুলিশের তদন্ত বাদেও এই তিন মাফিয়ার বিরুদ্ধে এনবিআর তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। ওই দুই যুবলীগ নেতা গ্রেফতারের পর তাদের সম্পদের তথ্য নিতে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

গত রবিবার এনবিআরের অনুরোধে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে যুবলীগ নেতা খালেদ ও জি কে শামীমসহ তাদের আত্মীয়স্বজনের নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (স্থগিত) করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল জিকে শামীমের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য চেক জমা পড়ে। তবে এসব চেকে কোনো টাকা দেয়নি ব্যাংকগুলো। সূত্র জানায়, এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ ১২ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে।

ব্যাংক হিসাব তলবের তালিকায় অন্যরা হলেন- নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী, প্রশান্ত কুমার হালদার, আফসার উদ্দীন মাস্টার, আয়েশা আক্তার, শামীমা সুলতানা, শেখ মাহামুদ জোনাইদ, মো. জহুর আলম, এস এম আজমল হোসেন, ব্রজ গোপাল সরকার ও শরফুল আওয়াল।দেশে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির টাকা ছাড়াও ক্যাসিনোর টাকার ভাগ যেত বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের কাছে। সে টাকা পাঠানো হতো ওমানের মাসকট ব্যাংকের মাধ্যমে। ওমানে থাকা আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী নাদিম সেখান থেকে টাকা তুলে জার্মানিতে থাকা জিসানের কাছে পৌঁছিয়ে দিত। ঢাকা থেকে এই আয়োজন করে দিতেন ইসমাইল হোসেন সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি কে শামীম গং।

সূত্র জানায়, জি কে বিল্ডার্স নামের একটি কোম্পানি বর্তমানে শামীমের নামে থাকলেও তা একসময় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অংশীদারিত্ব ছিল। জিসান দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর কোম্পানিটির হাল ধরেন অপর সন্ত্রাসী নাদিম ওরফে টিএনটি নাদিম। এরপর নাদিমও দেশ ছাড়া হলে তা জি কে শামীমের হাতে চলে আসে। এই জিসান, নাদিম ও শামীম তিনজনই বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় যুবদলের রাজনীতি করতেন।