কাল সূর্যগ্রহণ-বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যতবাণী করোনা যাবে?

লাবণ্য চৌধুরী : কাল ২১ জুন সূর্যগ্রহণ; বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যতবাণী কি কাল ফলবে ? করোনা মহামারী কি দূর হবে? কারণ, কাল প্রথম বলয় গ্রাস সূর্যগ্রহণ। এ সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে পারমাণবিক ও ভূ-বিজ্ঞানী ড. কেএল সুন্দর কৃষ্ণা ইতিপূর্বে জানিয়েছিলেন, ‘করোনা যাবে ২১ জুন সূর্যগ্রহণে’-করোনা ভাইরাসের সঙ্গে সূর্যগ্রহণের যোগসূত্র রয়েছে। অথচ কাল বাংলাদেশ থেকে পূর্ণগ্রহণ দেখা না গেলেও বিশ্বের বহুদেশ থেকে ‘রিং অব ফায়ার’ দেখা যাবে। ভারতের বিখ্যাত পারমাণবিক ও ভূ-বিজ্ঞানী ড. কেএল সুন্দর কৃষ্ণার মতে, ‘করোনা যাবে ২১ জুন সূর্যগ্রহণে’-করোনা ভাইরাসের সঙ্গে সূর্যগ্রহণের যোগসূত্র রয়েছে। এই জীবাণুর উৎপত্তি কোনো রাসায়নিক ঘটনা নয়, বরং মহাজাগতিক ঘটনার ফলাফল এই মহামারি। মহাকাশ থেকেই এসেছে এই মারণ ভাইরাস। কিভাবে ঘটল এমন ঘটনা?
বিজ্ঞানীর মতে, বিশ্বজুড়ে মহাপ্রলয় সৃষ্টি করেছে করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে মরণঘাতী এই ভাইরাসের ছোবলে প্রাণ গেছে ৪ লাখ ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষের। আক্রান্ত প্রায় ৮০ লাখ। এখনো কোন কার্যকর ওষুধ কিংবা প্রতিষেধক নেই। বিশ্বের বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী ও ভাইরোলজিস্টরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিভাবে এলো এই মারণ ভাইরাস? কেউ বলেছেন, রাসায়নিক গবেষণাগারে তৈরি হয়েছে করোনা জৈব মারণাস্ত্র।
আবার অন্যপক্ষ দাবি করেছেন, প্রকৃতি থেকে স্বাভাবিকভাবেই এই মারণ ভাইরাসের জন্ম হয়েছে।দুপক্ষের দড়ি টানাটানির মাঝে এবার চাঞ্চল্যকর দাবি করে বসলেন ভারতের চেন্নাইয়ের এক বিজ্ঞানী। বললেন, কোনো গবেষণাগার বা পরিবেশ নয়, কভিড-১৯ এর জন্ম রহস্যের সঙ্গে সূর্যগ্রহণের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর এমন দাবিতে নড়েচড়ে বসেছে বিজ্ঞানী মহল। কবে এই ভাইরাসের দাপট শেষ হবে, তা নিয়েও আভাস দিয়েছেন এই বিজ্ঞানী।
পারমাণবিক ও ভূ-বিজ্ঞানী ড. কেএল সুন্দর কৃষ্ণা চেন্নাইয়ের বাসিন্দা। তার দাবি, করোনা ভাইরাসের সঙ্গে সূর্যগ্রহণের যোগসূত্র রয়েছে। এই জীবাণুর উৎপত্তি কোনো রাসায়নিক ঘটনা নয়, বরং মহাজাগতিক ঘটনার ফলাফল এই মহামারি। মহাকাশ থেকেই এসেছে এই মারণ ভাইরাস।কিভাবে ঘটল এমন ঘটনা? গত বছর ডিসেম্বরে শেষের দিকে চীনের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণের খবর মেলে। বিজ্ঞানী কৃষ্ণার দাবি, ২৬ ডিসেম্বর ছিল সূর্যগ্রহণ। তারপর থেকেই এমন একটা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। হিন্দুস্থান টাইমসের কাছে সম্প্রতি, ড. কেএল সুন্দর কৃষ্ণা দাবি করেছেন, সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্তরে রাসায়নিক বদল হয়েছিল। আর তার থেকেই এই ভাইরাসের জন্ম। আবার পরবর্তী সূর্যগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই পৃথিবী থেকে এই করোনাভাইরাস বিলীন হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন ওই বিজ্ঞানী। তাঁর কথায়, আগামী ২১ জুন একই সঙ্গে সূর্যের বলয়গ্রাস ও পূর্ণগ্রাস গ্রহণ হবে। সেদিনই এই জীবাণুর দাপট শেষ হবে।
ড. কৃষ্ণা নিজের তত্ত্ব দিয়ে এর ব্যাখা করেছেন। তার কথায়, সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তড়িতাহত কণাদের মধ্যে একটা বড়সড় রাসায়নিক বদল হয়েছিল। এমন এক বায়ো-নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকশন যার কারণে নিউট্রনের বদল শুরু হয়। এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয় যাতে করোনাভাইরাসের নিউক্লিয়াস তৈরি হয়। এই বায়ো-নিউক্লিয়ার ইন্টার্যাকশনই ভাইরাস তৈরির অন্যতম কারণ। এই স্তরটিকে বলা হয় ‘ডি-লেভেল’। যাহোক, আবহাওয়াবিদ উমর ফারুক জানান, আকাশ পরিষ্কার থাকলে ঢাকাসহ সবগুলো বিভাগীয় শহর থেকেই এই গ্রহণ দেখা যাবে। তবে মৌসুমি বায়ুর কারণে আকাশে এখন অনেক সঞ্চরণশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। এই কারণে অনেক অঞ্চলের আকাশ মেঘে ঢাকা থাকার আশঙ্কাও আছে।
এদিকে সূর্যগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে জ্যোতির্বিদ এফ আর সরকার জাতিরকন্ঠ কে জানান, সূর্যগ্রহণ শুরু হবে আফ্রিকার কঙ্গো থেকে। এরপর সুদান, ইথিওপিয়া, ইয়েমেন, ওমান, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, তিব্বত ও চীন—এই কয়েকটি দেশের ওপর দিয়ে যাবে। এসব দেশগুলোর মধ্যে সূর্যের আলো পড়া ৮০ মাইল জায়গা জুড়ে বলয় দেখা যাবে। সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যাবে না। চারদিক দিয়ে আলো দেখা যাবে। রিংয়ের মতো দেখা যাবে। এটাকে বলা হয় ‘রিং অব ফায়ার’। যদি সূর্য পুরো ঢেকে যেতো তাহলে সেটি হতো পূর্ণ গ্রহণ। এবার পূর্ণ হবে না।
তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে এই ‘রিং অব ফায়ার’ দেখা যাবে না। তবে আংশিক দেখা যাবে। ভারতের উত্তরদিকে রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড হয়ে তিব্বতের ওপর দিয়ে চলে যাবে। ওই ৮০ মাইলের পরে যারা আছে প্রায় ২০০/৩০০ মাইল এলাকায় রিং পুরো দেখা যাবে না। রিংয়ের অর্ধেক দেখা যাবে। আমরা ঢাকা থেকে পুরো দেখতে পাবো না। আংশিক দেখতে পাবো। সূর্য ৭৩ ভাগ ঢেকে যাবে। আবার ঢাকা থেকে উত্তর দিকে গেলে অর্থাৎ তেতুলিয়া থেকে ৮৫ ভাগ আবার চট্টগ্রামের দিকে গেলে ৬৫ ভাগের মতো গ্রহণ দেখা যাবে। এই জ্যোতির্বিদ বলেন, এই গ্রহণ খালি চোখে না দেখাই ভাল। ওয়েল্ডিং গ্লাস অথবা পুরানো এক্সরে দিয়ে দেখা যাবে। গামলায় পানি দিয়ে সেই পানিতেও বাসাবাড়ি থেকে গ্রহণ দেখার সুযোগ আছে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় সোলার ফিল্টার লাগানো চশমা। তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে আরও একটি সূর্যগ্রহণ আছে। তবে সেটি দেখা যাবে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে।প্রসঙ্গত, চলতি বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ এটি। এর আগে গতবছরের ডিসেম্বরে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে আগামীকাল সকাল ৯টা ৪৬ মিনিটে। প্রথম দেখা যাবে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ইম্পফোন্ডো শহরে। এরপর সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে কেন্দ্রীয় গ্রহণ শুরু হবে। সেটি দেখা যাবে কঙ্গোর বোমা শহর থেকে। সর্বোচ্চ গ্রহণ দেখা যাবে ভারতের যোশীমঠ শহর থেকে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ শেষ হওয়া দেখা যাবে ফিলিপাইনের সামার শহর থেকে দুপুর ২টা ৩১ মিনিটে আর গ্রহণ শেষ হবে ফিলিপাইনের মিন্দানাও শহরে বেলা ৩টায় ৩৪ মিনিটে। আবহাওয়া অফিস জানায়, ঢাকায় এই গ্রহণ দেখা যাবে বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে, পূর্ণ গ্রহণ দেখা যাবে ১টা ১২ মিনিটে, শেষ হবে ২টা ১৪ মিনিটে। প্রায় একই সময়ে দেশের অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে এই গ্রহণ দেখা যাবে। তবে মিনিটের হিসেবে কিছুটা কম বেশি হবে।



